সোমবার, এপ্রিল ২৪, ২০১৭
bodrum escort escort bodrum
UCC-LOGO1

যুদ্ধাপরাধী পরিবারের সদস্য আ.লীগ সমর্থিত নীল দলের প্রার্থী! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিন নির্বাচন

ঢাবি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নীল দল থেকে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন ‘যুদ্ধাপরাধী পরিবারের’ সদস্য এক শিক্ষক। অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম নামের ওই শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে আওয়ামী সমর্থিত শিক্ষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ডিন প্রার্থী মনোনয়নের জন্য ডাকা নীল দলের ‘গ্রুপ মিটিং’-এ বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকরা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তবুও ওই শিক্ষককেই নীল দল থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।
নীল দল সূত্র জানায়, ৭ জানুয়ারি প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে বৈঠক ডাকে নীল দল। সেই বৈঠকে রফিকুল ইসলামকে অনুষদটির ডিন হিসেবে প্রস্তাব করলে তা নিয়ে আপত্তি তোলেন নীল দলের বেশির ভাগ শিক্ষক। তারা বিষয়টিকে নীল দলের আদর্শের পরিপন্থী উল্লেখ করে প্রকাশ্যে এর প্রতিবাদ জানান। শিক্ষকদের তোপের মুখে বৈঠকে প্রার্থীর নাম পুনর্বিবেচনার জন্য দলটির অনুষদের আহ্বায়ক কমিটিকে দায়িত্ব দেয় নীল দলের কেন্দ্রীয় কমিটি।
এ অবস্থায় ৮ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় অনুষদের আহ্বায়ক কমিটি একটি জরুরি বৈঠক আহ্বান করে। সেদিনই প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল। বৈঠক সূত্র জানায়, আহ্বায়ক কমিটির বেশির ভাগ সদস্য এ সময় প্রার্থী পরিবর্তনের জোর দাবি তোলেন। এ বিষয়ে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের নীল দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. জেডএম পারভেজ সাজ্জাদ যুগান্তরকে বলেন, অনুষদের নীল দলের আহ্বায়ক কমিটির সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে ওই শিক্ষককে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। যেহেতু তিনি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত পরিবারের সদস্য এমন অভিযোগ এসেছে, তাই নীল দলের শিক্ষকরা তাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পদটিতে মনোনয়ন দেয়ার বিরোধিতা করেছিলেন।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নীল দলের প্রভাবশালী এক কেন্দ্রীয় নেতা যুগান্তরকে বলেন, ‘হাউসে বেশির ভাগ শিক্ষকই এ সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ছিল। তবুও এককভাবে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে তিনি নীল দলে সক্রিয় হন। এর আগে তাকে নীল দলের কোনো প্রোগ্রামে দেখা যায়নি।’ কার একক সিদ্ধান্তে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে- এমন প্রশ্ন করলে ওই শিক্ষক বলেন, ‘প্লিজ, এ বিষয়ে আমাকে আর প্রশ্ন করবেন না। বোঝেন তো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতি।’
নীল দলের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. নাজমা শাহিনকে ফোন করা হলে তিনি এ প্রতিবেদকের পরিচয় জানতে চান। সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘একটি মিটিংয়ে আছি’ বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। নীল দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক আলী আক্কাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত সেনসেটিভ’। এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অপর যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যপাক ড. শেখ শামীমুল আলমকে ফোন করা হলে তিনি শুরুতে কথা বলেন। ডিন মনোনয়ন নিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে নেটওয়ার্ক সমস্যা দেখিয়ে কয়েকবার ‘হ্যালো, হ্যালো’ করে ফোনটি কেটে দেন। এরপর একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের ভাই রেজাউল করিম রিজুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ২০০০ সালের ১১ এপ্রিল দৈনিক জনকণ্ঠে ‘মাগুরায় নৃশংসতার হোতা রেজাউল করিম রিজু এখন চবির শিক্ষক’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে ২০০১ সালের এপ্রিলে তাকে (রিজু) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। এ নিয়ে সেই বছরের ১৮ এপ্রিল জনকণ্ঠে খবর প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ’৭১ সালে রিজু জামায়াতের তৎকালীন ছাত্র সংগঠন ছাত্রসংঘের মাগুরা জেলার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি মাগুরা জেলার রাজাকার কমান্ডার হন। পরে দেশ স্বাধীন হলে তিনি পালিয়ে চট্টগ্রাম চলে যান। তারপর আর মাগুরায় ফিরতে পারেননি। এমনকি মৃত্যুর পর তার লাশ মাগুরায় দাফন করতে দেয়নি সাধারণ মানুষ। ফেনীর শ্বশুরবাড়িতে তার লাশ দাফন করা হয়েছিল। আগামী ১৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০টি অনুষদে ডিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে আওয়ামী সমর্থিত নীল দল এবং বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত সাদা দল তাদের প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে। এ বছর সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, আইন অনুষদ এবং আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদে কোনো প্রার্থী দেয়নি সাদা দল। অন্যদিকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদসহ কয়েকটি অনুষদে প্রার্থী দিয়েছে বাম সমর্থিত গোলাপি দল।
ডিন মনোনয়ন পেলেন যারা : কলা অনুষদের নীল দল থেকে ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন, সাদা দল থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, গোলাপি দলের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. একেএম সালাহ উদ্দিন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে নীল দল থেকে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, গোলাপি দলের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নেহাল করিম, এই অনুষদে সাদা দলের প্রার্থী নেই; ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে নীল দলের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম, সাদা দলের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী, বিজ্ঞান অনুষদে নীল দলে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আজিজ, সাদা দলের পরিসংখ্যান, প্রাণ পরিসংখ্যান ও তথ্য পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদে নীল দলের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, সাদা দলের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাসানুজ্জামান; ফার্মেসি অনুষদে নীল দলের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এসএম আবদুর রহমান, সাদা দলের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সেলিম রেজা, জীববিজ্ঞান অনুষদে নীল দলের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ড. মো. ইমদাদুল হক, সাদা দলের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ড. লায়লা নূর ইসলাম; চারুকলা অনুষদে নীল দলের অংকন ও চিত্রায়ণ বিভাগের অধ্যাপক নিসার হোসেন, সাদা দলের ভাস্কর্য বিভাগের অধ্যাপক এএএম মো. কাওসার হাসান, আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদে নীল দলের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল এবং আইন অনুষদে নীল দলের অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ। এর মধ্যে আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল ও আইন অনুষদের অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। অধ্যাপক মাকসুদ কামাল গতবারের নির্বাচনেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ডিন হয়েছেন। এ নিয়ে তৃতীয়বারের জন্য ডিন নির্বাচিত হলেন তিনি। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি, সিন্ডিকেট সদস্য, সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ, বিভাগের চেয়ারম্যানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।—–যুগান্তর

এমএসএল