আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন সৈয়দ জামিল আহমেদ


Dhaka
Published: 2019-08-30 16:40:01 BdST | Updated: 2019-11-17 12:08:22 BdST

মঞ্চ নাটকে বিশেষ অবদান রাখায় আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সৈয়দ জামিল আহমেদ। এছাড়াও এবছর এই সম্মাননা পাচ্ছেন চলচ্চিত্রে সারাহ্ বেগম কবরী এবং সঙ্গীতে সৈয়দ আব্দুল হাদী।

আগামী ২৫ অক্টোবর দ্যা ডেইলি স্টার স্ট্যান্ডার্ড-চার্টার্ড জীবনের জয়গান প্রতিযোগিতার ১২তম আসরে তাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হবে। ২০০৮ সাল থেকে এই আয়োজন করে আসছে ডেইলি স্টার ও স্ট্যান্ডার্ড-চার্টার্ড ব্যাংক।

বাংলাদেশের থিয়েটার অঙ্গনে জীবন্ত কিংবদন্তি সৈয়দ জামিল আহমেদ ১৯৫৫ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকায় জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সৈয়দ জামিল আহমেদ মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা থিয়েটারে যোগদানের মাধ্যমে থিয়েটার জগতে প্রবেশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র অবস্থায় ১৯৭৫ সালে তিনি ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (আইসিসিআর) বৃত্তি নিয়ে ঢাবি ছেড়ে নয়া দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামাতে ভর্তি হন।

১৯৭৮ সালে তিনি ডিপ্লোমা ইন ড্রামাটিক আর্টস ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৮৯ সালে ইউনিভার্সিটি অফ ওয়ারউইক থেকে থিয়েটারে এমএ এবং ১৯৯৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। সৈয়দ জামিল আহমেদ ১৯৯৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক হিসাবে কর্মরত রয়েছেন।

নির্দেশক হিসেবেও তিনি সিদ্ধহসস্ত। দেশে-বিদেশে অসংখ্য নাটক নির্দেশনা দিয়ে নন্দিত হয়েছেন সৈয়দ জামিল আহমেদ। তার নির্দেশনায় মঞ্চায়িত হয় লোকনাটক কমলা রানীর সাগরদীঘি, বেহুলার ভাসান, ‘সংভংচং’-এর মতো প্রযোজনা যা দর্শককে আকৃষ্ট করেছিল দারুণভাবে।

কিন্তু এ ধরনের কাজের অপ্রতুলতা মঞ্চনাটক থেকে দর্শকবিমুখতা তৈরি হয়েছে। ২০১০ সালে তিনি পুনরায় এনএসডিতে নির্দেশনা দেন নাটক ‘ম্যাকবেথ’ এবং ২০১২ সালে কলকাতায় নির্মাণ করেন ‘শ্যামার উড়াল’। সেলিম আল দীনের রচিত ‘চাকা’ নাটকটি ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করে ডেনি প্যাট্রেজের সঙ্গে যৌথভাবে নির্দেশনা দেন আমেরিকায় এবং এটি তাকে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করেন। তিনি সর্বশেষ এবছর জাতীয় নাট্যশালার মঞ্চে শহীদুল্লাহ্ জহিরের উপন্যাস অবলম্বনে নাটক ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ নির্দেশনা দিয়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন।

জামিল আহমেদের বদৌলতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রভাব পড়েছে নাটকের অন্য শাখাগুলোতে যেমন আলোক পরিকল্পনার আধুনিকায়নে তিনি শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। জামিল আহমেদের আলোক পরিকল্পনায় এবং শিল্প নির্দেশনায় প্রযোজিত হয়েছে অচলায়তন, রক্তকরবী, চিত্রাঙ্গদা, ফণিমনসা, কিত্তনখোলা, কেরামত মঙ্গল, ইনস্পেক্টর জেনারেল, ইডিপাস, গিনিপিগ, বিসর্জন, বিষাদ সিন্ধু, সাতঘাটের কানাকড়ি, এই দেশে এই বেশে।