বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে দুই দফা মাদক পরীক্ষার সুপারিশ


Dhaka
Published: 2019-12-01 23:30:21 BdST | Updated: 2019-12-13 20:11:44 BdST

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে ও চূড়ান্ত (ফাইনাল) পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের ডোপ টেস্ট বা মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক হচ্ছে। দেশের মাদক সমস্যাকে অভিশাপ আখ্যা নিয়ে এই সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। এতে মত রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানেরও।

রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির নবম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।

জানা যায়, বৈঠকে ডোপ টেস্ট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যের উপস্থিতিতে এ আলোচনায় কমিটি দেশকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত রাখতে এবং একটি শিক্ষিত ও সুস্থ জাতি উপহার দিতে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী ভর্তির আগে এবং চূড়ান্ত (ফাইনাল) পরীক্ষার আগে ডোপ টেস্ট সিস্টেম চালুর সুপারিশ করে।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু বলেন, সরকারি চাকরিতে ঢোকার সময় ডোপ টেস্ট বাধ্যবাধকতা করবে সরকার। কিন্তু আমরা চাই আরও আগে থেকেই ডোপ টেস্ট হোক। কারণ মাদকের অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করতে না পারলে আমাদের নতুন প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে। এ জন্য দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে ও চূড়ান্ত পরীক্ষার আগে মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছে কমিটি। বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী শহিদুল্লাহ এ ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন।

বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশ-ভারত এবং বাংলাদেশ-মিয়নমার সীমান্তে বিজিবির অভিযান কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে শূন্যরেখা থেকে এক কিলোমিটারের বাইরে বিদ্যমান ১২৬টি বিওপি সীমান্তের কাছে স্থানান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব বিওপি স্থানান্তরের ফলে ঠাকুরগাঁও, সুনামগঞ্জ, কুমিল্লা এবং ফেনীর সীমান্ত এলাকায় চারটি পরিত্যক্ত বিওপি স্থায়ী কমিটির সুপারিশের আলোকে বঙ্গবন্ধু শিক্ষা নিকেতনে রূপান্তরের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়াও সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত জনসাধারণের বেকারত্ব দূর, চোরাচালান রোধ ও সীমান্ত অপরাধ থেকে মুক্ত রেখে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিজিবির উদ্যোগে “আলোকিত সীমান্ত” প্রকল্প চালু করে ৫০ জনকে সেবা দিয়ে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

বৈঠকে দেশের সাইবার ক্রাইম সম্পর্কে আলোচনা হয়। পুলিশ বিভাগের সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করতে তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে সক্ষমতা অর্জনের পাশাপাশি অত্যাধুনিক সাইবার যন্ত্রপাতি স্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে কারা অধিদফতর, পুলিশ হাসপাতাল, বিজিবি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগ এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ণের সুপারিশ করে এবং কারাগারে মেডিকেল ইউনিট খোলার সুপারিশ করে।

যারা আত্মসমর্পণ করেছে বৈঠকে তাদের কার্যক্রম মনিটর করার সুপারিশ করা হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য যাতে কোনোভাবেই কোনো অপরাধ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে না পারে সে বিষয়গুলো মনিটর করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে তৎপর থাকতে সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম নিয়ে একটি মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন করা হয় এবং ফায়ার সার্ভিসকে আরও কার্যকর করতে একটি অত্যাধুনিক ফায়ার সার্ভিস ট্রেনিং একাডেমি নির্মাণের সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি মো. শামসুল হক টুকুর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, আফছারুল আমীন, হাবিবর রহমান, সামছুল আলম দুদু, পীর ফজলুর রহমান এবং সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ অংশ নেন।

বৈঠকে জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, সুরক্ষাসেবা বিভাগের সচিব মো. শহীদুজ্জামানসহ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।