অসহায়দের পাশে 'কোকোকোলা হ্যাপি ক্লাব'


Dhaka
Published: 2020-05-27 19:46:23 BdST | Updated: 2020-07-16 21:53:29 BdST

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের কারণে লক ডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে কোকাকোলা হ্যাপি ক্লাব নামে একটি সংগঠনের কার্যক্রম সকলের নজরে আসা শুরু করে। তাদের বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম সর্ব মহলে প্রশংসিত হয়। আজ আপনাদেরকে জানাবো "কোকোকোলা হ্যাপি ক্লাব" এবং তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে।

2010 সালের কথা। কোকাকোলা হ্যাপি ক্লাব এর বর্তমান পরিচালকবৃন্দ তখন কৈশোর পেরিয়ে কেবল যৌবনে পদার্পণ করেছে। ইতিমধ্যে তাদের কয়েকজন বন্ধু জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন জায়গায় স্থানান্তর হওয়া শুরু করেছিল। একদিন বন্ধুদের আড্ডায় মোঃ শিশির আহমেদ প্রস্তাব উপস্থাপন করেন, আমাদের এই বন্ধুত্বের বন্ধন আজীবন টিকিয়ে রাখার জন্য আমাদের ভিন্ন কিছু করা উচিত। সেই আড্ডায় সব বন্ধুদের দ্বারা প্রস্তাব গৃহীত হয় একটি সংগঠন গঠন করার। এই সংগঠনের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল বন্ধুরা যে যেখানেই থাকুক বছর অন্ততপক্ষে একবার তারা একত্রিত হবে এবং নিজেদের মধ্যে সময় কাটাবে। পরবর্তীতে মোঃ রাজু আহমেদ সংগঠনের নামকরণ করেন "কোকোকোলা হ্যাপি ক্লাব।"

সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরের বছর তারা রাজধানীর ভাটারার নয়ানগর উত্তর তথা কোকাকোলা এলাকায় একটি মাদক বিরোধী কনসার্ট এর আয়োজন করে। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে ওই এলাকায় এই সংগঠনটি তাদের অস্তিত্বের প্রকাশ ঘটায়।

সংগঠনটি প্রতিবছর বন্ধু সভার আয়োজন করে চলেছে এবং বন্ধুদেরকে খুশি করার জন্য প্রতিবছর বর্ষাকালে তারা একটি নৌভ্রমণের আয়োজন করে থাকে।

প্রতিষ্ঠার দ্বিতীয় বর্ষ থেকে তারা সিদ্ধান্ত নেয় তাদের এই একতাকে সামাজিকভাবে কাজে লাগানো উচিত।
তারপর থেকে তারা তাদের সামাজিক কার্যক্রম শুরু করে। সামাজিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তারা 2012 সাল থেকে নিয়মিতভাবে মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা, রক্তদান কর্মসূচি, শীতার্তদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ, বন্যার্তদের মাঝে খাবার সামগ্রী বিতরণ সহ ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এছাড়া এলাকায় বিভিন্ন সময় তারা সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

আপনারা সবাই অবগত আছেন 2019 সালের ডিসেম্বর মাসে চীনে করোনা ভাইরাস প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর 2020 সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি থেকে তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া শুরু করে।

কোকাকোলা হ্যাপি ক্লাব এই বছরের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি থেকে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করে। হ্যান্ডবিল, লিফলেট বিলি করার মাধ্যমে স্থানীয় মানুষকে করোনা সম্পর্কে সচেতন করা শুরু করে। এছাড়া হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে তারা এলাকায় করোনা ভাইরাস সম্পর্কে নানা ধরনের তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া শুরু করে।

করোনা ভাইরাসের প্রকোপ সম্পর্কে টের পেয়ে বাংলাদেশ সরকার 26 মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। সাধারণ ছুটি ঘোষণা হওয়ার পর থেকে নিম্নবিত্ত মানুষের দুর্দশার সময় শুরু হয়।

যেহেতু পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউন শুরু হয়ে গিয়েছিল তাই কোকাকোলা হ্যাপি ক্লাব অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছিল বাংলাদেশে লকডাউন এবং তার কারণে উদ্বুদ্ধ জনদুর্ভোগ সম্পর্কে।

এমতাবস্থায় কোকাকোলা এলাকায় তারা আগে থেকেই একটি দুস্থ পরিবারের তালিকা তৈরি করতে থাকে এবং যা পরবর্তীতে আরও দীর্ঘায়িত হয়।

31 শে মার্চ থেকে তারা এই তালিকা অনুসারে দুস্থ, অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা শুরু করে। জনশ্রুতি আছে, কোকোকোলা হ্যাপি ক্লাব বাংলাদেশের প্রথম সংগঠন যারা ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনা করে।

প্রাথমিক অবস্থায় কোকোকোলা এলাকা থেকে শুরু করলেও পরবর্তীতে তাদের ত্রাণ কার্যক্রম রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বর্ধিত করে। এই সংগঠনটি এ পর্যন্ত প্রায় 2 হাজার পরিবারকে ত্রান সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে।

লকডাউন এর কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অসহায় পরিবারগুলো যখন নিজেদের খাবার সংগ্রহ করতে ব্যর্থ, তখন চলে আসে রমজান। তাই কোকোকোলা হ্যাপি ক্লাব সিদ্ধান্ত নেয় এই অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে পবিত্র রমজানে ইফতারি সরবরাহ করার। তারা প্রথম রোজা থেকে শুরু করে শেষ রমজান পর্যন্ত 200 টি পরিবারের মাঝে প্রতিদিন ইফতারি বন্টন করেছে।

রমজানের পর এবারের ঈদ প্রত্যেকের কাছে একটু ভিন্নভাবে আসে। হ্যাপি ক্লাবের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেয় এবারের ঈদ একটু অন্যরকমভাবে উদযাপন করার। তারা এলাকার দুস্থ এবং অসহায় পরিবারগুলো কে সাথে নিয়ে তাদের ঈদ উদযাপন করে। এরই অংশ হিসেবে তারা এলাকার এবং এলাকার বাইরের প্রায় 500 পরিবারকে ঈদের দিন সকালে দুই প্রকার সেমাই রান্না করার যাবতীয় সামগ্রী বিতরণ করে। এছাড়া ঈদের দিন দুপুর বেলা তারা ওই পরিবারগুলোকে গরুর গোশতের খিচুড়ি এবং রাতের বেলা তেহারি বিতরণ করে।

কোকোকোলা হ্যাপি ক্লাব এর মুখপাত্র কামরুল হাসান সেতু আমাদেরকে জানিয়েছেন,

"মানুষের দুর্দশা ও কষ্ট আমাদের অন্তরকে ছুঁয়ে যায়। আমরা আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করেছি অসহায় দুস্থ পরিবার গুলো পাশে দাঁড়ানোর। ক্লাবের সদস্যবৃন্দের আন্তরিকতা এবং স্বেচ্ছাসেবীদের অক্লান্ত পরিশ্রম আমাদের কর্মকাণ্ডগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য সহায়তা করেছে। আমাদের প্রত্যেকটি স্বেচ্ছাসেবীকে আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

তাছাড়া আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই আমাদের দেশি এবং বিদেশি দাতাদের কে যাদের সহায়তা ব্যতিত আমাদের কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল না।

ভবিষ্যতে আমরা আমাদের কার্যক্রম কোন এলাকার গন্ডিতে বেঁধে রাখতে চাইনা।

"হ্যাপি বাংলাদেশ" নামে আমরা আমাদের কার্যক্রম পুরো বাংলাদেশ এবং সম্ভব হলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচালনা করতে চাই।

যারা যারা আমাদের সাথে কাজ করতে আগ্রহী তাদের প্রত্যেককে আমি স্বাগত জানাই। আমি আশা করি সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন যাতে আমরা আমাদের কার্যক্রম বর্ধিত করতে পারি।"