বিবিসি বাংলার কাদির কল্লোল: কণ্ঠ যার তুমুল জনপ্রিয়


Dhaka
Published: 2020-06-02 00:14:31 BdST | Updated: 2020-07-05 07:51:42 BdST

কাদির কল্লোল। বিবিসি বাংলার খবর শুনেছেন এরকম প্রত্যেকটা মানুষের কাছে তার কণ্ঠস্বর অতি পরিচিত। ২৩ বছর ধরে বিবিসি বাংলায় সাংবাদিকতা করছেন৷ শুধুমাত্র শব্দচয়ন এবং কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে মানুষের চোখে সামনে জীবন্ত করে তুলে ধরার ক্ষেত্রে কাদির কল্লোল বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতের জীবন্ত কিংবদন্তী।

বিডিআর বিদ্রোহ, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা, লগি বৈঠার আন্দোলন, মার্চ ফর ডেমোক্রেসির বালুর ট্রাক, শাপলা চত্বরের অভিযান, উত্তপ্ত ওয়ান ইলেভেন, পুরান ঢাকার অগ্নিকাণ্ডসহ অসংখ্য বিপদসংকুল ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে রিপোর্ট করে পেশাগত খ্যাতি, পরিচিতি এবং জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তিনি।

২০০৩ সালের দিকে ইরাক যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময়ে দেখতাম আমার দাদা খুব আগ্রহ নিয়ে বিবিসি শুনছেন। আমিও দাদার সাথে যোগ দিলাম। সেই থেকে তার কণ্ঠস্বরের সাথে পরিচয়। কাদির কল্লোলের রিপোর্ট শুরু হলে আমার দাদা একটু নড়েচড়ে বসতেন। এর অর্থ হচ্ছে এখন আমাকে পলিসি অব কমপ্লিট সাইলেন্স গ্রহণ করতে হবে। কারণ, 'কাদের' কল্লোল এর রিপোর্ট।

বড় হয়ে দেখেছি প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে অন্য সব সাংবাদিক যখন বিভিন্ন বিষয়ে প্রশংসায় গদগদ হয়ে যান তখনও সবচেয়ে প্রফেশনাল বিবিসির কাদির কল্লোল। প্রশ্ন করেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে। লিখেছেন হাবিবুর রহমান।

কাদির কল্লোল ভোরের কাগজ থেকে বিবিসিতে আসেন।তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলায়।

.

ফারহান আরিফ নমে একজন লিখেছেন, চাইল্ডহুড ভালোলাগা। আফগানিস্তানে ইঙ্গ-মার্কিন হামলাকাল থেকে এই কাদির কল্লোলের ভক্ত আমি। আরেকজন আছেন সালেহ আকরাম; বিটিভিতে রাত আটটার সংবাদ পড়তেন। বিবিসিতেও কাজ করেছেন। এই দুইজনের ভয়েস সিগনেটরি।

ফয়জুল্লাহ নামে একজন শ্রোতা লিখেছেন , বিবিসি নাম শুনলেই সর্বপ্রথম কাদির কল্লোলের নাম মনে আসে।

তাঁকে নিয়ে বিবিসি বাংলার সাংবাদিক ফয়সাল তিতুমির লিখেছেন, বিবিসিতে যোগদানের পর সবচেয়ে বড় পাওয়া কি যদি বলেন আমি বলবো এই লোকটার সাথে একই ছাদের নিচে কাজ করার সুযোগ। আমি নিশ্চিত আমার বন্ধু তালিকার অনেকেই আগে তাকে দেখেননি কিন্তু কন্ঠ ঠিকই শুনেছেন। আমিও তাই। শুধুমাত্র কন্ঠ শুনেই মনে হতো এই লোকটি কত কাছের কেউ। কিন্তু কাজ করতে এসে দেখলাম তিনি আসলে যতোটা মনে হয় তার চেয়ে আরো বেশি কাছের কেউ। এমনকি অফিসে তার নামই হয়ে গেছে উদ্ধারকারী হামজা। অর্থাৎ নিউজে কোন কিছুতে আটকে গেছেন টেনশন নাই আছেন কাদির কল্লোল। শুধু অফিসের কাজেই না, ব্যক্তিগত দরকারেও তিনি সবসময় আছেন ভরসা হয়ে। অফিসের কাজে কতোবার বাইরে গিয়ে শুনেছি আপনি কাদির কল্লোলের সাথে কাজ করেন!

আসলেই ভাগ্যবান, ছোটবেলায় যার কন্ঠ শুনতাম রেডিওতে, আজ আমি তাঁরই কলিগ। তিনি কিন্তু একইরকম আছেন। নিউজের জন্য প্রতিদিন তার যে নিষ্ঠা দেখি, বুঝি সেটাই আসলে তাকে কাদির কল্লোল বানিয়েছে।