ছয় কারণে প্রশ্নপত্র ফাঁস


টাইমস প্রতিবেদক
Published: 2018-02-20 13:29:27 BdST | Updated: 2018-09-25 10:11:21 BdST

এসএসসি পরীক্ষায় ধারাবাহিক প্রশ্নপত্র ফাঁসের পেছনে ছয়টি কারণ শনাক্ত করা হয়েছে মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায়। এরমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা না করার অভিযোগ তোলা হয়েছে আইসিটি বিভাগ, মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে।

সভার কার্যপত্রে বলা হয়েছে, ডাকঘর ও রেলপথে প্রশ্নপত্র পৌঁছানোসহ বিভিন্ন কাজে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ সংস্থা জড়িত। ফলে সুষ্ঠুভাবে পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার সহযোগিতা প্রয়োজন।

গত বছরে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে মর্মে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ বছর অধিক সতর্কতার সঙ্গে চলমান পরীক্ষা গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে জাতীয় পর্যায়ে মনিটরিং কমিটি বেশ কয়েকটি সভা করা হয়। সব শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবের সঙ্গে সভা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা প্রশাসন কেন্দ্র সচিবদের নিয়ে আলাদা সভা করা হয়েছে। এ বছর প্রশ্নফাঁসমুক্ত ও ফাঁসের গুজবমুক্ত, সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের জন্য বেশকিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রশ্নফাঁসের প্রক্রিয়া ও সম্ভাবনার মধ্যে যে ছয়টি কারণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো—বিজি প্রেস প্রশ্ন কম্পোজ এডিট, প্রিন্ট ও প্যাকেজিং পর্যায়ে প্রায় ২৫০ ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে। তারা প্রশ্নপত্র কপি করতে না পারলেও তার স্মৃতিতে ধারণ করা সম্ভব। এভাবেও প্রশ্নফাঁস করা সম্ভব হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে ট্রেজারি বা নিরাপত্তা হেফাজত থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোর নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে অনেক কেন্দ্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না অভিযোগ রয়েছে।

তৃতীয়ত, অতিরিক্ত কেন্দ্রের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অথচ সেখানে পর্যাপ্ত জনবলের অভাব রয়েছে। এছাড়া ভেন্যুগুলো থেকে মূল কেন্দ্রগুলোর দূরত্ব অনেক বেশি। ফলে ৩০ মিনিটের আগে কেন্দ্র সচিব প্রশ্ন খুলতে বাধ্য হচ্ছেন। সেখান থেকেও প্রশ্ন ফাঁস হতে পারে।

চতুর্থ কারণ হলো, পরীক্ষার্থী বা পরীক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্তদের স্মার্টফোন নিয়ন্ত্রক করা কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়ছে। গুটি কয়েক কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে মূল প্রশ্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরা তৎপরতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এটা পরীক্ষার শুরুর ১৫ দিন আগে থেকেই শুরু আগে থেকে করা হলে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে।

পঞ্চম কারণ হলো, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের চিহ্নিত করতে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরও বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। এটা পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ১৫দিন আগে থেকে সম্ভব হলে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে। গোয়েন্দা বাহিনীর লোকবল ও অবকাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত স্বল্পতার কারণে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নজরদাবি করা সম্ভব হচ্ছে না। দুষ্কৃতকারীদের তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার ও শাস্তির আওতায় আনতে না পারায় অন্যরাও অপরাধ করতে ভয় পাচ্ছে না। ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ষষ্ঠ কারণ হলো—সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনও ব্যবস্থা নেই বিটিআরসির। ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন আপলোডকারীদের শনাক্ত করা যাচ্ছে না। সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টগুলোকেও শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, ডাক, টেলিযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক খান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদার, আইসিটি সচিব সুবির কিশোর চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিকাল ৩ টা ৪০ মিনিটে বৈঠক শুরু হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক চলে।

উল্লেখ্য, আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে চলমান এসএসসি পরীক্ষা। এরপর ২ এপ্রিল থেকে শুরু হবে এইচএসসি পরীক্ষা।

টিআই/ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।