ছাত্রলীগের ২ নেতার মানবিকতায় মা ফিরে পেলো তার মাকে


ঢাবি টাইমস
Published: 2018-05-27 21:53:18 BdST | Updated: 2018-08-16 14:19:59 BdST

শুক্রবার নামাজ শেষে সবাই হলে ফিরছিলো। কয়েকজন মানুষের চোখে পরে রেজিস্টার বিল্ডিংয়ের উত্তর পাশের ড্রেনে একজন মহিলা পড়ে আছে, ময়লা পানি খাচ্ছে। সবাই দাড়িয়ে দেখছে, কেউ চলে যাচ্ছে কেউ সাহায্য করতে চাইলেও সাহস করছেনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই সহ - সভাপতি মুহাঃ মাহমুদুল হাসান ও বেনজির আহমেদ দেখেন এই অবস্থা। উদ্যোগ নেন মহিলাকে বাঁচাতে। কয়েকজন রিক্সাওয়ালা ও ক্যান্টিনবয়ের সহযোগিতায় তারা ড্রেন থেকে মাটিতে তুলে আনেন। বিবস্ত্র মহিলাকে কম্বল জড়িয়ে দেন তারা। ৯৯৯ এ ফোন দেয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে চলে আসে শাহবাগ থানার এসআই মশিউরের মোবাইল টিম।

কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। এসআই মশিউরের সহযোগিতায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেলে। এর মধ্যে ক্যান্টিনে রান্না করে এমন একজন মহিলা তার কাপড় এনে পড়িয়ে দেন। বিড়বিড় করে কিছু কিছু তথ্য দিতে থাকেন। নাম নুরুন্নাহার বেবি, বাসা খাল্লা, বাঞ্চারামপুর, ব্রাক্ষ্মনবাড়ীয়া। মাহমুদ - বেনজির তাদের নিজ ফেসবুক একাউন্টে ছবিসহ পোস্ট দেন। মূহুর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। বিভিন্ন টেস্ট করে হাসপাতালে সাময়িক চিকিৎসা শেষে অপেক্ষা করতে থাকেন অভিভাবকের।

ফেসবুকের কল্যানে পাঁচঘন্টার মাথায় মায়ের সন্ধান পান উদ্ধারকারীরা। সন্ধ্যা আটটার দিকে মা আসেন। তাদের মিলিত হবার মূহুর্তটি আবেগঘন, দেখার মতো। কিন্তু তার মায়ের অবস্থাও ততটা ভালোনা বৃদ্ধ মহিলা। পরে উদ্ধারকারীরা টাকা পয়সা দিয়ে খাবার ও ঔষধ কিনে দিয়ে হাসপাতালের ৯ তলায় রাখার ব্যবস্থা করেন। পরেরদিন আউটডোরে মানসিক ডাক্তার দেখিয়ে বাসায় যাবেন।

টিএসসিভিত্তিক সকল সংগঠণের সভাপতি- সাধারণ সম্পাদকদের ' টিএসসিওয়ালার ফান্ড থেকে দুই হাজার টাকা সাহায্য দেওয়া হয়। পরেরদিন তার স্বামী আসেন। তিনি ডাক্তার দেখিয়ে তাকে ফেরত নিয়ে যান।

মায়ের প্রতি ভালোবাসা 

তার স্বামী শামসুল আলম, ক্যাম্পাসটাইমসকে বলেন, যারা উদ্ধার করেছেন তাদের প্রতি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো আমরা। তার মা বলেন, বাবা এই ছেলে দুটো ফেরেশতা হয়ে আমার মেয়ের জন্য এসেছে। আসি নামাজ পড়ে সারাজীবন তাদের জন্য দোয়া করবো।

উদ্ধারকারী বেনজির আহমেদ বলেন, আমরা তাকে দেখতে পেয়ে হাসপাতালে পৌছে দেই। জাতীয় সেবা ৯৯৯ কল দিলে তাৎক্ষণিক পুলিশ এসে আমাদের সাহায্য করেন। মানবতার জায়গা থেকে আমরা করেছি। একজন মায়ের জন্য করেছি।
মাহমুদ বলেন, তিনি একজন মা, যেভাবে পড়ে ছিলেন আমাদের বিবেকে নাড়া দিয়েছে। নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে আগে তাকে উদ্ধার করি। পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে তার পরিবারের খোঁজ পাই। এক্ষেত্রে দেশি বিদেশি যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের অনেক ধন্যবাদ।

উল্লেখ্য যে, নুরুন্নাহার বেবির বিয়ের পনের বছরেও কোন বাচ্চা না হওয়ায় মানসিক সমস্যায় ভুগতো। সম্প্রীতি স্বামীর একটা সমস্যায় মানসিক ভারসম্য প্রকট ধারণ করে। স্বামীর বাড়ি থেকে মায়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। ফেরার পথে দিকভ্রম হন। যেকারনে তারা বুঝতেই পারেনি এতদূর এসেছে।

বিদিবিএস 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।