কারখানা মালিকদের পরামর্শ নিয়ে হবে কারিগরি শিক্ষার পাঠ্যসূচি


টাইমস প্রতিবেদক
Published: 2018-04-16 09:58:00 BdST | Updated: 2018-08-20 22:45:23 BdST

কারিগরি শিক্ষাকে বাস্তবমুখী করতে দেশের কলকারখানার মালিকদের পরামর্শ নিয়ে এ শিক্ষার পাঠ্যসূচি নির্ধারণ করবে সরকার। এছাড়া, আগামী বছর অষ্টম শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষার দুই-একটি বিষয় অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

রোববার (১৫ এপ্রিল) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ আয়োজিত স্কিলস অ্যান্ড ট্রেনিং এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (STEP) এর আওতায় ‘এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন ট্রেনিং (TVET) কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন’ শীর্ষক একটি কর্মশালায় একথা বলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) মো. আবুল কালাম আজাদ। সভাপতিত্ব করেন কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর।

কারিগরি শিক্ষাকে আরও জনপ্রিয় করার ওপর গুরুত্বারোপ করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে ‘ভিশন ২০২১’ অর্জন করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে জনপ্রিয় করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। দেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করার যে লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে, তা অর্জনের জন্য মানসম্পন্ন কারিগরি শিক্ষা বিস্তারের কোনও বিকল্প নেই। আমরা ইতোমধ্যে কারিগরি শিক্ষায় ১৪ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি নিশ্চিত করেছি। ২০২০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ ও ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশে উন্নীত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রতি উপজেলায় একটি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ২৩টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, চারটি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, আটটি মহিলা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্থাপনেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে কারিগরি শিক্ষার জোয়ার শুরু হয়েছে, তাই বেসরকারি উদ্যোগে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার প্রতিযোগিতা চলছে। আগামী বছর অষ্টম শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষার দুই-একটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করার চিন্তা করছে সরকার। কলকারখানার মালিকরাই কারিগরি শিক্ষার সিলেবাস তথা পাঠ্যসূচী নির্ধারণ করবেন। কলকারখানার মালিকরা বলবেন, ওনারা কী চান? সেই অনুযায়ী আমরা সিলেবাস তৈরি করব, যাতে পাস করে কেউ বেকার না থাকে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কারিগরি শিক্ষাকে আমাদের কুটিরশিল্পের মতো ঘরে ঘরে গড়ে তুলতে হবে। কারণ উন্নত দেশ কারিগরি শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে উন্নতি করেছে। আমাদেরও উন্নতি করতে হলে কারিগরি শিক্ষায় উন্নত হতে হবে। এজন্য আমাদের এখন থেকেই উদ্যোগ নিতে হবে।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অপারেশন অফিসার ড. মোখলেছুর রহমান এবং আইডিইবির সভাপতি এ কে এম এ হামিদ এবং সরকারি-বেসরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিল্পকারখানার মালিক, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

এসজে/ ১৬ এপ্রিল ২০১৮

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।