ঢাবি ক্যাম্পাস ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে, আন্দোলনকারীরা টিএসসিতে অবরুদ্ধ


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-04-09 04:49:46 BdST | Updated: 2018-09-19 00:29:23 BdST

কোটা সংস্কারের আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তারা সেখানে কোটাবিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন। ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক ড এ কে এম গোলাম রব্বানী তাদের টিএসসি থেকে বের করার চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভিসিভবন, ভিসিচত্বর থেকে রোকেয়া হল পর্যন্ত অবস্থান নিয়ে ছাত্রলীগ। বাইরে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য অবস্থান করছেন।

ঘটনাস্থল থেকে আমাদের প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন, টিএসসির ভেতরে অন্তত দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী অবরুদ্ধ অবস্থায় আটকা পড়ে আছেন। বাইরেই রয়েছে পুলিশের রায়ট কারসহ পুলিশ সদস্য। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরাও লাঠিসোঠা নিয়ে অবস্থান করছেন বাইরে।

এর আগে, টিএসসি থেকে শামসুন্নাহার হল হয়ে জগন্নাথ হলের সড়ক ও বাংলা একাডেমি সড়কে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অবস্থান নেওয়ার জন্য আশপাশের কলেজগুলোর থেকেও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এসেছেন ঢাবি ক্যাম্পাসে।

ঢাকা কলেজের একজন ছাত্র নেতা জানান, কেন্দ্র থেকে নির্দেশ পেয়ে ক্যাম্পাসের অন্তত পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী ঢাবিতে এসেছেন। এ সময় বহিরাগত শিক্ষার্থীর সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঠা নিয়ে শোডাউন করতে দেখা গেছে। এখন তারা টিএসসি এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন। টিএসসিতে ঢাবির ছাত্রলীগ নেতাসহ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতারা সেখানে উপস্থিত রয়েছেন।

উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আগুন দেন আন্দোলনকারীরাসর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, টিএসসি থেকে অবরুদ্ধ আন্দোলনকারীদের বের করে আনার চেষ্টা করছেন ঢাবি প্রক্টর ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। কোনও পক্ষের এখন বাড়াবাড়ি করা ঠিক হবে না। যা ঘটার, ঘটে গেছে। আমাদের সিনেট সদস্যরা আছেন, প্রশাসনের লোকজন আছেন। আমরা সবার সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেবো। আহত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যথেষ্ট পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা আছে।’ আটকা পড়া ছাত্রীদের নিরাপদে হলে পৌঁছে দেওয়াটাই এখন সবচেয়ে বিষয় বলে মন্তব্য করেন প্রক্টর।

উল্লেখ্য, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, রবিবার দুপুর ২টায় ঢাবি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের পদযাত্রা শুরু হয়। পরে রাজু ভাস্কর্য হয়ে নীলক্ষেত ও কাঁটাবন ঘুরে পদযাত্রাটি শাহবাগ মোড়ে আসে। বিকাল ৩টা থেকে সেখানেই অবস্থান নেন। এ সময় শাহবাগের আশপাশের সড়ক দিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অবস্থান ধরে রাখলে রাত পৌনে ৮টার দিকে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এ সময় কয়েকজনকে আটকও করে পুলিশ। এরপরই পুলিশ আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দেয়। এ সময় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

পুলিশের অ্যাকশনের পর শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা অবস্থান নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও টিএসসি এলাকায়। সবশেষে তারা ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আক্তারুজ্জামানের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে তারা উপাচার্যের বাসভবনের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং ভেতরে থাকা একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। আশপাশের কয়েকটি মোটরসাইকেলেও তারা আগুন দেন।

পরে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এসে সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠকের আহ্বান জানান। সোমবার সকাল ১১টায় দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বলে জানান তিনি।

বিদিবিএস 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।