সুবিধাবঞ্চিত হয়েও ওরা অদম্য মেধাবী


টাইমস প্রতিবেদক
Published: 2018-02-14 09:58:49 BdST | Updated: 2018-05-22 02:11:09 BdST

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) অধিভুক্ত আনন্দ স্কুলের সুবিধা বঞ্চিত কৃর্তী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধিত করা হয়েছে। ২০১৭ সালের সমাপনী পরীক্ষায় কৃর্তী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ট্রেনিং কো-অডিনেটর এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের হাতে সম্মাননা পদক তুলে দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর এলজিইডি মিলনায়তনে ডিপিই’র আওতাধীন রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন (রক্স) প্রকল্পের আয়োজনে সংবধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

লালমনিরহাটের আনন্দ স্কুলের শিক্ষার্থী আলামীন। ২০১৭ সালের সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। স্থানীয় একটি স্কুলে অকৃতকার্য হওয়ায় পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দুই বছর তার আর স্কুলে যাওয়া হয়নি। বয়স বেশি হওয়ায় সরকারি প্রাথমিক স্কুলেও ভর্তি নেয়া হয়নি তাকে।

আলামীন বলেন, পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমি মাঠে-ঘাটে পাতা কুড়িয়ে দিন পার করেছি। আমার সমবয়সীরা বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যেত আমি তাদের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। একদিন আমি আনন্দ স্কুলের সন্ধান পাই। এরপর আমার মায়ের সঙ্গে গিয়ে ভর্তি হয়ে আজ আমি সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছি। বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় আলামীন। তার মতো সুবিধা বঞ্চিত অন্য ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখার সুযোগ করে দেয়ারও আহ্বান জানায় সে।

গোপালগঞ্জ জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার প্রশিক্ষক সমনয়ক ডালিয়া সুলতানা বলেন, আনন্দ স্কুলের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনে বেদনাময় নানা ঘটনা রয়েছে। সেসব কারণে তাদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। সমাজের অবহেলিত ও বঞ্চিত ছেলে-মেয়েদের মনের স্বপ্ন ভেঙে যায়নি। সে স্বপ্ন নিয়েই আবারও তারা পড়ালেখার সুযোগ পেয়েছে। তাদের এ সুযোগ আরও বাড়িয়ে দিতে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের পড়ালেখার সুযোগ বাড়াতে আহ্বান জানান তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের আওতাধীন রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন (রক্স) ফেইজ-২ প্রকল্পের আনন্দ স্কুল থেকে ৩১ হাজার ৫৮১ জন শিক্ষার্থী সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২৪ হাজার ৫৯৬ জন কৃতকার্য হয়। এদের মধ্যে ৬২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়। সুবিধা বঞ্চিত এসব শিক্ষার্থীদের কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল করায় তাদের সংবর্ধনা দেয়া হয়।

সারাদেশে ১২১টি উপজেলায় আনন্দ স্কুলের কার্যক্রম রয়েছে। এসব স্কুলে একজন শিক্ষক, একটি শ্রেণি কক্ষ এবং ৮ থেকে ১৪ বছরের কম বয়সী সুবিধা বঞ্চিত শিশুরা পড়ালেখার সুযোগ পাচ্ছে। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখার পর শিক্ষার্থীদের প্রি-ভকেশনাল ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে কর্মদক্ষ করে তোলা হয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শতভাগ শিক্ষার্থীকে স্কুলমুখী করা সম্ভব হলেও মানসম্মত শিক্ষা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব নেই। কিন্তু গুণগত শিক্ষার সংকট রয়েছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক অগ্রগতি হলেও সেখান থেকে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা দিতে পারলে কর্মসংস্থানের অভাব হবে না। দেশের সন্তানরা বিশ্বের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আসিক উজ জামান, অধিদফতরের মহাপরিচাক আবু হেনা মোস্তফা কামাল, বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর মিসেস রাজেসার এস পারালকার প্রমুখ।

এসএস/ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।