জালিয়াতির অভিযোগে জবিতে আটক ৫ পরীক্ষার্থী


জবি টাইমস
Published: 2017-10-14 08:29:46 BdST | Updated: 2018-09-23 23:11:26 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পর ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগ এসেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও (জবি)। স্নাতক সম্মান শ্রেণির ২০১৭- ২০১৮ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের বিজ্ঞান অনুষদ ও লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদ অন্তর্ভুক্ত ‘এ’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে জবিতে পাঁচ ভর্তিচ্ছুর ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ভর্তি পরীক্ষা শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট রুনা লায়লা এ রায় দেন।

আটককৃত ভর্তিচ্ছুকে কতোয়ালী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস। আটক হওয়া এবং পরীক্ষা বাতিলকৃতরা হলেন, পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার মো শরীফুল ইসলামের মেয়ে আয়েশা আক্তার (রোল নং- ১০২৫৮৬), কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বাবুল মিয়া চৌধুরীর ছেলে শওকত হোসেন চৌধুরী (রোল নং- ১০৬৯৭৭), মোঃ নাজমুল ইসলাম (রোল নং- ১০৫৩১৭), মোঃ মেহেদী হাসান মিতুল (রোল নং- ১০৮২৬৮), এবং মোঃ রেদোয়ান ইসলাম (রোল নং- ১৩৪৬৭০)।

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে পরীক্ষার হল থেকে আটক করা হয়েছিল ১২ জনকে। ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাদের ১৫ দিনের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছিলেন নির্বাহী হাকিম তৌহিদ এলাহী।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভর্তি পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে কেন্দ্রের গেটের সামনে শওকত হোসেন ও আয়েশা আক্তার লতা নামের দুই ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থী মোবাইলে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন পড়ছিলেন। এসময় প্রক্টররিয়াল বডির সদস্যরা তাঁদের মোবাইলসহ আটক করেন। তবে মোবাইল রেখে তাদের পরীক্ষা দিতে দেয় কর্তৃপক্ষ।

পরীক্ষা শেষে তাদের প্রক্টর কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় ভ্রাম্যমান আদালতের সামনে। আয়শা আক্তারের মোবাইলে ফেইসবুক ও মেসেঞ্জারে ১টা ১৬ মিনিটে উত্তরপত্র পাঠানোর প্রমান পাওয়া যায়। এ উত্তরপত্রের সাথে পরীক্ষার প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া গেছে। প্রক্টর অফিসে ভ্রম্যমান আদালতে আয়েশা আক্তার ও শওকত হোসেন লিখিত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর আদালত তাদের পরীক্ষা বাতিলের রায় দেন।

অপর দিকে একই অভিযোগে মুসলিম গভর্নমেন্ট স্কুল কেন্দ্রে আরো দুই ভর্তিচ্ছু নাজমুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিতুল নামের দুই শিক্ষার্থীর ব্যাপারে সন্দেহ হলে তাদের প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসা হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. নূর মোহাম্মদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ (শুক্রবার) ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জালিয়াতি চেষ্টার সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে পাঁচজন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের আগে তাদের আটক করা হয়। তাদের হাতে কিছু লেখা ছিলো যেগুলো পড়ছিলো। মোবাইলেও কিছু পাওয়া গেছে, যেখান থেকে কয়েকটা কমন পড়েছে। পরে তাদের মোবাইল জব্দ করে, পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষ হলে তাদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ডেকে পাঠান। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের পরীক্ষা বাতিলের রায় দেন।’

হাতে এবং মোবাইলে লেখা প্রশ্নের উত্তর থাকা অবস্থায় আটকের পর কিভাবে পরীক্ষায় অংশ নিলো? এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে ড. নূর বলেন, ‘তাদের হাতে এবং মোবাইলে কেন লিখে এনেছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেছিল পড়ার সুবিধার জন্য এনেছে। এর পর আমাদের আর কিছু বলার ছিলনা। তবে হাতে লেখা প্রশ্ন থেকে কয়েকটা প্রশ্ন পরীক্ষায় এসেছে বিধায় পরে ভ্রাম্যমান আদালত তাদের ডেকে নিয়ে যে শাস্তি দিয়েছে, সেটা সবারই মেনে নিতে হবে।’

ড. নূর সাংবাদিকদের আরও বলেন ‘এসকল পরীক্ষার্থী আগামী ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায়ও অংশগ্রহণ করতে পারবে না। অধিকতর তদন্ত এবং পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদেরকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিকট সোপর্দ করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে আজ শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ অধিদপ্তর থেকে একটি বিবৃতি পাঠানো হয়েছে। উক্ত বিবৃতিতেও ৫ ভর্তিচ্ছুর পরীক্ষা বাতিল ও তাদেরকে আগামী ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ‘ডি’ ইউনিটের পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে আগামী বছর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে না। আবেদনের ক্ষেত্রে যোগ্যতা বাড়িয়ে কম সংখ্যক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেয়া হবে।’

টিআর/ ১৪ অক্টোবর ২০১৭

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।