এ বছর বাংলাদেশ থেকে এমআইটিতে পড়তে যাচ্ছেন নিশাত


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-04-24 15:15:40 BdST | Updated: 2018-10-23 14:37:47 BdST

পরিসংখ্যানটা চোখ কপালে তুলে দেওয়ার মতোই বটে! ১৯০১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ৮৯২ জন, তাঁদের মধ্যে ৯১ জন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) সাবেক শিক্ষার্থী। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়ে এসেছেন দুনিয়া কাঁপানো অসংখ্য গবেষক, প্রকৌশলী, উদ্যোক্তা...। সারা পৃথিবীর কিশোর, তরুণদের কাছে এমআইটি তাই স্বপ্নের শিক্ষাঙ্গন। বাংলাদেশের কয়েকজন শিক্ষার্থীও এমআইটিতে পড়েছেন, পড়ছেন। পাস করে কেউ কেউ দেশে-বিদেশে গবেষণা, শিক্ষকতা কিংবা অন্যান্য পেশায় যুক্ত আছেন। তাঁদের মধ্যে একজন নাজিয়া চৌধুরী। এমআইটির এই স্নাতক এখন ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরে গবেষণা করছেন। অন্যদিকে সিলেটের মেয়ে নিশাত ফাহমিদা এ বছরই এমআইটিতে পড়তে যাচ্ছেন।

আমার জন্য এমআইটির দরজা খুলে দিয়েছে আন্তর্জাতিক পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াড। সিলেটের ব্লুবার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়েছি। উচ্চমাধ্যমিক পড়েছি সিলেট সরকারি মহিলা কলেজে। ছোটবেলায় গণিতের প্রতি আগ্রহ ছিল। ক্লাস ফাইভ থেকে গণিত অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়েছি। ক্লাস সেভেন-এইটের দিকে উঠে বুঝতে পারলাম, আমার বেশি ভালো লাগে পদার্থবিজ্ঞান। তখন গণিতের চেয়ে পদার্থবিজ্ঞানটাই বেশি জোর দিয়ে পড়া শুরু করলাম। ফিজিকস অলিম্পিয়াডে অংশ নিলাম। এশিয়ান ফিজিকস অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়েছি ২০১৬ সালে। ২০১৭ সালে গিয়েছি আন্তর্জাতিক ফিজিকস অলিম্পিয়াডে। সেবার আমি ব্রোঞ্জ পেয়েছিলাম।

পদার্থবিজ্ঞান পরিবার...
আমার বাবার নাম আবদুল হান্নান। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান পড়ান। মা সুলতানা রোকেয়া পারভীনও পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক। তিনি পড়ান সিলেটের সরকারি অগ্রগ্রামী বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে। মা-বাবা পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক বলেই হয়তো পদার্থবিজ্ঞানটা বেশি ভালো লাগে। পদার্থবিজ্ঞানের যেকোনো সমস্যা নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে আলাপ করতে পারি। একটা সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত শান্তি পাই না। মাঝেমধ্যে এমনও হয়েছে, সমস্যার সমাধান পাচ্ছি না বলে সারা রাত ঘুম হয় না। স্কুল-কলেজের পড়ালেখার তুলনায় পদার্থবিজ্ঞানের সমস্যা সমাধানেই বেশি সময় দিয়েছি। নিয়মিত অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে গিয়ে কলেজে একটু অনিয়মিত হয়ে পড়েছিলাম। তাই মা-বাবা খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকে জিপিএ-৫ ছুটে যায়নি।

এমআইটি যাত্রা...

আমি প্রস্তুতি শুরু করেছিলাম একটু দেরি করে। তবু আশা ছিল, হয়তো হয়ে যাবে। ভর্তির জন্য আবেদন করার সময় ৫টা প্রশ্নের উত্তরে ৫টা রচনা লিখতে হয়। প্রতিটা প্রশ্নের উত্তরই আমি একটু ভিন্নভাবে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। একটা প্রশ্ন ছিল, আমার জীবনের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতা কী? যখন সাঁতার শিখতে গিয়েছি, শুরুতে ধাক্কা মেরে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনাটাই লিখেছি গল্পের মতো করে। প্রশ্নটা আমার কাছে খুব মজার মনে হয়েছে। ভর্তির পুরো প্রক্রিয়ার সময় গণিত অলিম্পিয়াড ও ফিজিকস অলিম্পিয়াডের ভাইয়া-আপুরা ভীষণ সাহায্য করেছেন। যাঁরা দেশের বাইরের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন, তাঁরা সব সময় পরামর্শ দিয়েছেন। এখন এমআইটিতে যাওয়ার অপেক্ষা...। এর আগে নাজিয়া আপু, শিঞ্জিনী আপু, ঊর্মি আপু, বৃষ্টি আপুরা এমআইটিতে পড়েছেন। তাঁদের দেখে সাহস পাচ্ছি। বৃষ্টি আপুর সঙ্গে প্রায়ই কথা হয়। কোন কোর্সগুলো আগে নেব, কী করব না করব...এসব নিয়ে আপু পরামর্শ দেন। সেখানকার ক্যাম্পাসজীবন কেমন হবে, ভেবে একটু ভয় ভয় লাগছে। তবে গবেষণাগারগুলোর কথা ভেবে বেশ রোমাঞ্চ অনুভব করছি। নিশ্চয়ই সেখানে দারুণ একটা সময় কাটবে।

বিদিবিএস 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।