কন্ট্রোল রুমের দু'রকম নির্দেশনায় বিভ্রান্ত হন পাইলট


টাইমস ডেস্ক
Published: 2018-03-13 11:35:41 BdST | Updated: 2018-05-25 22:56:36 BdST

নেপালের কাঠমুন্ডুতে বিধ্বস্ত বিমানটির পাইলট ত্রিভুবন বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) রুমের দু'রকম নির্দেশনায় বিভ্রান্ত হন। এ ঘটনায় এরই মধ্যে বিমানে থাকা ৭১ জনের মধ্যে ৫০ জন নিহত হয়েছেন।

এটিসির সঙ্গে পাইলটের কথোপকথনের অডিও’র শেষ চার মিনিট বিশ্লেষণ করে নেপালের সংবাদমাধ্যম এই তথ্য জানিয়েছে। অডিওটি এরইমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে ইউটিউবে। তা শুনে বৈমানিকরাও বলছেন, এটিসির নির্দেশনার ফলে প্লেনের ককপিট বিভ্রান্ত হয়েছে। ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়া ওই অডিও শুনে অনেকেই মন্তব্য করছেন, এটা পুরোপুরি এটিসির ভুল। তাদের ভুলের এমন মারাত্মক মাশুল গুনতে হলো বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্টদের।

নেপাল টাইমসের প্রতিবেদনে পাইলটের সঙ্গে এটিসির কথোপকথনের শেষ চার মিনিট বিশ্লেষণ করে বলা হয়, পাইলট ও এটিসির আলাপে বিমানবন্দরের রানওয়ে ০২ (দক্ষিণ প্রান্ত) ও রানওয়ে ২০ (উত্তর প্রান্ত) নিয়ে বিভ্রান্তি (কনফিউশন) বোঝা গেছে। বিএস২১১ যখন এগিয়ে যাচ্ছিল, অন্য প্লেনের নেপালি পাইলটরা শুনতে পান, এটিসি থেকে ইউএস-বাংলার পাইলটকে হুঁশিয়ার করা হচ্ছে যে, তাকে কিছুটা বিভ্রান্ত মনে হচ্ছে এবং তার উচিত রাডার অনুসরণ করা ও বিপজ্জনক পথ থেকে সরে যাওয়া। সেসময় বিমানবন্দরের পাশের পাহাড়ও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিলো না।

বিএস২১১ এর পাইলটের সঙ্গে আলাপের শুরুতেই এটিসিকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি আবারও বলছে রানওয়ে ২০ এর দিকে এগোবেন না।’

এরপর পাইলটকে আবার হুঁশিয়ার করে বলা হয় যেন অবতরণ না করেন, কারণ আরেকটি প্লেন নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

রানওয়ে ২০ বা উত্তর প্রান্তে না নামার জন্য হুঁশিয়ারি পেয়ে পাইলট যখন ডান দিকে ঘুরতে প্রস্তুতি নেন, তখন তাকে আবার এটিসি থেকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি কি রানওয়ে ০২ (দক্ষিণ প্রান্ত) নাকি ২০-এ নামতে চান। তখন পাইলট জবাব দেন, ‘আমরা রানওয়ে ২০-এ নামতে চাই’। এরপর তাকে রানওয়ে-২০ এর শেষ প্রান্তে অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়।

তখন বমবার্ডিয়ার প্লেনটিকে আবার প্রশ্ন করা হয়, তিনি রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন কি-না? পাইলট উত্তর দেন, ‘নেগেটিভ’ অর্থাৎ নেতিবাচক। এতে তাকে আবার ডান দিকে ঘুরতে বলা হয়। তখন বিএস২১১ পাইলট বলেন, ‘অ্যাফারমেটিভ’ অর্থাৎ তিনি রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন। এই অবস্থায় পাইলট বলে ওঠেন, আমরা রানওয়ে ০২-এ নামার প্রস্তুতি নিচ্ছি। যে রানওয়ে নিয়ে কথা হচ্ছিল, এটিসিও তখন তা ভুলে প্লেনটিকে রানওয়ে ০২-নামতে অনুমতি দিয়ে দেয়।

এদিকে তখন ১০ কিলোমিটার দূরে থাকা সেনাবাহিনীর একটি প্লেনকে এটিসি আবার ঠিক উল্টোটিই বলছিল, ‘বাংলাদেশের প্লেনটির জন্য রানওয়ে ২০ চূড়ান্ত।’

শেষ দিকে ইউএস-বাংলার পাইলটের গলায় অস্পষ্ট স্বরে শোনা যাচ্ছিল, ‘স্যার, আমরা কি নামার অনুমতি পেয়েছি?’ কিছুক্ষণ নীরব থেকে এটিসি কন্ট্রোলারকে উচ্চৈঃস্বরে হুঁশিয়ার করে বলতে শোনা যায়, ‘আমি আবারও বলছি, ঘোরাও...’

এরপর কিছুক্ষণ নীরব থাকে সব, ফের এটিসি থেকে অগ্নিসংকেত বাজতে শুরু করে। তার অর্থ, প্লেনটি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং অগ্নিনির্বাপণী সংকেত চালু হয়েছে। এরপর একজন নেপালি পাইলট প্রশ্ন করেন রানওয়ে বন্ধ কি-না, তখন এটিসির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘রানওয়ে বন্ধ’।

এসএম/ ১৩ মার্চ ২০১৮

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।