মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতের গায়ে আগুন দেন জোবায়ের


ফেনী
Published: 2019-04-21 19:06:38 BdST | Updated: 2019-08-26 03:05:09 BdST

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) চট্টগ্রাম বিভাগের স্পেশাল পুলিশ সুপার মো. ইকবাল বলেন, জবানবন্দিতে জোবায়ের এ হত্যার বিষয়ে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে।

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে কেরোসিন ঢেলে ম্যাচের কাঠির মাধ্যমে আগুন ধরিয়েছিলেন সাইফুর রহমান মো. জোবায়ের। তিনি মামলার এজহারের অন্যতম আসামি।

আজ রোববার দুপুরে জোবায়ের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করে এ কথা বলেছেন। ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহম্মদের আদালতে তাকে হাজির করা হয়। বিকাল ৪টার দিকে তার এ জবানবন্দি রেকর্ড শেষ হয়।

আদালত প্রাঙ্গনে সাংবাদিকদের কাছে ব্রিফ করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) চট্টগ্রাম বিভাগের স্পেশাল পুলিশ সুপার মো. ইকবাল এই কথা জনিয়েছেন । তিনি বলেন, 'জোবায়ের ঘটনার দিন কিলিং মিশনে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিল। জবানবন্দিতে জোবায়ের এ হত্যার বিষয়ে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। কিন্তু মামলার তদন্তের স্বার্থে তা উল্লেখ করা যাবে না।'

এর আগে ১০ এপ্রিল জোবায়েরকে সোনাগাজী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১১ তারিখে একই আদালত তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ড দেয়। তিনি নুসরাতের সহপাঠী এবং সোনাগাজী পৌর শহরের আবুল বাশারের ছেলে।

মামলার অন্যতম আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে আসে জোবায়ের কথা। শামীম জানান, নুসরাতকে মেঝেতে শুইয়ে ফেলার পর জোবায়ের নুসরাতের ওড়না দুই টুকরো করে তার হাত ও পা বেঁধে ফেলেন।

এদিকে শনিবার জোবায়েরকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পিবিআই। সে সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহারিত বোরকা উদ্ধার করা হয়।

এর আগে আলোচিত এই মামলার সাত আসামি নুসরাত হত্যার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হলেন- মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, আবদুর রহিম শরীফ ও হাফেজ আবদুল কাদের, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি ও জাবেদ হোসেন।

এই মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা সাতদিনের রিমান্ডে রয়েছেন। এই পযন্ত এই মামলায় ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন- মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজউদ্দৌলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগ্নি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, যোবায়ের হোসেন, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, উন্মে সুলতানা মনি, আবদুর রহিম শরিফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।