রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর ৩ সুপারিশ


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-09-24 23:26:18 BdST | Updated: 2018-10-16 21:39:12 BdST

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্বনেতাদের কাছে তিন দফা সুপারিশ তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে শরণার্থী সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এ সব সুপারিশ উত্থাপন করেন তিনি।

জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশানার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডির সভাপতিত্বে বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুপারিশগুলো হচ্ছে-

১. মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আইন ও নীতি বাতিল এবং বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ করতে হবে। এছাড়া রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক স্থানান্তরিত করার প্রকৃত কারণগুলো খুঁজে বের করতে হবে।

২. মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের নাগরিক সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করে একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে একটি ‘সেইফ জোন (নিরাপদ অঞ্চল)’ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

৩. জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের সুপারিশের আলোকে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নৃশংসতার হাত থেকে বাঁচাতে হবে।

তিন দফা প্রস্তাব তুলে ধরার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গাদের জোর করে বিতাড়িত করা হয়েছে। একটি দায়িত্বশীল সরকার হিসাবে আমরা আমাদের সীমানা খুলে দিয়েছি এবং জোরপূর্বক স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। আমরা কেবল তাদের জীবনই বাঁচাইনি, আমরা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেছি।’

মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হলেও বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে নানাবিধ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারের আরাকানের এই বিপুল সংখ্যক নাগরিকদের স্থান দেওয়ার ফলে আমাদের সমাজ, অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর প্রভাব পড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভূমির স্বল্পতা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পরিবেশের ওপর প্রভাবের কারণে আমরা ভাসান চর নামে একটি নতুন দ্বীপে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরিত করতে যাচ্ছি। সেখানে তাদের ভালো জীবনযাত্রা নিশ্চিত হবে।’

রোহিঙ্গাদের সাহায্যে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর এগিয়ে আসার প্রশংসাও করেন প্রধানমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বিশ্ব নেতাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বকে অবশ্যই ভুলে গেলে চলবে না যে, প্রত্যেক উদ্বাস্তু তার নিজের দেশে নিরাপদে ফেরত চায়। মিয়ানমার থেকে উৎখাত হওয়া মানুষগুলোকে নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে তাদের ঘরে ফিরে যেতে হবে।’

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।