বিসিএসে ম্যাজিস্ট্রেসি ছেড়ে আজ দেশবরেণ্য সাংবাদিক


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2017-12-26 21:37:43 BdST | Updated: 2018-08-17 17:48:22 BdST

খালেদ মুহিউদ্দীন। দেশবরেণ্য সাংবাদিক ও টকশো উপস্থাপক । জন্ম ১৯৭৪ সালে ঢাকার গ্রিন রোডে। হারমান মেইনার স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করার পর যুক্তরাজ্যের ওয়েস্ট মিনিস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ করেন। কর্মজীবনের শুরুতে যোগ দেন শীর্ষ জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোয়। এছাড়াও কাজ করেছেন বিডি নিউজ, ওয়াল্ড ব্যাংক, ওয়ারিদ টেলিকম, সাপ্তাহিক কাগজ, সাপ্তাহিক মিডিয়া ওয়াচ এবং আমাদের অর্থনীতিতে। মাঝে বাংলাদেশ সরকারের একজন ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত ছিলেন ১শ’ দিন। ২০১১ সালে যোগ দেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনে। টেলিভিশন স্টেশনটির শুরু থেকেই সেখানে বার্তা বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন খালেদ মুহিউদ্দীন।

এছাড়াও শিক্ষকতা করেন ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর আর ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে। দেশের সম সাময়িক বিষয়াবলী নিয়ে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন আয়োজিত টকশো আজকের বাংলাদেশ-এর উপস্থাপকও তিনি। সম্প্রতি খালেদ মুহিউদ্দীন মুখোমুখি হয়েছিলেন প্রিয়.কম-এর। একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি ব্যক্তি ও কর্মজীবনের নানা বিষয় তুলে ধরেছেন। বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন তরুণ সাংবাদিকদের জন্য। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মেহেদী হাসান। সরকারি চাকরি ছেড়ে সাংবাদিকতায় আসা প্রসঙ্গে: ম্যাজিস্ট্রেট পদ ছেড়ে দিয়ে সাংবাদিকতায় আসা প্রসঙ্গে খালেদ মুহিউদ্দীন বলেন, ‘পড়াশুনা শেষ করার পর বিসিএস দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদানের শুরুতে ভেবেছিলাম হয়তো চাকরিটা করতে পারবো। কিন্তু সরকারি চাকরিতে বেতন অনেক কম এবং আমার বেশি টাকার দরকার ছিল। সে প্রয়োজন থেকেই সরকারি চাকরি ছেড়ে দেয়া।

টকশো উপস্থাপনায় খালেদ 

এছাড়া বেতনের বিষয়টা বাদ দিয়েও যে বিষয়টি ছিল সেটি হচ্ছে সাংবাদিকতা করতে আমার ভালো লাগে এবং সেই ভালো লাগা থেকেই এ পেশায় আসা।’ নিজের কাজ ও ভক্তদের উদ্দেশ্যে: ভক্তদের উদ্দেশ্যে খালেদ মুহিউদ্দীন বলেন, ‘আমি কখনোই মনে করি না যে আইডল হওয়ার মতো কোনো যোগ্যতা আমার আছে। কাজের ক্ষেত্রে আমি সবসময় যে বিষয়টির দিকে লক্ষ্য রাখি তা হচ্ছে, আমি যে কাজটি করি সেটি যেন আমার জন্য চাপ না হয়ে দাঁড়ায় কিংবা চাপের মুখে করলাম কিংবা কেউ আমাকে করতে বলছে বলে করলাম, এরকম চিন্তা ভাবনা নিয়ে যাতে না দাঁড়ায়। আমি মনে করি না কাজের কোনো ছোট বড় আছে। যার যে কাজটি করতে ভালো লাগে। আমি টকশো উপস্থাপনা করি এজন্য বিষয়টা এরকম না যে কাউকে আমাকে অনুকরণ করতে হবে। প্রত্যেকটা মানুষই আলাদা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ তবে কাজের ভালোবাসা থাকতে হবে।’ 

তুহিন হালদার পারিবারিক জীবন ও কর্মজীবন: কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবনের মধ্যে সমন্বয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কাজের জন্য কখনোই আমার পরিবারের জন্য সময় কম দিয়েছি এরকমটি হয়নি। আমার ক্ষেত্রে কখনোই এরকমটি হয়নি যে, ছুটি না নিয়ে আমি টানা কাজ করেছি। আমি আমার কাজকে যেমন উপভোগ করতে চাই, তেমনি আমার প্রিয়জনদেরকেও ঠিক একই ভাবে কাছে পেতে পাই। কর্মজীবনের শুরু থেকেই আমি নিয়ম করে ছুটি কাটাই। এছাড়াও বছরে একবার দীর্ঘ সময় নিয়ে পরিবারকে সাথে নিয়ে ঢাকার বাইরে কোথাও ঘুরে আসার চেষ্টা করি। কর্ম জীবনের ব্যস্ততা থাকবে এজন্য ব্যাপারটা এরকম না যে আমি আমার মতো করে সময় ম্যানেজ করে নিতে পারবো না।’ ঈদ উদযাপন: ছোট বেলায় উদযাপিত ঈদের সঙ্গে এখনকার ঈদ উদযাপনে তেমন কোনো পার্থক্য নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে ঈদ মানেই আনন্দের দিন। ছোট বেলার সাথে তুলনা করলে এখনকার ঈদের আনন্দ যে খুব একটা কমে গেছে তা ঠিক না। এখনো ঈদে ছুটি থাকে, তখন ছোট বেলার বন্ধুদের সাথে একসাথে অনেকটা সময় কাটাই তেমন কোন পার্থক্য অনুভব করি না।’

সাংবাদিকতা জীবনের স্মৃতি: ‘সাংবাদিকতায় অনেকেরই হয়তো অনেক ভালো কোনো অভিজ্ঞতা থাকে তবে যে স্মৃতিটির কথা আজো মনে পড়ে সেটি হচ্ছে একবার প্রথম আলোতে আমি এক প্রতিবেদনের শিরোনামে দিয়েছিলাম, এসএসসি পরীক্ষা আজ ১০ টায়, না লিখে আমি লিখেছিলাম এসএসসি পরীক্ষা আজ ২ টায়। তখন নিউজ এডিটর জিজ্ঞাসা করেছিলেন এটা কি তুমি ঠিকভাবে জেনে বলছ? আমি তখন ঠিক বললেও আমি ভুল করেছিলাম, যে বিষয়টি নিয়ে পরের দিন অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়।’ একনাগাড়ে বলে যান খালেদ মুহিউদ্দীন।

সাংবাদিকতায় কোন মহলের চাপ অনুভব প্রসঙ্গে: সাংবাদিকতা করতে গিয়ে কখনো কোনো চাপ অনুভব করেননি উল্লেখ করে খালেদ মুহিউদ্দীন বলেন, ‘আমি আমার কাজের প্রতি সমসময় সিরিয়াস এবং এক্ষেত্রে আমি কখনোই কোনো মহলের চাপ অনুভব করিনি। আমি যদি কোনো কিছু করতে না পারি তবে মনে করি এটা আমার নিজের ব্যর্থতা। আমি নিজের ব্যর্থতাকে কখনোই অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা করবো না। টকশোতে আমাকে যেভাবে দেখা যায় সেটাই আমি। কারো চাপ প্রয়োগের ফলে বদলে যাওয়া আমি না।’

টকশো প্রসঙ্গ: আজকের বাংলাদেশ এর কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের অন্যান্য চ্যানেলের থেকে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের টকশো যদি দর্শক ভিন্ন মনে করে থাকেন তবে সেটি সম্পূর্ণই আমাদের রিসার্স টিমের কৃতিত্ব। কারণ তারাই প্রশ্ন তৈরি করে আমাকে প্রস্তুত রাখে।’ টকশো উপস্থাপনা প্রসঙ্গ: আপনার ভক্তদের বক্তব্য অনেকেই টকশোতে উপস্থাপনায় আপনার মতো স্পষ্ট অবস্থান নিতে পারেন না। তাদের সম্পর্কে কী বলবেন? এমন আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘আসলে কেউই অস্পষ্ট করে কথা বলেন না। একেক জনের কথা বলার ধরন একেক রকম। প্রত্যেকেই আসলে প্রত্যেকের জায়গা থেকে স্পষ্ট করে কথা বলেন। তবে আমার ক্ষেত্রে একটি বিষয় থাকতে পারে যে সাংবাদিকতার যে নিয়মগুলো আছে আমি সেগুলো মেনে চলার চেষ্টা করি এবং আমি কোনো কিছুর প্রতি বায়াস না। আমি কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা বিশ্বাসের প্রতি বায়াস না।’

গোপন তথ্য: নিজের গোপন তথ্যের বিষয়ে বলতে গিয়ে খালেদ মুহিউদ্দীন বলেন, ‘আমার সম্পর্কে কোন গোপন তথ্য নেই যা দর্শকদের চমকে দিতে পারে। আমার সম্পর্কে যে গোপন তথ্যটি আছে, সেটি হচ্ছে আমার যা ভালো লাগে না তা আমি করি না।’ তরুণদের প্রতি পরমর্শ: তরুণ যারা সাংবাদিকতায় আসতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ হিসেবে তিনি বলেন, ‘যারা সাংবাদিকতায় আসতে চায় তাদের সম্পর্কে আমার পরামর্শ হচ্ছে সাংবাদিকতায় থাকতে হলে আপনাকে অনেক ঘটনার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। অনেক সময় অনেক ভালো কিছুও থাকবে।

সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন খালেদ 

আগে আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি আসলেই এটা করতে চান কিনা? আপনি এটা কেন করতে চান? আপনাকে কেউই জোর করে সাংবাদিকতা করাতে পারবেন না।’ খালেদ মুহিউদ্দীন বলেন, ‘যে তরুণেরা সাংবাদিকতায় আসতে চায় তাদের আরেকটি বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং সেটি হচ্ছে আগে ঠিক করতে হবে কেন তারা সাংবাদিক হতে চায়? সহজেই মানুষ চিনবে এজন্য? নাকি আমি আলাদা কোনো কিছু করতেও পারব।’ তিনি মনে করেন, সস্তা জনপ্রিয়তা লাভের উদ্দেশ্যে এখানে না এলেই ভালো হবে।

আসলে একটু পড়াশুনা করে আসতে হবে। প্রিয়’র পাঠকদের উদ্দেশ্যে: প্রিয়’র পাঠকদের অগ্রিম ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে খালেদ মুহিউদ্দিন বলেন, ‘বর্ষা আমার অনেক প্রিয় ঋতু। সুতরাং বর্ষায় নগরবাসী যতটাই ঝঞ্ঝাটের মধ্যেই পড়ুন না কেন একটু উপভোগের চেষ্টা করুন।’ 

লেখাটি প্রিয় ডট কম থেকে নেয়া 

বিডিবিএস 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।