সুন্দরবন লক্ষ্য করে এগোচ্ছে ‌‘বুলবুল’


Dhaka
Published: 2019-11-09 14:13:02 BdST | Updated: 2019-11-12 18:10:31 BdST

বাংলাদেশ ও ভারতের অংশের সুন্দরবন লক্ষ্য করে এগোচ্ছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’। ধারণা করা হচ্ছে, শনিবার বিকেলের পর কোনো একসময় পশ্চিম বাংলা অংশের সুন্দরবনে আঘাত হানবে বুলবুল। এরপর বাংলাদেশের উপকূলীয় অংশে দেখা যাবে তার প্রলয় নাচন।

বাংলাদেশে প্রবেশের সময় বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, ভোলা, বরিশালসহ পার্শবর্তী অঞ্চলে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া এবং ১৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এছাড়াও খুলনা ও সাতক্ষীরায় ঘণ্টায় ১৩০ থেকে ১৬৫ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাতও হবে।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় বুলবুল চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৯০ কি. মি. পশ্চিম-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৮০ কি. মি. পশ্চিম-দক্ষিণ পশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩১০ কি. মি. দক্ষিণ পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৩৩৫ কি. মি. দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছে।

এটি আরও উত্তর ও উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শনিবার সন্ধ্যা নাগদ পশ্চিমবঙ্গ ও খুলনা উপকূলের সুন্দরবন এলাকা অতিক্রম করবে। এর অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে সমুদ্র বন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় শনিবার দুপুর থেকে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকবে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কি. মি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ১৩০ কি. মি. যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৫০ কি. মি. পর্যন্ত বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর প্রচণ্ড বিক্ষুব্ধ রয়েছে। এজন্য মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এই সংকেতের আওতায় উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহও থাকবে।

এছাড়াও চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ এই মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল-এর প্রভাবে চট্টগ্রাম বন্দরে সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (৯ নভেম্বর) সকাল সাতটার মধ্যে জেটি থেকে সব জাহাজ সরিয়ে দিয়ে সাগরের গভীর নোঙ্গরে পাঠানো হয়েছে। ইয়ার্ড ও জেটিতে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিগুলোকে রশি দিয়ে বেঁধে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা হিসেবে এলার্ট ফোর জারি করা হয়েছে বলে সারাবাংলাকে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের সচিব ওমর ফারুক।

তিনি বলেন, ‘বন্দরের জেটিতে ষোলটি জাহাজ ছিলো, বহিঃর্নোঙ্গরে আগে থেকেই পঞ্চান্নটি জাহাজ রয়েছে। এখন পাঠানো হয়েছে ষোলটি। জাহাজগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্দরে কন্টেইনার উঠানামা, খালাস ও ডেলিভারিসহ সব ধরণের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। সমুদ্র শান্ত ও স্বাভাবিক হলে বন্দরের কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে।’

উল্লেখ্য, প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ গতকাল অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে।