ঢাবির সমাবর্তন থেকেই মাতৃভাষা বাংলার দাবি জোড়ালো হয়েছিল


ঢাবি টাইমস
Published: 2018-10-08 18:37:48 BdST | Updated: 2018-10-17 03:53:26 BdST

পাকিস্তান আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ।১৯৪৮ সালের মার্চে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আন্দোলন যখন চলছে, পূর্ববঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তখন খাজা নাজিমুদ্দীন। গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় আসবেন ১৯ মার্চ। মুখ্যমন্ত্রীর ভয় ছিল, ওই সময় গভর্নর জেনারেল ছাত্রদের বিক্ষোভের মুখে পড়লে তাঁর রাজনৈতিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই সংগ্রাম পরিষদের কাছে ৮-দফা শান্তি প্রস্তাব দেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রীর শান্তি প্রস্তাব সাগ্রহে মেনে নেয় দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। এ বিষয়ে তমদ্দুন মজলিস-প্রধান অধ্যাপক আবুল কাসেমের ছিল প্রকাশ্য উৎসাহ। তবে সংগ্রাম পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ তোয়াহা এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেছিলেন, এ পর্যায়ে আন্দোলন স্থগিত করা হলে তা আর সহজে শুরু করা যাবে না। তাঁকে সমর্থন জানান আরেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা তাজউদ্দীন আহমদ। সাধারণ ছাত্ররাও আন্দোলন স্থগিতের বিরুদ্ধে। তবু সংগ্রাম পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতেরই জয় হয়। ১৫ মার্চ থেকে আন্দোলন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ঢাকায় এসে জিন্নাহ সাহেব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কে কী মতামত প্রকাশ করবেন, সে সম্পর্কে কারও স্পষ্ট ধারণা না থাকলেও প্রগতিশীল ছাত্র ও রাজনৈতিক মহলে কিছুটা আশঙ্কা ছিল। বাস্তবে সে আশঙ্কাই সত্যে পরিণত হয়।

একনায়কী স্বভাবের জিন্নাহ ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানের নাগরিক সংবর্ধনা সভায় এবং ২৪ মার্চ কার্জন হলে বিশেষ সমাবর্তনের ছাত্রসভায় বেশ জোরালো ভাষায় বলেন, পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু। যারা এর বিরোধিতা করে, তারা পাকিস্তানের দুশমন। তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে।

কার্জন হলে উপস্থিত কিছুসংখ্যক ছাত্র তখনই ‘নো-নো’ বলে প্রতিবাদ করে ওঠেন। কিন্তু তাতে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধান বিন্দুমাত্র বিচলিত হননি। একটু থেমে তিনি তাঁর রাজনৈতিক বক্তৃতা ঠিকই চালিয়ে যান উর্দুভাষিক পাকিস্তান রাষ্ট্রের পক্ষে এবং সব রকম প্রগতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক চেতনার বিপক্ষে। গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর বিন্দুমাত্র আস্থা ছিল না।

 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।