বানিজ্যিক বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে কুবি ক্যাম্পাস, তীব্র সমালোচনা


আল নাঈম
Published: 2017-11-24 11:07:26 BdST | Updated: 2019-10-15 06:00:52 BdST

এক রাতেই মূল গেইট, ভিসি'র বাসভবন এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অনুষদের সামনে গুডলাক ষ্টেশনারীর সৌজন্যে লাগানো বানিজ্যিক বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

খবর নিয়ে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতের অন্ধকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেইট, ভিসির বাসভবনসহ কয়েকটি স্থানে গুড লাক নামে বিজ্ঞাপন উল্লেখ করে নিম্ন মানের বিল বোর্ড বসানো হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কিছু জানে না বলে জানিয়েছেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মত একটি দেশের প্রথম সারির বিদ্যাপীঠে কিভাবে কাউকে না জানিয়ে এমন কাজ সম্পন্ন হলো তা কারো কাছেই বোধগোম্য নয়। এছাড়া কতৃপক্ষকে না জানিয়ে কিভাবে এমন কাজ সম্পন্ন হলো সেটার যৌক্তিকতাও সবার কাছে প্রশ্নবিদ্ধ।

এদিকে শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত বিলবোর্ড নিয়ে ফেসবুকে কয়েকটি ছবি পোস্ট করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে যায় শিক্ষার্থীরা। মেইন গেইটে এমন বিতর্কিত দৃষ্টিকটু বিলবোর্ড স্থাপন করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃর্তপক্ষের রুচি নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ মিজানুর রহমান ক্যাম্পাস টাইমসকে বলেন, ‘ এই বিষয়টি আমার আওতাধীন হলেও আমি এই বিল বোর্ড গুলো লাগানোর ব্যাপারে কিছুই জানি না।’ এই সময় তিনি এই প্রতিবেদককে উল্টো প্রশ্ন করে বলেন বিলবোর্ড গুলো কখন, কোথায় লাগানো হয়েছে?

কুবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আলী আশরাফ ক্যাম্পাস টাইমসকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কিছু সৌন্দর্য্য বর্ধনের কাজ করার কথা, কিন্তু ফটক গুলোতে এ ধরনের বিলবোর্ড লাগানোর ব্যাপারে কোন কথা হয় নি। আমি এই বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি।’

কুবি ক্যাম্পাসে বানিজ্যিক বিলবোর্ড

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক মোঃ মেহেদী হাসান বলেন, "অদক্ষ ও অযোগ্য ভিসি তার মেয়াদের শেষ সময়ে এসে নিয়োগ বানিজ্য করতে না পারায় মানসিক অস্থিরতায় ভুগছেন, ক্যাম্পাসে বিলবোর্ড লাগানো তার স্বার্থ হাসিলের অংশ বলেই আমি মনে করি"। এছাড়াও বিজনেস স্টাডিজ অনুষদকে "বানিজ্য অনুষদ" লিখে সাইনবোর্ড দেয়ায় তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রয়োজনে তিনি এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানান।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় একটি অলাভজনক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিভাবে একটি বেসরকারি বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এটাকে একটি বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করলো তা নিয়ে সকলের মনে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে ফেসবুকে চলছে সমালোচনার ঝড়।সাদী খান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, "ফাজলামির একটা সীমা আছে। প্রশাসনের ভালো গেইট করার মুরোদ নাই সেটা আমাদের জানা আছে। কিন্তু এই ফালতু টাইপের বিজ্ঞাপন মার্কা থার্ডক্লাস গেইটের মানে কি?? কয়দিন পর ভর্তি পরীক্ষা। পরীক্ষা দিতে এসে এই গেইট দেখে ছেলেমেয়েরা হাসাহাসি ছাড়া আর কিছুই করবেনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি বিন্দুমাত্র ভালোবাসা থাকলে প্রশাসন এই কাজ করতে পারতো না"।

আব্দুর রহমান মন্তব্য করেন, "আমাদের দেখা সবচেয়ে বিশ্রী গেইট। আগেরটা অনেক ভাল ছিল যখন কিছু ছিলনা"।

রাকিব মাহমুদ বলেন," একটা ভার্সিটির মেইন গেইটের সাইনবোর্ডও এমন পাড়ার দোকানের মত হয়"!

আবু বকির সিদ্দিক বলেন,"২৪ ঘন্টার মধ্যে এই গেইট বাতিল করা হোক।কুবির প্রশাসনের রুচির কি আদৌ পরিবর্তন হবে না? গেইট নির্মাণ করতে না পারলে যেমন আছে সেভাবেই থাকুক হাসির পাত্র হওয়ার কি দরকার?"

এভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে বিলবোর্ড লাগানো নিয়ে প্রতিবাদের সুরে কথা বলেছেন।

উল্লেখ্য, বিজ্ঞাপন দিয়ে বিতর্কিত বিলবোর্ডটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে, বিবিএ ফ্যাকাল্টি, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল, কাজী নজরুল ইসলাম হল, নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বসানো হয়েছে।

এমএন/ আইএম/ ২৪ নভেম্বর ২০১৭