আজ দেশ মেতে উঠবে প্রাণের উৎসবে


স্টাফ রিপোর্টার
Published: 2018-04-14 00:24:34 BdST | Updated: 2018-09-19 00:30:00 BdST

প্রকৃতির সবখানেই যেন নতুন সুর। উৎসবের রঙ ছড়িয়ে এসেছে পহেলা বৈশাখ। বিশ্বজুড়ে বাঙালি আজ মেতে উঠবে আনন্দে-উচ্ছ্বাসে। ধর্ম-বর্ণ, নির্বিশেষে সব বাঙাালীর একমাত্র অসাম্প্রদায়িক উৎসব পহেলা বৈশাখ। সব গ্লানি মুছে নবোদ্যমে শুরু হবে পথচলা। পুরনো সব ব্যর্থতা গ্লানি, বঞ্চনা, দুঃখকষ্ট ও আবর্জনার জঞ্জাল সরিয়ে নতুন আশা, কর্মোদ্দীপনা, স্বপ্ন, প্রত্যয় ও প্রাণশক্তিতে উজ্জীবিত হওয়ার ডাক দিচ্ছে বাংলা নববর্ষ ১৪২৫। শুভ নববর্ষ।

আজ প্রভাতে পূর্বাকাশে লাল টকটকে সূর্যের কিরণছটার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে নতুন বছর। উৎসবময় অনুভূতি সঙ্গী করে নিদ্রাভঙ্গ হয়েছে বাঙালির। বাঙালির সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসব পহেলা বৈশাখ। নতুন করে যাত্রা শুরুর মুহূর্তে সবাই গেয়ে উঠবে, 'তাপসনিশ্বাসবায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে,/ বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক॥/যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে-যাওয়া গীতি,/ অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক॥/ মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা,/ অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।'

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটি। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এ উপলক্ষে সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করছে বিশেষ সংখ্যা । রেডিও-টেলিভিশনে প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।

এবছর রাজধানীতে রমনার বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশে উন্মুক্ত স্থানে পহেলা বৈশাখের (বাংলা নববর্ষ) অনুষ্ঠান চলবে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যেই অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে। শুধু রবীন্দ্র সরোবরে অনুষ্ঠান চলবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত।
এদিকে রাজধানী ঢাকায় পহেলা বৈশাখের প্রতিটি অনুষ্ঠানস্থলকে সম্পূর্ণ ধূমপান, ভুভুজেলা ও যৌন নিপীড়নমুক্ত রাখতে ডিএমপির মোবাইল কোর্ট থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, বৈশাখের সব অনুষ্ঠানস্থল ধূমপানমুক্ত রাখতে নিরাপত্তাকর্মীরা কাজ করবে। কেউ অনুষ্ঠানস্থলে ধূমপান করলে সেখানে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে কেউ যেন যৌন নিপীড়নের শিকার না হন, সেজন্য সিভিল পোশাকে পুলিশের বিশেষ টিম গোটা অনুষ্ঠানস্থলে কাজ করবে। একইসঙ্গে পয়লা বৈশাখে কেউ কেউ ভুভুজেলা বাজিয়ে নারীদের উত্ত্যক্ত করে। এ জন্য ভুভুজেলা নিষিদ্ধ থাকবে। আমাদের ভ্রাম্যমাণ মোবাইল কোর্ট থাকবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, পহেলা বৈশাখের সব অনুষ্ঠানস্থল ঘিরে থাকবে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য। থাকবে ওয়াচ টাওয়ার, টহল ডিউটি, ফুট পেট্রোলিং, লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার, পুলিশের সাব কন্ট্রোল রুম, পুলিশ ব্লাড ব্যাংক ও প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র, ডগ স্কেয়াড দিয়ে সোয়াইপিং, সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ফায়ার টেন্ডার, অ্যাম্বুলেন্স, নৌপুলিশের ডুবুুরি দল। এছাড়া, গোটা এলাকাকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। সব দর্শনার্থীকে আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেকটর ও ম্যানুয়ালি চেকিংয়ের পর অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে।

কর্মসূচি : অন্যান্যবারের মতো এবারও পহেলা বৈশাখের মূল আয়োজন হবে রমনা উদ্যানের অশ্বত্থমূলে, যা বটমূল হিসেবে পরিচিত। সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। এ উপলক্ষে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় নানা কর্মসূচি নিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্ব-স্ব উদ্যোগে অনুষ্ঠান হবে।

এ ছাড়া বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, শিশু একাডেমি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলা, মুক্তিযোদ্ধা ক্লাব, বেণুকা ললিতকলা কেন্দ্র, বাংলা মা, গুলশান সাউথ পার্ক ক্লাব লিমিটেড, প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

রাজধানীর পাঁচতারকা সোনারগাঁও হোটেল, র‌্যাডিসন ব্লু, ওয়েস্টিন, ঢাকা রিজেন্সি, খাজানাসহ হোটেল- রেস্টুরেন্টগুলো করেছে বিশেষ আয়োজন। ঢাকা ক্লাব, গুলশান ক্লাব, উত্তরা ক্লাবও করেছে নানা আয়োজন।

এসজে/ ১৩ এপ্রিল ২০১৮

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।