বাসচাপায় রাজীব-দিয়ার মৃত্যু: চালকসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন


Dhaka
Published: 2019-12-01 16:55:48 BdST | Updated: 2019-12-13 19:23:50 BdST

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় শহীদ রমিদ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় করা মামলায় ৩ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন মহানগর দায়রা জজ আদালত।

রোববার বিকেলে ১ (ডিসেম্বের) মহানগর দায়রা জজ আদালত এই রায় দেন। একই সাথে দুই জনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

গত ১৪ নভেম্বর দুপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে এ দিন ঠিক করা হয়। মামলায় ৪১ জনের মধ্যে সাক্ষ্য নেয়া হয় ৩৭ জনের। ৬ আসামির মধ্যে একজন পলাতক রয়েছেন। এছাড়া, একজনের বিচার স্থগিত করা হয়েছে।

রাষ্ট্রেপক্ষের আশা, সর্বোচ্চ শাস্তি পাবে আসামিরা।

নিহত দুই শিক্ষার্থী হলেন শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব (১৭) ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম (১৬)।

গত বছরের ২৯ জুলাই, বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসের রেষারেষিতে চাপা পড়ে নিহত হন রাজীব ও রিয়া। এ ঘটনার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে সারা দেশে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।

গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর জাবালে নূর বাসের মালিক শাহাদাত হোসেনসহ ছয়জনকে আসামি করে ঢাকার আদালতে দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় অভিযোগপত্র দেন ডিবির পরিদর্শক কাজী শরিফুল ইসলাম। ছয় আসামির বিরুদ্ধে গত ২৫ অক্টোবর অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

ছয় আসামি হলেন, জাবালে নূর পরিবহনের দুটি বাসের মালিক শাহাদাত হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলম, দুই চালক মাসুম বিল্লাহ ও জুবায়ের সুমন এবং দুই চালকের দুই সহকারী এনায়েত হোসেন ও কাজী আসাদ। এদের মধ্যে আসাদ পলাতক। আর বাস মালিক শাহাদাত জামিনে আছেন।

অভিযোগ গঠনের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে যান জাবালে নূরের মালিক শাহাদাত হোসেন। তার পক্ষে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ আসে। বাকি পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম চলে।



অভিযোগপত্রে বলা হয়, চালক ও চালকের সহকারীরা বেশি যাত্রী ওঠানোর লোভে যাত্রীদের কথা না শুনে, তাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে জিল্লুর রহমান উড়ালসড়কের ঢালের সামনে রাস্তা ব্লক করে দাঁড়ায়। এ সময় চালক মাসুম বিল্লাহ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সেখানে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ১৪-১৫ জন ছাত্রছাত্রীর ওপর বাস উঠিয়ে দেন। ঘটনাস্থলে দুজন শিক্ষার্থী মারা যান।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, সেদিন বাস দুটির চালক ও চালকের সহকারীরা দুই থেকে তিনবার ওভারটেক করেন। জাবালে নূরের চালক মাসুম বিল্লাহ শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীকে বাসচাপায় মেরে ফেলার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দীতে তিনি বলেন, আগে গিয়ে যাত্রী তোলার জন্য বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে দুই শিক্ষার্থীকে মেরে ফেলেছেন এবং অন্যদের আহত করেছেন।

বাসচাপার ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী মিমের বাবা জাহাঙ্গীর বাদী হয়ে যে ধারায় (দণ্ডবিধির ৩০৪-খ) মামলা করেন, তা ছিল বেপরোয়া যান চালিয়ে মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগ। এই ধারার সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছরের কারাদণ্ড। তবে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর ঢাকাসহ সারা দেশে ঘাতক বাসচালক ও চালকের সহকারীদের বিচার চেয়ে আন্দোলন শুরু হয়।

মন্তব্য