শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ল ১৫ জুন পর্যন্ত


Dhaka
Published: 2020-05-27 18:18:11 BdST | Updated: 2020-07-16 21:46:17 BdST

করোনা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষাবর্ষের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগামী ৫ জুন থেকে ছুটি বাড়িয়ে ১৫ জুন করা হয়েছে। বুধবার (২৭ মে) বিকালে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে ছুটি বাড়ানোর বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কারণেই ছুটি বাড়াতে হবে। শিক্ষাবর্ষের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগামী ৫ মে পর্যন্ত ছুটি রয়েছে। এই ছুটির পর আবারও ছুটি বাড়ানো হবে।’

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় গত ১৭ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটির সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এই ছুটির সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ছুটির সময় ঘরে বসেই শিক্ষার্থীদের অনলাইনে পাঠদানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘আমার ঘরে আমার স্কুল’ শিরোনামে সংসদ টেলিভিশনে ক্লাস চলছে এবং ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও ক্লাস আপলোড করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের জন্য। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ঘরে বসে শিখি’ শিরোনামে সংসদ টেলিভিশনে ভিডিও ক্লাস চলছে। এই নামে একটি ওয়েব পোর্টালও ডেভেলপ করা হচ্ছে।

ছুটি দীর্ঘ হতে পারে এমন ভাবনা থেকে মাধ্যমিক ও শিক্ষা অধিদফতর আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে জানিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক মো. শাহেদুল খবির চৌধুরী বলেন, ‘ছুটি না বাড়িয়ে কোনও উপায় দেখা যাচ্ছে না। আর সে কারণে দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে। পাহাড়ি এলাকা, চরাঞ্চল ও হাওরসহ দুর্গম এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের আওতায় আনতে চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি কমিউনিটি রেডিও-এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রমের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তবে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি কমিয়ে এবং ক্লাস বাড়িয়ে ক্ষতিপূরণ করার কথা ভাবা হচ্ছে।’

ছুটির পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, ‘বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে একটি গাইডলাইন তৈরি করছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হবে।’

দেশের চলমান করোনা পরিস্থিতিতে সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারি ছুটি আর বাড়ছে না। ফলে ৩১ মে থেকেই খুলছে অফিস।

বুধবার (২৭ মে) বিকালে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ছুটি আর বাড়ছে না। আমরা কিছুক্ষণ আগে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর করা প্রজ্ঞাপনটি পেলাম। সাধারণ ছুটি আর বাড়ছে না, তবে নাগরিক জীবনের সুরক্ষার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। বয়স্ক এবং গর্ভবতী মহিলারা অফিসে আসবেন না। এমনকি গণপরিবহনও চলবে না। আর আপাতত স্কুল, কলেজ বন্ধ থাকবে ১৫ জুন পর্যন্ত। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজে যোগ দিতে হবে। আগামীকাল (২৮ মে) সকালেই প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ছুটি না বাড়লেও সবাইকে কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকবে। সেক্ষেত্র প্রতিটি জেলার প্রবেশ পথে এবং বহির্গমন পথে চেকপোস্টের ব্যবস্থা থাকবে। জেলা প্রশাসক আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় এই নিয়ন্ত্রণ বাস্তবায়ন করবে। আগের নিয়মেই রাত ৮টা থেকে ৬টা পর্যন্ত চলাচলে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে।

তিনি জানান, আমরা সবকিছুই এখন ওপেন করে দিচ্ছি না, ধীরে ধীরে সব ওপেন হবে। আগামি ১৫ জুন পর্যন্ত সময়টি সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে, এরপর সিদ্ধান্ত হবে। তবে সকল মন্ত্রণালয়ই এ সময়ে সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। সড়কপথে যাত্রীবাহি বাস, নৌযান, রেল চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরন করে কর্মস্থলে যাতায়াতের জন্য যানবাহন এবং ব্যক্তিগত হালকা যানবাহন চালু থাকবে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে এটাই মূল বিষয়। ধীরে ধীরে সব খোলা হবে।

তিনি আরও জানান, বিমান কতৃপক্ষ নিজ ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরন করে বিমান চালাতে পারবেন। সভা-সমাবেশসহ বড় আয়োজন বন্ধ থাকবে। মসজিদ এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রার্থনার কাজ চলবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে।

ফরহাদ হোসেন জানান, হাট-বাজার দোকানপাটে বিক্রয় রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। তবে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং শারিরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ১৫ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে অনলাইন লার্নিং কার্যক্রম চালু থাকবে। আধা সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ ব্যবস্থাপনায় সীমিত আকারে চলবে। সেক্ষেত্রে বয়স্ক, অসুস্থ, সন্তান সম্ভাবনা নারী অফিসে যাবে না। আর ব্যাংকগুলো সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে।

করোনাভাইরাসের কারণে প্রথম দফায় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি দেওয়া হয়েছিল। এরপর ছুটি বাড়িয়ে তা ১১ এপ্রিল করা হয়। ছুটি তৃতীয় দফা বাড়িয়ে করা হয় ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। চতুর্থ দফায় ছুটি বাড়ানো হয় ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত। পঞ্চম ধাপে ২৬ এপ্রিল থেকে ০৫ মে পর্যন্ত ও ষষ্ঠ দফায় ৬ মে থেকে ১৬ মে পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়। আর সর্বশেষ ১৭ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়।