২৪ ঘন্টার ব্যবধানে ৩ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু


Dhaka
Published: 2019-11-29 00:16:29 BdST | Updated: 2019-12-13 20:01:23 BdST

মাত্র ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে নিউমোনিয়ায় আক্রান্তের প্রায় ২৫ দিন পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী কায়সার হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শমরিতা হাসপাতালের ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে কায়সারের অবস্থা সংকটাপন্ন হলে তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

তার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলায়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক এবং হল ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দূর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

বুটেক্স ছাত্রের মৃত্যু

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ৪৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সজিবুর রহমান সাগর (২১) মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহী রাজিউন)। গত দুই সপ্তাহ ধরে অসুস্থতার সাথে লড়াই করে বুধবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

সজিবুর রহমান সাগর ২০১৬-১৭ সেশনে বুটেক্সের টেক্সটাইল মেশিনারি ডিজাইন ও মেইনটেইনেন্স ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হয়ে লেভেল-৩, টার্ম-২ এ অধ্যয়নরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলে।

সাগরের সহপাঠীরা জানান, দুই সপ্তাহ থেকে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, জন্ডিস ও টাইফয়েডে আক্রান্ত ছিলেন সাগর। প্রথমে তাকে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার কিডনিতে ও ফুসফুসে ইনফেকশন ধরা পড়ে।

এদিকে, সজিবুর রহমান সাগরের এ অকাল মৃত্যুতে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থীর আত্নহত্যা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি (বিএমবি) বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

বুধবার (২৭ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে সোনাকুড়ে মেস থেকে নোমানের মরদেহ ও সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার রুম থেকে উদ্ধারকৃত সুইসাইড নোটটি প্রকাশ করা হয়নি। মরদেহ ও সুইসাইড নোট উদ্ধারের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা এবং অন্য শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, নোমানের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়। প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষায় প্রথম হয়েছিলেন তিনি।

নোমানের বন্ধুরা জানান, সে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কারণে হতাশায় ভুগছিল । তার বন্ধুরা ধারণা করছেন হয়তো হতাশার কারণেই নোমান আত্মহননের পথ বেছে নিতে পারে। তবে আজ তার আচরণ স্বাভাবিক ছিল। মেসের বাজার করেছে। নামাজ পড়েছে। হঠাৎ করে প্রিয় বন্ধুর আত্মহত্যাকে মেনে নিতে পারছেন না তারা।

এ ব্যাপারে বিএমবি বিভাগের সভাপতি মোঃ লুৎফুল কবির বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শুনে হতবাক হয়েছি। খুবই মর্মাহত আমরা। ছেলেটি খুব নম্র-ভদ্র ছিলো। হঠাৎ করে এরকম করার কারণ খুঁজে পাচ্ছি না। ঘটানাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাজিউর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি শুনে উপাচার্য, ছাত্র উপদেষ্টা এবং কয়েকজন শিক্ষকসহ ঘটনাস্থলে যায়। বিষয়টি ছেলেটির পরিবারকে জানানো হয়েছে।’