ভিকারুন্নেসা শিক্ষার্থীদের স্বপ্নসারথী হতে চান ডাক্তার মুজিবুর


Dhaka
Published: 2019-09-20 00:03:42 BdST | Updated: 2019-12-15 01:04:31 BdST

দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের আসন্ন গভর্নিং বডির (কলেজ শাখা) অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন-২০১৯-এ প্রার্থী হয়েছেন দেশের একজন শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা-বিজ্ঞানী প্রখ্যাত দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো: মুজিবুর রহমান হাওলাদার। বিজয়ী হলে প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। ইতোপূর্বে ২০০৫, ২০০৮, ২০১৭ সালেও মোট ৩ বার বিপুল ভোটে এই স্বনামখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবক মহলে তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। অভিভাবক সদস্য থাকাকালীন প্রতিষ্ঠানটির সমস্যা, সংকট এবং অসঙ্গতি নিরসনে সে-সময় তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। 

একজন সদস্যের কর্মপরিধিও বাড়িয়ে দেন অনেক। এ-সময় নানা প্রতিবন্ধকতা এবং বিরূপ পরিস্থিতিরও শিকার হন সমাজ সচেতন, জনপ্রিয় এই শিক্ষক। ভিকারুননিসা স্কুল এন্ড কলেজের এবারের নির্বাচনে তাঁর প্রার্থিতা বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা, অতীতের অভিজ্ঞতা এবং নানা কার্যক্রম বিষয়ে অভিভাবক সদস্যদের উদ্দেশ্যে এই প্রতিবেদনে বিস্তারিত তুলে ধরা হল-

কেন তাকে ভোট দেবেন?
০১. ভর্তি বাণিজ্যের বিরোধিতা করায় জীবন-মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছিল (২০০৯ সালে)।
০২. শিক্ষক নিয়োগে বিরোধিতা করায় সন্ত্রাসী হামলার মোকাবেলা করতে (২০১৭ সাল) হয়েছিল।
০৩. ছাত্রী নির্যাতনের (পরিমল জয়ধর কর্তৃক) বিরোধিতা করায় গভর্নিং বডির সদস্যপদ হারাতে হয়েছিল (২০১১ সাল)।
০৪. নটরডেম কলেজের গাজী আজমল, সুশান্ত সরকার, প্রমিলা, মৃদুলা ভট্টাচার্য, অমলকৃষ্ণ, মনোরঞ্জনসহ অনেক শিক্ষককে পার্ট টাইম নিয়োগ দিয়েছিলেন যা বর্তমানে নেই (২০০৭ সাল)।
০৫. শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নে কলেজে Quiz Exam চালু করেছিলেন যা বর্তমানে নেই। (২০০৮ সাল)।
০৬. ছাত্রীবেতন বৃদ্ধির বিরোধিতা করায় গভর্নিং বডির সদস্য থাকা অবস্থায় মামলার শিকার হয়েছিলেন (২০০৯ সাল)।
০৭. স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছিল (২০১০ সাল)।
০৮. প্রতিষ্ঠানের অর্থ লুণ্ঠনকারী, অসৎ ও ভর্তিবাণিজ্যের সাথে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন (২০০৭ সালে)।
০৯. বেআইনী প্রক্রিয়ায়-বিনা টেন্ডারে বসুন্ধরা শাখায় ভবন নির্মাণের বিরোধিতা করায় তাঁর বাসার সামনে ৫০-৬০টি হোন্ডা পাঠিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল। (২০১৭ সালে)।
১০. অনেক বাধা ও প্রতিকূলতা থাকার পরও বসুন্ধরা শাখা নিজস্ব ভবনে স্থানান্তর করেছিলেন (২০০৮ সালে)।
১১. আজিমপুর ও বসুন্ধরায় বিজ্ঞানের ছাত্রীদের জন্য কোন ল্যাব ছিল না, যা তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফসল।
১২. বসুন্ধরা শাখার অভিভাবকদের জন্য ভবনের উত্তর পাশে অভিভাবক শেড স্থাপন করা হয়েছিল যা বর্তমানে নেই (২০০৮ সালে)।
১৩. শ্রেণি শিক্ষার মান উন্নয়নে নিয়মিতভাবে Parent's Meeting-এর উদ্যোগ নিয়েছিলেন যা চলমান রয়েছে।
১৪. জরুরি চিকিৎসা, দুর্ঘটনা মোকাবেলার জন্য মূল শাখার ভিতরে একটি হাসপাতাল স্থাপনের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন যেখানে ০২ জন মহিলা ডাক্তার কর্মরত রয়েছেন।
১৫. অসুস্থ অবস্থায় পরীক্ষা দেয়ার জন্য আমিই প্রথম Sick Bed-এর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন।
১৬. শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক-অভিভাবক-গভর্নিং বডির মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছিলেন।
১৭. বৃত্তিপ্রাপ্ত সকল ছাত্রীদের বিনা বেতনে অধ্যয়নের সরকারি নীতিমালা অনুসরণ এবং মেধাবী অসচ্ছল ছাত্রীদের বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন।
১৮. সৃজনশীল শিক্ষায় জটিল বিষয়ে শিক্ষকদের জন্য  TOT Program-এর আয়োজন করেছিলেন।
১৯. নির্বাচিত হওয়ার পর ছাত্রীদের অনুপস্থিত জরিমানা ৫০% কমানো হয়েছে এবং গত দুই বছর বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাবনা বাতিল করা হয়েছিল জোরালোভাবে তাঁর বিরোধিতায়।
২০. সর্বশেষ, ভিকারুননিসায় অধ্যক্ষ নিয়োগকালীন সময়ে তাঁর পেশাগত আন্তর্জাতিক সম্মলনে সরকারি জি.ও নিয়ে তুরস্ক থাকার পরও (২৩/০৪/২০১৯-০৬/০৫/২০১৯) কিছু তথ্যগত ভুলের কারণে অধ্যক্ষ নিয়োগের অভিযোগে তাঁর নাম জড়িয়ে কিছু পত্রিকা সংবাদ প্রকাশ করে (প্রথম আলো: ৩ জুলাই, ২০১৯) এবং ওই খবরের প্রতিবাদলিপি ছেপে পত্রিকাগুলো ভুল স্বীকার করে নিয়েছে (প্রথম আলো: ১০ জুলাই, ২০১৯ ইং)।

ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদারের পরিচিতি ও সাংগঠনিক কার্যক্রম: 
০১. উপদেষ্টা, সন্ধানী কেন্দ্রীয় পরিষদ।
০২. সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ত্রয়োদশ বিসিএস ফোরাম।
০৩. সাধারণ সম্পাদক, সিদ্ধেশ্বরী সুধী সমাজ, রমনা, ঢাকা।
০৪. উপদেষ্টা, সিদ্ধেশ্বরী হাউজ এন্ড এপার্টমেন্ট ওনার্স এসোসিয়েশন, ঢাকা।
০৫. পৃষ্ঠপোষক, শরীয়তপুর জেলা শিক্ষা ট্রাস্ট, ঢাকা।
০৬. প্রাক্তন সদস্য, গভর্ণিং বডি, ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ।
০৭. প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বাংলাদেশ ডেন্টাল হেলথ্; রিসার্চ ফাউন্ডেশন (BDHRF)।
০৮. প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, বাংলাদেশ চাইল্ড হুড ক্যান্সার সোসাইটি (BCCS)।
০৯. প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ, স্কুল ওরাল হেলথ্ধসঢ়; কেয়ার প্রোগ্রাম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।
১০. প্রাক্তন সদস্য, নটরডেম কলেজ বিজ্ঞান ক্লাব ও ডিবেটিং ক্লাব।
১১. স্বাস্থ্য বিষয়ক জাতীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ স্কাউট।

ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদারের একাডেমিক কৃতিত্ব:
০১. বাংলাদেশে ডেন্টাল সার্জারিতে প্রথম এফ.সি.পি.এস ডিগ্রি লাভ।
০২. কনজারভেটিভ ডেন্টিস্ট্রিতে প্রথম এম.এস ডিগ্রি লাভ।
০৩. ডেন্টিস্ট্রিতে প্রথম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি রিসার্চ ফেলোশীপ লাভ।
০৪. ফ্যাকাল্টি মেম্বার, ফ্যাকাল্টি অব সার্জারি, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস এন্ড সার্জনস (বিসিপিএস), ঢাকা।
০৫. কোর্স কো-অর্ডিনেটর, ডেন্টাল ফ্যাকাল্টি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
০৬. পরীক্ষক, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিসিন ফ্যাকাল্টি।
০৭. ফিজিশিয়ানস; রিকগনিশন এওয়ার্ড লাভ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা(WHO)-১৯৯২
০৮. সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য ‘অনন্যা পুরস্কার ২০০৮’ লাভ।

বই, প্রবন্ধ প্রকাশনা, টিভি প্রোগ্রাম ও জার্নাল সম্পাদনা:
০১. বাংলাদেশ ন্যাশনাল ফরমূলারীতে (BDNF) ‘ডেন্টাল প্র্যাকটিশনার্স ফরমূলারী’- প্রকাশক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা(WHO)।
০২. ‘মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্য পরিচর্যা’- প্রথম প্রকাশ : নভেম্বর ১৯৯৮।
০৩. ‘মা ও শিশুর দাঁতের যত্ন’, প্রথম প্রকাশ : ২০১০।
০৪.  ৪৭টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মেডিকেল ও ডেন্টাল জার্নালে প্রকাশনা।
০৫. জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকায় নিয়মিত মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্য বিষয়ক ৩০০টির বেশি প্রবন্ধ প্রকাশ।
০৬. ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকায় সমকালীন সমস্যা নিয়ে ২১টি সাব এডিটরিয়াল প্রকাশ।
০৭. জাতীয় টেলিভিশনে ‘স্বাস্থ্য তথ্য’ ‘সুখী পরিবার’ প্রত্যাশার আলো’ এবং ‘স্বাস্থ্যসেবা’ নামক অনুষ্ঠানের বক্তা।
০৮. চ্যানেল আই, ইটিভি, এনটিভি, এটিএন, মাই টিভি, দেশ টিভি, এশিয়ান টিভি, বাংলা ভিশন, ইনডিপেন্ডেন্ট ও এসএ টিভিতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানবাধিকার বিষয়ে বক্তা।
০৯. চীফ এডিটর, বাংলাদেশ এন্ডোডন্টিক জার্নাল (BJE)।

প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে বিগত দিনের উল্লেখযোগ্য অবদান:
(ক) শিক্ষা:
০১. অভিভাবকদের সাথে শিক্ষার মান উন্নয়ন, শ্রেণীকক্ষে পাঠদান পদ্ধতি ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে অধ্যক্ষাসহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকার সরাসরি মতবিনিময় সভার আয়োজনে উদ্যোগ গ্রহণ।
০২. আজিমপুর ও বসুন্ধরা কলেজ শাখায় বিজ্ঞানাগার স্থাপনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ।
০৩. বসুন্ধরা শাখায় অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে কলেজ শাখা চালু।
০৪. প্রতিষ্ঠানের ভিতরে চলমান কোচিং-এর উপর অধিক গুরুত্ব আরোপ।
০৫. বিভিন্ন জটিল বিষয়ে সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতিতে শিক্ষকদের জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন।
০৬. ছাত্রী-শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক উন্নয়নে নিয়মিত অভিভাবক সভার আয়োজন এবং নিয়মিত সাক্ষাতের ব্যবস্থা গ্রহণ।
০৭. ‘ছাত্রী অনুপস্থিতি জরিমানা’ কমিয়ে ‘শ্রেণি শিক্ষার আকর্ষণ’ বাড়াতে প্রতিক্লাসে সর্বাধিক উপস্থিত ছাত্রীকে বার্ষিক পুরস্কার প্রদান।
০৮. বিগত ২ বছর ছাত্রী বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাবনার বিপক্ষে শক্ত ভূমিকা রাখা এবং বেতন বৃদ্ধি না করা।
০৯. বৃত্তিপ্রাপ্ত সকল ছাত্রী এবং অসচ্ছল মেধাবী ছাত্রীদের বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ প্রদান।
১০. শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে শ্রেণি শিক্ষার উপর মনিটরিং সিস্টেম চালু।

(খ) স্বাস্থ্য:
০১. ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভেকসিনেশন প্রোগ্রাম, স্বাস্থ্য শিক্ষাক্লাস ও বছরে একবার ‘স্বাস্থ্য সপ্তাহ’ পালনে ‘ভি.এন.এস ফ্রি মেডিকেল সার্ভিসেস সেন্টার’ চালু করা।
০২. ছাত্রী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের জরুরি চিকিৎসার জন্য মূল শাখায় ২ জন মহিলা ডাক্তার নিয়োগ প্রদান।
০৩. অসুস্থ ছাত্রীদের জন্য Sick Bed-এর সুযোগ বৃদ্ধি করা।
০৪. শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং মনোবিজ্ঞানীদের নিয়ে ‘মেন্টাল হেলথ্; কাউন্সেলিং প্রোগ্রাম আয়োজন।
০৫. নিজ উদ্যোগে ও অর্থায়নে ছাত্রীদের বয়ঃসন্ধিকালে এবং হরমোন জনিত নানা সমস্যায় সহযোগিতা প্রদানের জন্য শিক্ষক ও ছাত্রীদের সমন্বয়ে ‘ভিকারুননিসা মেন্টাল হেলথ কাউন্সিল গঠন।
০৬. প্রতিষ্ঠানের সকল শাখায় সপ্তাহব্যাপী প্রায় ২৫ হাজার ছাত্রী, শিক্ষক ও কর্মচারীর মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরিচর্যা ও সুরক্ষায় ‘ফ্রি ডেন্টাল চেক-আপ প্রোগ্রাম’ আয়োজন।

স্বাস্থ্য শিক্ষার আয়োজনে আরো কিছু পদক্ষেপ-
০১. প্রতিবছর সকল শাখায় এবং কলেজের প্রায় ২৫ হজার ছাত্রী শিক্ষক ও কর্মচারীর জন্য বিনামূল্যে মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্য পরিচর্যায় Free Dental Camp করেছিলেন যেখানে বিনামূল্যে Medi Plus ও Pepsodent পেস্ট প্রদান করা হয়েছিল।
০২. প্রতিবছর বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে Vaccination Program, Hand Wash ও জীবাণু মুক্ত নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
০৩. ছাত্রীদের বয়ঃসন্ধিকালের হরমোনজনিত নানা সমস্যা নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরমর্শ গ্রহণের আয়োজন করা হয়েছিল।
০৪. অধিকতর দুর্বল মানসিক শক্তি ও আবেগপ্রবণ ছাত্রীদের জন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানের Mental Health কাউন্সিলিং প্রোগ্রাম আয়োজন করা হয়েছিল।
০৫. নিজ উদ্যোগে এবং অর্থায়নে শিক্ষক ও ছাত্রীদের সমন্বয়ে VNS Mental Health Council গঠন করে দিয়েছেন। যার মাধ্যমে অনেক কাউন্সেলিং Program করো হয়েছিল।
০৬. মেধাবী ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর দুঃখজনক মৃত্যুর পর ছাত্রীদের আত্মহনন প্রবণতা রোধকল্পে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগিতায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টদের মাধ্যমে ছাত্রী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে কাউন্সেলিং প্রশিক্ষণ ওয়ার্কশপ আয়োজন করেছিলেন।
০৭. প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শাখায় পুরাতন, জীর্ণ টয়লেট সংস্কার এবং স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ক্লিনিং ব্যবস্থায় শুধুমাত্র মহিলা ক্লিনার এবং আধুনিক ব্যবস্থা প্রয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলাম।

(গ) পরিবেশ ও অবকাঠামো
০১. প্রতিটি ক্লাসরুমে জেনারেটরের সংযোগ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ।
০২. বসুন্ধরা শাখাকে নিজস্ব ভবনে স্থানান্তরের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন।
০৩. ধানমন্ডি ও আজিমপুর শাখায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় ছাত্রীদের ক্লাসে আইপিএস এবং জেনারেটর-এর ব্যবস্থা গ্রহণ।
০৪. ছাত্রীদের উন্নত মানের ড্রেস ও আইডি কার্ড চালু করা।
০৫. প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার জন্য সি.সি ক্যামেরা স্থাপন।
০৬. অভিভাবকদের জন্য বসার সেড নির্মাণ ও সংস্কার।
০৭. সকল শাখায় পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ক্লিনিং-এর জন্য শুধুমাত্র মহিলা ক্লিনার নিয়োজিত করা।
০৮. টয়লেট সংস্কার ও আধুনিক ফিটিংসহ উন্নত প্রযুক্তি, দ্রব্যাদি ব্যবহার নিশ্চিতকরণ।
০৯. সকল শ্রেণিকক্ষে আধুনিক প্রযুক্তির সাউন্ড সিস্টেম-এর মাধ্যমে পাঠদানের ব্যবস্থা গ্রহণ।
১০. প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ছাত্রীদের কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া গেলে ২০০০ টাকা জরিমানাসহ নানা শাস্তিমূলক বিধান ছিল। তা বাতিল করে উন্নত মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন শিক্ষকদের মাধ্যমে মোবাইল স্টোরেজ সিস্টেম চালু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
১০. প্রতিষ্ঠানের মেধাবী ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর অত্যন্ত দুঃখজনক মৃত্যুতে ভীত-সন্ত্রস্ত, হতাশাগ্রস্ত এবং অধিকতর আবেগপ্রবণ, কোমল মনের অধিকারী ছাত্রীদের জন্য শিক্ষক, অভিভাবকদের উপস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগিতায় ‘শিক্ষার্থীদের আত্মহনন’ প্রবণতা রোধকল্পে বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানী ও কাউন্সিলরদের মাধ্যমে মনো-স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিচর্যা Workshop আয়োজন।
১১. অধ্যয়নরত ছাত্রী এবং শিক্ষকদের মানসিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার জন্য ২ জন মনো-কাউন্সিলর নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণে যারা সারাবছর সকল শাখায় রুটিনমাফিক কাউন্সেলিং Program চালিয়ে যাবেন।
১২. ঈদ, নববর্ষ ও বিভিন্ন জাতীয় দিবসে Mobile Messege এর মাধ্যমে অভিভাবকদের শুভেচ্ছা জানানো।

ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদারের ভবিষ্যৎ কর্ম-পকিল্পনা:
* সকলের মতামতের ভিত্তিতে ভিকারুননিসা নূন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
* প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে Sound System I Multimedia Projection এর ব্যবস্থা গ্রহণ।
* অপেক্ষাকৃত দুর্বল ছাত্রীদের জন্য Problem Solving Class এর ব্যবস্থা গ্রহণ।
* প্রতি সপ্তাহে ১ দিন Quiz Exam পদ্ধতি চালু করা।
* ক্লাসে ছাত্রী-শিক্ষক অনুপাত ঠিক রাখা।
* কর্মরত খণ্ডকালীন শিক্ষকদের চাকরি স্থায়ীকরণে পদক্ষেপ গ্রহণ।
* শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিল যুগোপযোগী করা।
* বেতন ও ভর্তি ফি সহ আর্থিক লেনদেন ও Online Banking চালু করা।
* প্রতিবছর শ্রেষ্ঠ ছাত্রী এবং শ্রেষ্ঠ শিক্ষক পুরস্কার চালু করা।
* শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন স্কেল চালু করা।
* শিক্ষকদের পদোন্নতি নীতিমালা সংস্কার করা।

ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদারের অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা ভাবনা:
০১. শিক্ষাঙ্গনে নৈতিকতা অপরিহার্য।
০২. শিক্ষা পণ্য নয়, আমাদের মৌলিক অধিকার।
০৩. বিদ্বান নয়, ভালো মানুষ হওয়া জরুরি।
০৪. যা কিছু ভালো, তার সাথেই শিক্ষার আলো।
০৫. প্রকৃত শিক্ষা জীবন চলার পথ দেখায়।
০৬. উচ্চ শিক্ষিত নয়, আলোকিত মানুষ চাই।
০৭. জীবন আত্মহননের জন্য নয়।
০৮. দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য।
০৯. পরিবর্তন চাই-খারাপের বদলে ভালো।
১০. পরিবর্তন চাই-আঁধারের বদলে আলো।
১১. কষ্ট হলেও নষ্টকে বর্জন করা উত্তম।
১২. সন্তানের সার্বিক সাফল্যে মায়ের ভূমিকা অতুলনীয়।
১৩. শিক্ষিত মায়েরাই পারেন একটি শিক্ষিত জাতি গঠন করতে।
১৪. শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমানো জরুরি।
১৫. স্নেহ-ভালোবাসাহীন শাসন পরীক্ষায় কাক্সিক্ষত ফলাফলের অন্তরায়।
১৬. মা-বাবাই সন্তানের প্রকৃত শিক্ষক।
১৭. আলোকিত গৃহই উপযুক্ত শিক্ষাঙ্গন।
১৮. নৈতিক শিক্ষাই জীবনে আলোর পথ দেখায়।
১৯. বড় অসুস্থ প্রতিযোগিতার মধ্যে কাটছে আমাদের দিন।
২০. নৈতিক শিক্ষার দিন কী একেবারেই শেষ?
২১. পরীক্ষায় ভালো ফলাফলই কী জীবনে বড় প্রাপ্তি?
২২. নৈতিকতা বিবর্জিত মানুষ প্রকৃত শিক্ষক নয়।
২৩. শিক্ষা-বাণিজ্য রোধে আপনার ভ‚মিকা গুরুত্বপূর্ণ।
২৪. সত্য ও মিথ্যার দ্ব›দ্ব চিরন্তন, আলো-আঁধারে পার্থক্য যেমন।
২৫. ভেবে দেখুন কে হবেন-আপনার প্রতিনিধি?
২৬. আমাদের সন্তানেরা তেমন শিক্ষায় শিক্ষিত হোক বড় মনের মানুষ হোক।
২৭. আমাদের সন্তানেরা পবিত্র চেতনায় বড় মনের মানুষ হোক।


অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদারের খোলা চিঠি-

‘যোগ্যতা, দক্ষতা, সততা ও অভিজ্ঞতাই হোক আপনার প্রতিনিধি নির্বাচনের মাপকাঠি’
সম্মানিত অভিভাবক/অভিভাবিকা
আস্সালামু আলাইকুম।
বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি। আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা। হঠাৎ বিজলী বাতির চমক। আনমনাভাবে এক মিনিট চোখ বন্ধ করে ভাবুনতো। সুন্দর এ পৃথিবীটাই অন্ধকার। একটি পা সামনে বাড়াতেই প্রয়োজন আলো। জীবনের অভীষ্ট লক্ষ্যে পথ চলতে গেলেও আলোর প্রয়োজন। আমাদের সন্তানদের সে প্রত্যাশিত আলোকিত জীবনের সন্ধান করতে গিয়েই আপনাদের সাথে দেখা। সেই পুলকিত, শিহরিত, ভর্তি পরিক্ষার দিন। পরবর্তীতে সন্তানের সাফল্যে অশ্রুসিক্ত নয়নে আপনাদের হাসিমুখ, খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে অধীর আগ্রহে সন্তানের ছুটির অপেক্ষা, অভিভাবক দিবসে উপস্থিতি এবং অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন ২০০৮ইং এর আগস্ট মাসের সেই রৌদ্রকরোজ্জ্বল দিবসটিতে। যেদিন আমি বিস্মিত, অভিভূত, নন্দিত হয়েছিলাম আপনাদের বিবেক-তাড়িত, বুদ্ধিদীপ্ত, হৃদয়-নিংড়ানো, সিক্ত সিদ্ধান্তে। আপনাদের সিদ্ধান্ত ছিল সত্য ও সুন্দরের প্রত্যাশায়। সুযোগ হলো আমার স্কুলের গভর্নিং বডির সদস্য হওয়ার। সৃজনশীল চিন্তা-চেতনা, বিবেক-বুদ্ধি, সত্য ও সুন্দরের সমন্বয় ঘটিয়ে যদি কিছু করা যায় এ প্রত্যাশায় পথ চলা। আপনাদের বিচক্ষণ, সুচিন্তিত মতামত ও বুদ্ধিদীপ্ত বাস্তবসম্মত পরামর্শ আমার এ পথ চলাকে সহজতর করবে। সমৃদ্ধ করবে এ শিক্ষায়তনের সার্বিক কাঠামো। 

তাই আসুন, আমরা সকলে মিলে সচেষ্ট হই এ পবিত্র দায়িত্বটি পালনে। সম্মানিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও কর্মকর্তা, কর্মচারী কারো ভূমিকা এ কাজে কম নয়। আপনাদের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসাবে আমাদের দায়িত্ব অনেক। এ উদাত্ত আহবানটি সে দায়িত্ববোধের কারণেই। আমি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করবো সততা ও নিষ্ঠার সাথে আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে। আপনাদের সহযোগিতা নিশ্চয়ই আমি আশা করতে পারি। পাশাপাশি কাজ করতে গিয়ে কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি কিংবা কোন অসংগতি পরিলক্ষিত হলে গঠনমূলক সমালোচনায় পিছপা হবেন না। আমরা চাই না যে, আমাদের সন্তানেরা একটা অসুস্থ পরিবেশ ও প্রতিযোগিতার মধ্যে বেড়ে উঠুক। পরীক্ষায় ভাল ফলাফলই কী জীবনের সব প্রাপ্তি? আদর্শ শিক্ষা ও মূল্যবোধের দিন কী একেবারেই শেষ? 

চোখ বন্ধ করে দেখুন আলো ও আঁধারের পার্থক্য অনেক, সত্য ও মিথ্যার দূরত্ব বিশাল। আমাদের সন্তানেরা তেমন শিক্ষায় শিক্ষিত হোক, পবিত্র চেতনায় বড় মনের মানুষ হোক-এ প্রত্যাশা সকলের। কারণ বড় অসুস্থ প্রতিযোগিতার মধ্যে কাটছে আমাদের দিন। বরষায় প্রস্ফুটিত কদম কিংবা শরতের শিউলিঝরা সকালের মদালসা গন্ধ আমাদের নাগরিক জীবনকে আন্দোলিত করে না। ডাস্টবিন থেকে কুড়ানো ছেঁড়া, ময়লা ও নোংরা টাকার সুবাস আমাদের আকৃষ্ট করে বেশি। বিষয়টি হয়তোবা আপেক্ষিক। মানুষ স্বভাবতই সত্য ও সুন্দরের পূজারী। তাই নান্দনিক শুভেচ্ছা। সকলকে, যারা বিগত ২২ এপ্রিল-২০১৭ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনে আমাকে মূল্যবান ভোট দিয়ে কৃতজ্ঞ করেছেন। 

তাই বড়ই ঋণী মনে হয় নিজেকে। যে ঋণ কোন কিছুর বিনিময়ে শোধ করা যাবে না। তথাপি আপনাদের প্রিয় সন্তানদের লেখাপড়ার মান এবং স্কুলের সার্বিক উন্নয়নে এবং কোন সমস্যার সমাধান ভবিষ্যতে যদি সামান্যতম ভ‚মিকা রাখার সুযোগ থাকে তবে সেক্ষেত্রে আমি আন্তরিকভাবে সর্বাবস্থায় আপনাদের সাথে সম্পৃক্ত থাকবো। অনাগত দিনগুলো সত্য ও সুন্দরের প্রত্যাশায় বিলীন হোক। বেঁচে থাকলে আবার কথা হবে, আবার দেখা হবে। আপনাদের সকলের সু-স্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা শেষে আসন্ন অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনে (কলেজ শাখায়) আপনার সুচিন্তিত রায় আমি কী প্রত্যাশা করতে পারি না?

ধন্যবাদান্তে-
ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার