আত্মহত্যার প্ররোচণায় শাস্তি কী?


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-12-05 22:10:05 BdST | Updated: 2018-12-12 03:31:14 BdST

সম্প্রতি ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার পেছনে কারো ভূমিকা আছে কিনা তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ আছে, স্কুল কর্তৃপক্ষের খারাপ ব্যবহার এবং তার বাবা-মাকে অপমানের কারণেই অরিত্রী আত্মহত্যা করেছেন। এই আত্মহত্যার প্ররোচণার জন্য কি স্কুল কর্তৃপক্ষ দায়ি হবেন? আর যদি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাহলে কেমন শাস্তির মুখোমুখি হবেন? বাংলাদেশের আইন এ বিষয়ে কী বলছে?

আত্মহত্যায় প্ররোচণা আসলে কী?

বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে আত্মহত্যায়া প্ররোচনার সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা পাওয়া যায় না। তবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) -এর ৯ক ধারায় নারীর আত্মহত্যায় প্ররোচনার শাস্তির বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনও নারীর সম্মতি ছাড়া বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনও ব্যক্তির ইচ্ছাকৃত কোনও কার্য দ্বারা সম্ভ্রমহানি হওয়ার প্রত্যক্ষ কারণে আত্মহত্যা করলে, ওই নারীকে অনুরূপ কার্য দ্বারা আত্মহত্যা করতে প্ররোচনা দেওয়া হয়েছে বলা হবে।

শাস্তির ব্যাপারে আইন কী বলে?

বাংলাদেশে প্রচলিত আইনে আত্মহত্যার প্ররোচণা দেয়ার অপরাধে শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে এমন অভিযোগ এনে দায়ের করা মামলায় শাস্তিদানের ঘটনা বিরল। আত্মহত্যার প্ররোচণায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩০৬ ধারা অনুযায়ী, ব্যক্তির আত্মহত্যায় প্ররোচণায় সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানা। তবে আত্মহত্যার চেষ্টা করেও যদি ঐ ব্যক্তি মারা না যান তবে প্ররোচণা দানকারী ঐ ব্যক্তির ১ বছরের জেল হতে পারে।

এবিষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, আত্মহত্যায় প্ররোচণার ক্ষেত্রে শাস্তি হবে তাদের যারা প্ররোচণায় দিয়েছিলেন। যতজনই প্ররোচণা দিয়ে থাকেন না কেন প্ররোচণা দানকারী সকলকেই আইনের আওতায় আসতে হবে। এক্ষেত্রে অভিযুক্ত সকলকেই তাদের রোল বা অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি প্রদান করা যেতে পারে।

কোন শিক্ষার্থীকে যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তিরস্কার করা হয় বা মানসিকভাবে হেয় করা হয় অথবা অপমান করা হয়ে থাকে তবে সে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার জন্যও দায়ী হবেন ঐ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ। সুপ্রীম কোর্টের এই আইনজীবী আরো বলেন, বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেয়া সার্কুলারে পরিস্কারভাবে উল্লেখ আছে যে কোন অবস্থাতেই শিক্ষার্থীদের মানসিক কিংবা শারীরিকভাবে নির্যাতন করা যাবে না। ঐ মর্মে উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তও রয়েছে।

এই আইনজীবী আরও বলেন, এছাড়াও বাংলাদেশে রয়েছে শিশু আইন। আঠারো বছরের নিচে যে আইনে সকলেই শিশু বলে বিবেচিত। ২০১৩ সালের আইন অনুযায়ী এই বয়সের যেকোনো ব্যক্তি অপরাধী প্রমাণিত হলেও তার প্রতি সদয় আচরণ করতে হবে। এসময় কোন অবস্থাতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কর্পোরাল পানিশমেন্ট দেয়া যাবে না।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।