গো-হাকিম


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2019-08-25 06:48:18 BdST | Updated: 2019-11-12 03:02:00 BdST

‘গো-হাকিম’ কাহিনীটা বাংলাদেশের হালফিল সাংস্কৃতিক মানদ- অনুসারে একটি দীর্ঘ কবিতা। আহমদ ছফা রচনাবলি সম্পাদক নূরুল আনোয়ার আহমদ ছফার আত্মীয়, তাহার পুত্রস্থানীয় সাহিত্য সাধক। ‘গো-হাকিম’, আনোয়ার লিখিয়াছেন, ‘শিশুতোষ ছড়াগ্রন্থ’। আর অজিত রায় লিখিয়াছেন, ছড়া মনে হইলেও কাহিনীটি নিছক ছড়া নহে। বিলক্ষণ ছক আছে ইহার। এই লেখকের মতে, এই লেখায় ইংরেজ কবি আলেকজান্ডার পোপ (১৬৮৮-১৭৪৪) কিংবা জন ড্রাইডেনের (১৬৩১-১৭০০) প্রভাব দেখা যায়। মানে শিশুতোষ ছড়ার আড়ালে এখানে আহমদ ছফা বড়তোষ ব্যবসায়ে নামিয়াছেন।

কথাটা পুরোপুরি অসার নহে। অজিত রায় ঠিকই ধরিয়াছেন, ‘একটি গো-শাবকের হাকিম হয়ে ওঠার কাহিনীই হচ্ছে গো-হাকিমের বিষয়বস্তু।’ তিনি শুদ্ধ একটি কথা বলিতে ভুলিয়াছেন। হাকিম হইবার পরও গো-শাবককে কবুল করিতে হইয়াছে, তিনি গো-শাবকই আছেন। গো-শাবকের হাকিম হইয়া ওঠা হইতেছে ‘আরোহ’, আর হাকিমের পুনরায় গো-শাবক হইয়া ওঠার যে কথাটি অজিত রায় ভুলিয়াছেন তাহার নাম ‘অবরোহ’। কবিতায় অবশ্য বিষয়বস্তুই শেষ কথা নহে। তাহার অঙ্গগঠনও স্বতন্ত্র সত্যবস্তু। ‘গো-হাকিম’ কবিতায় মোট ১৩২ জোড়া চরণ। প্রতি চরণই মাঝখানে ভাঙা। (ছফা ২০০৮ : ২৪১-৬০; ছফা ২০১০ : ৯৬-১১৪)

এই ধরনটি সতেরো কি আঠারো শতকের ইংরেজ কবিদের বিশেষ আলেকজান্ডার পোপেরÑ হাতে বিকশিত হইয়াছিল। এই ইংরেজ কবিরা আবার বর্জিল, জুবেনাল, ওবিদ প্রভৃতি লাতিন কবির তর্জমা করিয়াছিলেন উহাদের আদর্শ অনুসরণও করিয়াছিলেন। শুদ্ধ এই বিদেশি কবিদেরই নহে, নিজ দেশের পুরানা কবি চসারের তর্জমাও সম্পন্ন করিয়াছিলেন জন ড্রাইডেন। আলেকজান্ডার পোপের উত্তরসূরি স্যামুয়েল জনসনও (১৭০৯-১৭৮৪) জুবেনালের কবিতার আদর্শে নতুন নতুন ব্যঙ্গকবিতা রচনা করিতে কসুর করেন নাই। (অ্যাডামস ১৯৮৬ : ২৩১-৩১৪)

লেখক : লেখক ও অধ্যাপক, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস, বাংলাদেশ

[email protected]