প্রধানমন্ত্রীর উপহার নিয়ে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের পাশে এসি ল্যান্ড


Dhaka
Published: 2021-01-12 10:15:43 BdST | Updated: 2021-01-21 14:58:37 BdST

"গৃহায়ণের অধিকার, প্রধানমন্ত্রীর উপহার" প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শুরু হয়েছিল আশ্রয়ণ ২ প্রকল্পের কাজ। এর উদ্দেশ্য ছিল দেশের ভূমি ও গৃহ হীন মানুষদের একটি নিরাপদ আশ্রয় উপহার দেয়া। সে মোতাবেক সারা দেশে বিভিন্ন পরিমানে ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়।

নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলা একটি ঐতিহ্যবাহী উপজেলা। পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের মহত্ত্ব বিজরিত এই অঞ্চলেও রয়েছে এমন বেশ কিছু গৃহহীন। কিন্তু উপযুক্ত প্রাপ্য ব্যক্তির কাছে ঘর বা ত্রাণ ইত্যাদি পৌঁছে দেয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং ইতিপূর্বে নানা অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে। কিন্তু নওগাঁর বদলগাছীর এসি ল্যান্ড উপযুক্ত মানুষ ও সঠিক প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে গিয়েছেন বাড়ি বাড়ি, মাঠে ঘাটে, যেখানে গৃহহীনদের বর্তমান আবাস। সহকারী কমিশনার (ভূমি), বদলগাছী জনাব সুমন জিহাদী বলেন, অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ভুমিহীনরা অন্যের আশ্রয়ে বা সরকারি জায়গায় কোন রকম মাথা গুঁজে থাকে।

সেখানে গাড়ি যায় না। তাই তাদের চিহ্নিত করতে আমি ও আমার সহকর্মীরা মোটর সাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলাম। একজনের পক্ষে লম্বা সময় ড্রাইভ করা কঠিন তাই আমিও হাত লাগিয়েছি। আমাদের জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন থেকে উপকার ভোগী বাছাই এর ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দেয়া ছিল। ঘরগুলোও নির্মান শেষ প্রায়। এখন কবুলিয়ত, সনদ ও খতিয়ান দিয়ে দেয়া হবে। তাই চূড়ান্ত ভাবে পুনঃযাচাই নিশ্চিত করে নিচ্ছি আমরা। আমরা চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার যেন সঠিকভাবে উপকার ভোগীর হাতে পৌঁছে।

বদলগাছী উপজেলায় এ পর্যায়ে ৪৮ জন উপকারভোগী এ সুবিধা পাচ্ছেন। তাদের যে বাড়ি নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে তাতে আছে দুটি ঘর, একটি রান্না ঘর, এটাচড টয়লেট ও বারান্দা। এর সাথে তাদের নামে দুই শতক করে খাস জমি বন্দবস্ত দেয়া হবে। ভুমিহীনগণ এ প্রাপ্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অনেক দরিদ্র গৃহহীন মানুষ, স্বামী পরিত্যক্তা, বিধবা, প্রতিবন্ধিও এমন সুবিধা পাচ্ছে। তাদের কেউ ঘর বানিয়ে দেয়া দূরের কথা তাদেরকে অনেকে ঘরে আশ্রয়ই দিত না।

শীতের রাতে অনেকে কষ্ট পেতেন একটি নিরাপদ নিজস্ব ঘরের অভাবে। মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে, বা দিন মজুরের কাজ শেষে ক্লান্ত শরীরে তাদের যাওয়ার মত ছিল না একটি নির্দিষ্ট স্থান। কখনো ভাই এর বাড়ি, কখনো মালিকের বাড়ি, কখনো বা কোন এক বাড়ির গোয়ালঘরে কেটেছে তাদের রাত। কিন্তু তাদের এ কষ্টের দিন বুঝি শেষ হয়ে এলো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ উপহার বুঝে নিতে তারাও অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

এ কাজে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তর, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি সকলে এক সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। " মুজিববর্ষে কেউ গৃহহীন রবে না " মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণার পর থেকেই মূলত এই কাজ বেগবান হয় এবং এখন তা স্বপ্নের বাস্তব রূপান্তর।