রড-ছুরি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা আবরারকে, প্রমাণ পুলিশের হাতে


Dhaka
Published: 2019-10-07 14:51:07 BdST | Updated: 2019-12-06 19:02:00 BdST

রড-ছুরি দিয়ে পিটিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে হত্যা করা হয়েছে। তাকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হল বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের দুই নেতাকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হল বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, ও সহ-সভাপতি ফুয়াদ।

এছাড়া আবরারকে জেরা করা ও পেটানোর সময় ওই কক্ষে ছাত্রলীগের আরও বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র অমিত সাহা, উপদপ্তর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মুজতাবা রাফিদ, সমাজসেবা বিষয়ক উপসম্পাদক ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ইফতি মোশারফ ওরফে সকালসহ তৃতীয় বর্ষের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিলেন। ওই কক্ষে এসে দ্বিতীয় দফায় আবরারকে পেটান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক সরকার, ক্রীড়া সম্পাদক ও নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একই বর্ষের মেফতাহুল ইসলাম জিয়নসহ কয়েকজন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় সাংবাদিকদের বলেন, আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পেয়েছি। এটি যে হত্যাকাণ্ড সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের কাছে রয়েছে। ইতিমধ্যে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলের শিক্ষার্থী। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এদিকে আবরারের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছে তার সহপাঠীরা ও স্বজনরা। আবরারের মামা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিহত আবরারের সারা গায়ে আঘাতের চিহ্ন, ছোপ ছোপ রক্তের চিহ্ন রয়েছে।

এর আগে আজ সোমবার (০৭ আক্টোবর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে মৃত অবস্থায় আবরারকে উদ্ধার করে পুলিশ। চকবাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, রাতে বুয়েট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খবর পেয়ে শেরেবাংলা হল থেকে ওই ছাত্রর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বুয়েটের দায়িত্বরত চিকিৎসক মাসুক এলাহী বলেন, রাত ৩টার দিকে ছাত্রদের মাধ্যমে খবর পেয়ে শেরেবাংলা হলের ১ম ও ২য় তলার মাঝামাঝি জায়গায় ফাহাদকে পড়ে থাকতে দেখি। তখন তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল। তার বাড়ি কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামে। তিনি শেরেবাংলা ছাত্র হোস্টেলের ১০১১ নম্বর রুমে থাকতেন। কিন্তু 2011 নম্বর রুমে তাকে মারধর করা হয। মেরে লাশ হলের সিড়ি র নিচে রাখা হয়। সিঁড়ি থেকে সরিয়ে পরে লাশ হল এর ক্যান্টিনে রাখা হয়। সেখান থেকে পুলিশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।