কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাবি-শাহবাগে মানববন্ধন, মিছিল


ঢাবি টাইমস
Published: 2018-02-17 07:36:42 BdST | Updated: 2018-09-25 10:11:24 BdST

বিসিএসসহ সকল প্রকার সরকারি-বেসরকারি নিয়োগে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থা সংস্কার ও শিথিল করার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহবাগ এলাকায় মানববন্ধন করছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র সংরক্ষণ পরিষদ। এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী নেয়। 

শনিবার সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া মানব্বন্ধনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ শিক্ষার্থীরা এতে যোগ দেয়। একইসাথে সারাদেশে বিভিন্ন জেলায় একযোগে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে রাস্তা অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে। এর আগে তারা শাহবাগ জাতীয় যাদুঘর থেকে মিছিল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি)-তে পৌঁছে সমাবেশ করে। এরপর রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে রাস্তা অবরোধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা। এর ফলে শাহবাগ, টিএসসি ও হাইকোর্ট এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় ৷

এ ব্যাপারে আন্দোলনকারীদের একজন রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আমাদের দাবি হলো, কোটা বৈষম্য দূর করতে হবে। চাকরিতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। সর্বোচ্চ ১০% কোটা রাখতে হবে। কারণ অধিক কোটার কারণে মেধাবীরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন বলেন, ‘মূলত মেধাবীরা যাতে দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক জায়গায় যেতে পারে, এজন্য কোটা সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি। আমরা কোটার বিপক্ষে না। কোটা কমিয়ে ১০ শতাংশ করার দাবি জানাচ্ছি। ৫৬ শতাংশ কোটার রাখার কারণে প্রকৃত মেধাবীরা যোগ্যতা থাকার পরও চাকরি পাচ্ছে না।’

‘কোটা সংস্কার চাই’ নামক ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থী শিক্ষার্থীরা এই মানববন্ধনের ঘোষণা দেয়। 

মানববন্ধন ও মিছিলের ভিডিও

মানববন্ধনের আয়োজক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পোস্টে জানা যায়: তারা মূলত কোটা ব্যবস্থার বিরোধী নয়। তবে বর্তমানে নিয়োগের ক্ষেত্রে যেভাবে বিভিন্ন কোটা দেওয়া হচ্ছে, তাতে প্রকৃত মেধাবীরা অন্যায়ের শিকার হচ্ছেন বলে তারা মনে করেন। তাই তাদের দাবি, মেধার ভিত্তিতে অন্তত ৯০ শতাংশ নিয়োগ দেওয়া হোক। বাকি ১০ শতাংশ নিয়োগ কোটা ব্যবস্থার মাধ্যমে দেওয়া যেতে পারে।

‘এক্ষেত্রে কোটা ব্যবস্থা সংস্কার এবং একই ব্যক্তি যাতে বারবার কোটা ব্যবস্থার সুযোগ নিতে পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এর মাধ্যমেই মূলত: মুক্তিযোদ্ধাসহ অন্যান্য কোটাধারীরা উপকৃত হবেন’, বলছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

তাদের দাবিগুলো হচ্ছে:

১) কোটা সংস্কারের জন্য ১০সদস্য বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করতে হবে, যার প্রধান হবেন ড. আকবর আলী খান।

২) ২১ দিনের মধ্যে কোটা সংস্কারের পক্ষে যৌক্তিক সুপারিশ জমা দিতে হবে।

৩) যেকোন নিয়োগে কোটা কোনমতেই ১০ শতাংশের বেশি হবে না।

৪) কোটার প্রার্থী পাওয়া না গেলে পদ শুন্য না রেখে মেধা থেকে পদ পূরণ করতে হবে এবং

৫) কোটা সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত বিসিএস এবং ব্যাংকসহ চলমান সকল সরকারী নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ বন্ধ রাখতে হবে।

এসব শিক্ষার্থীরা কোনভাবেই মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কোটার বিরোধী নয় তবে এর সংস্কারের পক্ষে বলেও তারা দাবি করেন।

বিডিবিএস 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।