অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোর স্টার


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2019-05-12 14:26:09 BdST | Updated: 2019-05-26 20:20:28 BdST

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। নাম শুনলেই শিক্ষার্থীদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে প্রাসাদের মতো কতগুলো দালান আর বিশাল এক ক্যাম্পাস, যেখানে বিশ্বসেরা সব মেধাবীর আনাগোনা। যে ক্যাম্পাসের সবুজ মাঠে ঘুরে বেড়িয়েছেন বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং থেকে শুরু করে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, অভিনয়শিল্পী এমা ওয়াটসনসহ আরও বহু বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তি। সেই ক্যাম্পাসে অন্তত একবার হেঁটে বেড়াতে কে না চায়?

ঠিক সেই উদ্দেশ্যেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চার শিক্ষার্থী—রিয়াসাত আজমী, মো. জাহিদ আল মামুন, মো. আজহার উদ্দিন ভূঁইয়া ও আলী মাশরাফ। লক্ষ্য—ভারতে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয় আঞ্চলিক পর্ব পার হয়ে এপ্রিলে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ প্রাইস মিডিয়া মুট প্রোগ্রামের আন্তর্জাতিক পর্বে অংশ নেওয়া। সেই সঙ্গে ছয় দিনের জন্য পুরো অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখা।

কিন্তু বাদ সাধল বিভাগের একাডেমিক ক্যালেন্ডার। আঞ্চলিক পর্বের সময়সূচির সঙ্গে মিলে গেল কয়েকজনের ফাইনাল পরীক্ষার সময়সূচি। একদিকে অক্সফোর্ড, অন্যদিকে ফাইনাল পরীক্ষা। কে জিতবে?

শেষ পর্যন্ত ফাইনাল পরীক্ষাই জয়ী হলো। তবে কি অক্সফোর্ডের স্বপ্ন শেষ? উঁহু! উপায় আরেকটা আছে।

কিন্তু সে ক্ষেত্রে খোদ অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিসহ সারা বিশ্বের বিখ্যাত সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে লড়াই করতে হবে। আর শেষ পর্যন্ত সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে বিশ্বের মাত্র ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশাল চ্যালেঞ্জটাই নিলেন দলের চার সদস্য। কাজটা কঠিন হলেও সরাসরি ইন্টারন্যাশনাল রাউন্ডে যাওয়ার প্রত্যয়ে রাতদিন পরিশ্রম করতে লাগলেন তাঁরা।

কষ্ট করলে যে কেষ্ট মেলে, এই প্রবাদের প্রমাণ পাওয়া গেল শেষে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ অনেক দেশের নামীদামি বিশ্ববিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে মেমোরিয়াল সাবমিশনের ওপর ভিত্তি করে সেই ১২টি দলের একটি হয়ে গেল বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বাকি ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যেখানে ছিল স্বয়ং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ও!

কেমন ছিল অক্সফোর্ডের অভিজ্ঞতা? এ বিষয়ে জানতে চাইলে দলের অন্যতম সদস্য রিয়াসাত আজমী বলেন, ‘এক বছরের বেশি সময় ধরে আমরা অক্সফোর্ডের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। নিজেদের ওপর আমাদের যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস থাকার কারণেই আমরা সরাসরি অংশ নিতে বিন্দুমাত্র ভয় পাইনি। শেষ দিকে স্পনসরদের সহযোগিতা না পেলে হয়তো এই সুযোগও হারাতাম।’

প্রাইস মিডিয়া মুট প্রোগ্রাম মূলত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আইনের ওপর হওয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতা ২০০৮ সাল থেকে প্রতিবছর অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজন করে থাকে।

অক্সফোর্ড আর আমাদের মধ্যে তফাত কোথায়, জানতে চাইলে দলের আরেক সদস্য মো. আজহার উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘অক্সফোর্ডে ঢুকলে প্রথমেই চোখে পড়ে আন্তর্জাতিকতা। পা রাখামাত্রই বোঝা যায় এখানে পড়ালেখাটা আক্ষরিক অর্থেই হয়। শিক্ষার্থী পর্যায়ে আমাদের এখানেও গবেষণা হয়। তবে প্রতিনিয়ত সাফল্য অর্জন করতে হলে প্রয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক বিনিয়োগ এবং সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা।’

এ বছর পৃথিবীর ৯৬টি দল থেকে ইন্টারন্যাশনাল রাউন্ডের জন্য উত্তীর্ণ হয় ৩৯টি দল, যাদের মধ্যে ২৭টি দল উত্তীর্ণ হয় সারা বিশ্বে বিভিন্ন রিজিওনাল রাউন্ডের মধ্য দিয়ে। আর বাকি ১২টি দল উত্তীর্ণ হয় সরাসরি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সদস্যরা ভবিষ্যতে অক্সফোর্ড থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান কাজে লাগিয়ে এ দেশের বাক্‌স্বাধীনতা ও গণমাধ্যম আইনের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।