শিশু শিক্ষার্থী নির্যাতনে তিন মাসে ১১ শিক্ষকের শাস্তি


টাইমস প্রতিবেদক
Published: 2018-07-22 08:08:29 BdST | Updated: 2018-08-17 23:08:28 BdST

শিশু শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বন্ধে সরকারের কঠোর নির্দেশনা থাকলেও তা বন্ধ হচ্ছে না। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে বা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করছেন শিক্ষকরা। শারীরিক নির্যাতনে গত তিন মাসে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১ জন শিক্ষককে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। এদের মধ্যে তিন জন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (বিদ্যালয়) মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী নির্যাতন নিন্দনীয় কাজ। এটি বন্ধে আমরা কঠোরভাবে নির্দেশনা দিয়েছি অধিদফতরকে। তারা চেষ্টা করছেন নির্যাতন বন্ধ করার। আমরা প্রয়োজনে আরও কঠোর হবো। নির্যাতন শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে চাই।’

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে গত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এই তিন মাসে ১১ জন শিক্ষককে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা, প্রথমবারের মতো অভিযুক্ত হওয়ায় সতর্ক করা ও লঘু দণ্ড দিয়ে সাবধান করা হয়েছে। এমনকি ইনক্রিমেন্ট স্থগিত করা হয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষকদের শাস্তি নিশ্চিত করে গত ১১ জুলাই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি অবহিত করা হয়। অধিদফতরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) শেখ জসিম উদ্দিন আহাম্মেদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই বছরের এপ্রিল থেকে জুন মাসের হালনাগাদ তথ্য জানানো হয়।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ইউসুফ আলী, কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার মহিদেব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং নাটোর সদরের জয়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাবুত ফারহানা মুন্নিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পাশাপাশি এই তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলছে।

শাস্তিমূলক বদলি (দূরে বদলি) করা হয়েছে পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শাহিনুর রহমানকে। নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার গয়েশপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাদিরা আখতারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রজু করা হয়েছে। লঘুদণ্ড হিসেবে তিরষ্কার করা হয়েছে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সালামা বানু ও জয়পুরহাট সদরের জয়পুরহাট নার্সারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোছা. সানজিদা বেগমকে। বিভাগীয় মামলা দায়ের করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রথমবারের মতো সতর্ক করা হয়েছে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার মোল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরকারী শিক্ষক মোছা. নুরজাহান খাতুনকে। শাস্তি হিসেবে দূরে বদলি করা হয়েছে বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলার দাউদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন কুমার সরকারকে। রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকন্দি উপজেলার গণপূর্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রলয় চ্যাটার্জীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।

এছাড়া নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর চাঁদখানা বেগম নুরুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোছা. সামছি সাদিয়া সিদ্দিকার বাৎসরিক দু’টি ইনক্রিমেন্ট দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, আগেও শিক্ষকদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার পরও শিক্ষকরা শারীরিক নির্যাতন করছেন। তবে আগের চেয়ে পরিস্থিতি অনেকটাই ভালো। মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ থাকলেও এবার শাস্তির আওতায় আসেনি কোনও শিক্ষক। এর আগে যৌন হয়রানির অভিযোগেও একজন শিক্ষককে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

এমএন/ ২২ জুলাই ২০১৮

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।