মওলানা সা’দকে নিয়ে তুলকালামের নেপথ্যে কারা? 


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-01-10 15:10:31 BdST | Updated: 2018-09-26 07:54:08 BdST

তাবলিগ জামাতের আমিরের পদ থেকে মাওলানা মুহাম্মদ সা’দকে সরিয়ে দেয়া এবং তার বাংলাদেশে আসা নিয়ে ব্যাপক তুলকালাম শুরু হয়েছে। দেশকে অস্থিতিশীল করতেই একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে তার বিরুদ্ধে নেমেছে বলে জানা গেছে।

গত ১৫ বছর ধরে বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দেয়া এবং আখেরি মোনাজাত পরিচালনাকারী এই বুজুর্গ ব্যক্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টায় দু’টি দেশও জড়িত। কারণ দেশ দুটো বাংলাদেশ থেকে বিশ্ব ইজতেমা স্থানান্তর করারও চেষ্টা করছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

তবে পূর্বপশ্চিমবিডি.নিউজের অনুসন্ধানে জানা গেছে নিবন্ধন বাতিল হওয়া রাজনৈতিক দল জামায়েত ইসলাম এবং ইসলামের নামে উগ্রতা ছড়ানোর চেষ্টায় ব্যস্ত আরেকটি অরাজনৈতিক সংগঠন এ ঘটনার সাথে জড়িত।

এত অপতৎপরতার মাঝেও দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাহসিকতায় মওলানা সা’দ কূটনৈতিক ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। বর্তমানে তিনি কাকরাইল মসজিদে অবস্থান করেছেন। এর আগে সকাল থেকেই মওলানা সা’দের ঢাকা আগমন উপলক্ষ্যে জামায়াত এবং অরাজনৈতিক একটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেছে।


পূর্বপশ্চিমকে আরো একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশ্ব ইজতেমা বাংলাদেশ থেকে স্থানান্তরের হুমকি দিয়েছে মালয়েশিয়া ও কানাডা। রোববার (৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ তাবলিগ জামাতের শুরাকে লেখা এক চিঠিতে মালয়েশিয়া ও কানাডা তাবলিগের শুরা কর্তৃপক্ষ এই হুঁশিয়ারি দেয়।

এ ব্যাপারে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

একই বিষয়ে জানার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা ইজতেমার সিকিউরিটির বিষয়টি দেখছি। বাদবাকি বিষয় তাবলিগ কর্তৃপক্ষ দেখবে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ তাবলিগের অন্যতম মুরব্বি ওয়াসিফ ইসলাম পূর্বপশ্চিমবিডিকে বলেন, মাওলানা মুহাম্মদ সা’দ বাংলাদেশে আসতে কোনও বাধার সম্মুখীন হলে কানাডা ও মালয়েশিয়া তাদের দেশে বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে যাবে বলে বাংলাদেশ সরকারকে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করেছে।

একই বিষয়ে বাংলাদেশ তাবলিগের কাকরাইল মসজিদের জিম্মাদার মাওলানা জোবায়ের বলেন, সা’দ সাহেবের আসার ব্যাপারে কিছু ওলামা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমরা এর জবাব দিয়েছি। সবমিলিয়ে সা’দ সাহেব বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে ভিসা পেতে কোনো সমস্যা হয়নি এবং সরকারের সহযোগিতায় তিনি ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন।

সূত্র জানিয়েছে, মওলানা সা’দকে ঘিরে এই অশুভ তৎপরতার মূল উদ্দ্যেই হচ্ছে, শান্তির ধর্ম ইসলামকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা। দেশেও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে তারা। কারণ, সারা বিশ্বের অধিকাংশ তাবলিগ মারকাজ নিজামুদ্দিনকে বিশ্ব তাবলিগ মারকাজ এবং সংগঠন ও প্রশাসনের কেন্দ্র মনে করে। তাকে সরিয়ে দিতেও তৎপরতা দেখিয়েছে তারা।

প্রসঙ্গত, বিশ্বজুড়ে তাবলিগ জামাতের মারকাজ হিসেবে ভারতের দিল্লির নিজামুদ্দিন পরিচিত। ওই মারকাজের অন্যতম মুরব্বি মাওলানা সা’দ। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে তার বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। কওমি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার বৃহৎ প্রতিষ্ঠান ভারতের ‘দারুল উলুম দেওবন্দ’ মাওলানা সা’দের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানায়। এদিকে বাংলাদেশে তাবলিগের ফায়সালের মধ্যে মাওলানা মুহাম্মদ জুবায়ের, মাওলানা রবিউল হক ও মাওলানা ওমর ফারুক প্রমুখ আগামী ইজতেমায় মাওলানা সা’দের বাংলাদেশে আগমনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বের তারিখ ও জোড় ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী বছরও দুই প্রর্বের বিশ্ব ইজতেমা জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে।

২০১৮ সালের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হবে ১২-১৪ জানুয়ারি আর দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা ১৯-২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। ইজতেমার প্রতি পর্বের শেষ দিন আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

বিডিবিএস 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।