শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে কোটা সংস্কার করা হবে: জয়


টাইমস প্রতিবেদক
Published: 2018-04-15 18:10:53 BdST | Updated: 2018-04-24 16:55:41 BdST

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের আন্দোলনের প্রসঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে কোটা সংস্কার করবে সরকার। এসময় তরুণদের সীমিত সরকারি চাকরির পেছনে না ঘুরে সম্ভাবনার আইটিখাতে আসার আহ্বান জানান তিনি।

রোববার (১৫ এপ্রিল) বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং-বিপিও সামিট উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। বাংলাদেশকে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে তৃতীয়বারের মতো দুই দিনের এই বিপিও সামিট আয়োজন করা হয়।

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপপ্রচার বিষয়ে তিনি বলে, ফেসবুকে অপপ্রচার যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা দুনিয়াতেই হচ্ছে। এরপরও ফেসবুক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।তবে তিনি বলেন, ‘আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি, যেসব কনটেন্টের মাধ্যমে অপ্রপ্রচার চালানো হয় বা কালো কনটেন্টগুলো কিভাবে ব্লক করা যায়। এ বিষয়ে প্রশিক্ষণেরও পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ফেসবুক বিপজ্জনক। অনেকেই এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেন। আমার স্ত্রী ক্রিস্টিনা একটু পরপরই ফেসবুক চেক করেন। আমি এটাকে ফেইকবুক বলি। এটা একটা কাল্পনিক, মিথ্যা জগত।’

‘ভাস্ট প্লেস (বিশাল জগত)। এর কোনো সীমা নেই। এটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ব্লক করাও সম্ভব নয়। ইন্টারনেটে কোনো কিছু ব্লক করে আটকানো যায় না। ব্লক করাটা আপনারাও চাইবেন না’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, ফেসবুকে উস্কানি বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির জন্য যে কালো কন্টেন্ট দেয়া হয়, সে কালো কনটেন্টগুলো ব্লক করা হবে। কেননা, এসবের মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের উস্কানি দেয়া হয়। পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে উস্কানি দেয়া হয়।

সজীব ওয়াজেদ বলেন, ফেসবুকে কারো মন্তব্য করা সেটা তার বাকস্বাধীনতা। কিন্তু এর মাধ্যমে উস্কানি দেয়া উচিত নয়। আমাদের সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি খসড়া করে ফেলেছে। এর মাধ্যমে কারো বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, উস্কানি রোধ এই আইনের উদ্দেশ্য।

আইটি খাতে তরুণদের সম্পৃক্ততার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে ৭ লাখ তরুণ তাদের নিজেদের মতো করে ইন্টারনেটে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছে। কারো অধীনে নয়, বরং নিজের অধীনে, নিজেই পছন্দ করে ঘরে বসে কাজ করছে। বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক চাহিদায় আউটসোর্সিংয়ে এক নম্বরে আছে। আমাদের রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা।

সজীব ওয়াজেদ বলেন, বিপিও’র জন্য প্রয়োজন বিদ্যুৎ ও ব্রডব্যান্ড। আমরা দুটোই নিশ্চিত করেছি। ১০ বছর আগেও ইন্টারনেট খরচ ছিল ১ হাজার মার্কিন ডলার। আর এখন সেটা হাতের নাগালে। এজন্যই দেশের তরুণ সমাজ ঘরে বসে আয় করে। যেটা ১০ বছর আগে চিন্তাই করা যেত না। গ্রাম পর্যায়ে আউটসোর্সিয়ের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। আমরা ৭ লাখ তরুণের ডিজিটাল কর্মসংস্থান করেছি।

অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ, বাংলাদেশ অ্যায়োসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান শরীফ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

টিঅাই/ ১৫ এপ্রিল ২০১৮

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।