তুরিন আফরোজকে অপসারণ


Dhaka
Published: 2019-11-11 20:18:58 BdST | Updated: 2019-12-12 18:15:20 BdST

পেশাগত অসদাচরণ, শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত প্রসিকিউশন টিমের মামলা ও অন্যান্য কাজ থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

আজ সোমবার (১১ নভেম্বর) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ। তাতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর পদ থেকে তুরিন আফরোজকে অপসারণ করা হয়েছে।

এস এম নাহিদা নাজমীন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজকে শৃঙ্খলা ও পেশাগত আচরণ ভঙ্গ এবং গুরুতর অসদাচরণের দায়ে ২০১৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপনে প্রদত্ত নিয়োগ বাতিলক্রমে প্রসিকিউটর পদ থেকে অপসারণ করা হলো।’

এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং পাসপোর্ট অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হককে ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান।


তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়, ‘প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ ওই আসামির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ রয়েছে জানিয়ে তাকে পালিয়ে যেতে বলেন। এ বিষয়ে ওয়াহিদুল হকের কাছে প্রসিকিউটর তুরিন মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেন।’

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার প্রভাবশালী আসামি জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও পাসপোর্ট অধিদফতরের সাবেক ডিজি মেজর (অব.) ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগে গত বছরের ৯ মে তাকে ট্রাইব্যুনালের সব কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহার করে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর।

এরপর তার বিরুদ্ধে তদন্ত করতে আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় প্রায় ১৮ মাস তদন্ত সম্পন্ন করে তুরিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সোমবার এ আদেশ জারি করে।

মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং পাসপোর্ট অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হককে ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল গ্রেফতার করা হয়।

পরদিন ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এই মামলার প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ এবং তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান। ২০১৭ সালে তদন্ত শুরু হওয়ার পর ১১ নভেম্বর তুরিন আফরোজকে মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়।

অভিযোগ ওঠে, ওয়াহিদুল হককে গ্রেফতারের আগে ২০১৭ সালের নভেম্বরে তুরিন আফরোজ প্রথমে তাকে টেলিফোন করে দেখা করার সময় চান। এরপর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে গোপন বেঠকও করেন তিনি।

এ-সংক্রান্ত দুটি অডিও রেকর্ড পুলিশের মাধ্যমে তদন্ত সংস্থার হাতে এলে তা ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরকে হস্তান্তর করা হয়। অডিও রেকর্ড দুটি ওয়াহিদুল হক গ্রেফতার হওয়ার পর তার মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়।

ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, দুটি অডিওর মধ্যে একটি টেলিফোনে কথোপকথনের রেকর্ড। এটার দৈর্ঘ্য চার মিনিটের মতো। অন্য অডিওটি ওই গোপন বৈঠকের, প্রায় পৌনে তিন ঘণ্টার মতো। টেলিফোনে কথা হয় ২০১৭ সালের ১৮ নভেম্বর আর বৈঠকটি হয় ঢাকার অলিভ গার্ডেন নামে একটি রেস্তোরাঁর গোপন কক্ষে পরদিন, অর্থাৎ ১৯ নভেম্বর। সেখানে তুরিন আফরোজ, তার সহকারী ফারবি, আসামি ওয়াহিদুল হকসহ মোট পাঁচজন ছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, ওই অডিও রেকর্ডিংয়ে আসামি ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে অর্থ লেনদেনের ইঙ্গিত দেন তুরিন আফরোজ। পরে ওইসব অডিও রেকর্ড আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু। তদন্ত সম্পন্ন করে আজ সোমবার এ আদেশ জারি করল আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সিনিয়র সমন্বয়ক এম. সানাউল হক বলেন, ‘টেলিফোন রেকর্ডে তুরিন আফরোজ জানিয়েছেন যে, তিনি বোরকা পরে ওই হোটেলে যাবেন। তার সঙ্গে থাকবে সহকারী ফারাবি, যাকে তিনি নিজের স্বামী পরিচয়ে সেখানে নিয়ে যাবেন।’