মামুন ও নাজমুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার সরল বিশ্লেষণ


Dhaka
Published: 2020-09-23 13:16:15 BdST | Updated: 2020-10-22 06:29:26 BdST

লালবাগ থানা ও কোতোয়ালি থানায় করা মামলা অনুসারে ছাত্র অধিকার পরিষদ এর আহবায়ক হাসান আল মামুন ও নাজমুল হাসান সোহাগের সাথে শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে ঢাবির ওই ছাত্রীর।

তবে যৌন সম্পর্ক প্রায় ৮ মাস আগে সংঘটিত হয়েছে। 

শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাহলে তিনি যেহেতু দুইজন ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছেন এখন কার সঙ্গে তিনি যেতে চান?

এদিকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন আগে ক্যাম্পাস টাইমসের প্রতিনিধির সঙ্গে টিএসসিতে দাঁড়িয়ে কথা হয় হাসান আল মামুনের সঙ্গে । তখন তিনি ক্যাম্পাস টাইমসকে বলেছেন ঘটনা সম্পূর্ণ ভুয়া, মিথ্যা-বানোয়াট, ষড়যন্ত্র।

বিভিন্ন সূত্র বলছে, প্রথমে ওই মেয়ের সঙ্গে হাসান আল মামুুনেের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে হাসান আল মামুন ও ওই মেয়ের সাথে ব্রেকআপ হয়ে যায়। এর পরবর্তীতে মেয়েটি নাজমুল হাসান সোহাগের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। পরবর্তীতে সোহাগের সাথে মেয়েটির শারীরিক সম্পর্ক হয় বলে এজাহারে লিখেছেন মামলার বাদী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীটি।

এদিকে মেয়েটি যখন নুরদের সংগঠনের নেতাদের কাছে বিচার দেন তখন ঘটনার জানাজানি হয়ে গেলে অথবা হাসান আল মামুনের বিরুদ্ধে যদি মামলা হয় তাহলে তিনি সংগঠনের আহ্বায়ক পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন এই বলে সংগঠনের নেতাকর্মীদের তখন তিনি শান্ত করেন।

নুরদের সংগঠনের আরেক নেতা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এপিএম সোহেল ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ঘটনা সত্য বলে জানিয়েছেন। 

এদিকে জানা গেছে, এপিএম সোহেলের বিরুদ্ধেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রীর নানান অভিযোগ রয়েছে।

তবে নাজমুল ও হাসান আল মামুনের সঙ্গে মেয়েটির যে যৌন সম্পর্ক হয়েছে সে ক্ষেত্রে কোন ধরনের ভূমিকা নেই নূরসহ মামলায় অভিযুক্ত অন্যান্য আসামিদের। তবে নূর ও অন্যান্য নেতারা কেন হাসান আল মামুনকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দিল না বা বিষয়টির সমাধান করে দিল না এই ক্ষোভ মেয়েটি নূরসহ অন্যান্য নেতাদের নাম মামলায় সংযুক্ত করেছেন।

এদিকের হাসান আল মামুনদের একটি গ্রুপ চ্যাট এর স্ক্রিনশট ফাঁস হয়েছে ফেসবুকে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, হাসান আল মামুন বলেছেন "যদি আমার বিরুদ্ধে মামলা হয় আমি সংগঠনের পদ থেকে সরে দাঁড়াবো"।

জানা গেছে, ছাত্র অধিকার পরিষদ এর অন্যান্য নেতারা ইতিমধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং তারা বলছেন হাসান আল মামুনকে সাময়িক সময়ের জন্য পরিষদের আহ্বায়ক পথ থেকে সরিয়ে দেয়া হবে । যদি মামলায় প্রমাণিত হয় হাসান আল মামুন অবৈধ সম্পর্ক গড়েছেন তাহলে তাকে চূড়ান্তভাবে সংগঠন থেকে বাদ দেয়া হবে।

একই তরুণীর কোতোয়ালি থানায় গতকালের করা  ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার এক নম্বর আসামি ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান। তিন নম্বর আসামি নুরুল হক। বাকি আসামিরা হলেন পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম, সহসভাপতি মো. নাজমুল হুদা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আবদুল্লাহ হিল বাকী।

মামলায় ঘটনার স্থান উল্লেখ করা হয়েছে কোতোয়ালি থানা এলাকার সদরঘাট হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট। মামলায় ঘটনার তারিখ ও সময় উল্লেখ করা হয়েছে ২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত।

আর লালবাগ থানায় করা মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে হাসান আল মামুনকে।

হাসান আল মামুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হাজি মোহাম্মদ মহসিন হলের ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এবং নুরুল হক নুর একি কমিটির উপ-সম্পাদক ছিলেন এক সময়।

লেখক: শাহিন আব্দুল্লাহ