উল্টো পথে চললে ঢাবি বাসের রুট বাতিল


টাইমস প্রতিবেদক
Published: 2017-07-25 11:31:58 BdST | Updated: 2018-08-14 21:41:23 BdST

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাস সড়কের উল্টো পথে বাস চালানো নিয়ে বিরক্ত খোদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। চালকরা বলছেন, যানজট হলে ছাত্রদের চাপের মুখে তারা উল্টোপথে বাস চালিয়ে নিতে বাধ্য হন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। চালক ও ছাত্রদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে, নির্দেশনা অমান্য করে উল্টোপথে চললে বাসের রুট বাতিল করা হবে। খবর ঢাকাটাইমসের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক এ এম আমজাদ বলেন, ‘তারা উল্টো পথে বাস চালিয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ও ঐতিহ্য নষ্ট করছে। উল্টো পথে বাস না চালানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে । তারপরও আমরা বাসের চালক ও বাস কমিটির সাথে বহুবার বৈঠক করেছি, উল্টো পথে বাস না চালানোর জন্য তাদের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরও তারা যদি এই অন্যায় কাজ করে তাহলে যে রুটে উল্টো পথে বাস চলে সে রুটে আমরা বাস চলাচল বন্ধ করে দেব।’

যানজটে পড়লেই রাজধানীর সব সড়কে নিয়মিত উল্টো পথে ঢুকে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহন করা কয়েকটি বাস। এতে রাস্তার যানজট আরও তীব্র হয়ে ওঠে। কখনো দুর্ঘটনাও ঘটে। আর এতে সমালোচনার মুখে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন সমালোচনার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

উল্টো পথে গাড়ি না চালাতে গত ২০১৬ সালের মে মাসে রুল জারি করে উচ্চ আদালত। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কথাও উল্লেখ ছিল। কিন্তু প্রায়ই তা অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের বিরুদ্ধে।

গত জুনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশাখী পরিবহনের একটি বাস উল্টো পথে চলতে গিয়ে রাজধানীর বিজয় সরণির কাছে একটি দুর্ঘটনা ঘটায়। এতে দুই মোটরসাইকেল আরোহী আহত হন। এই রকম আরও অনেক ঘটনায় ঘটছে অহরহ। এই উল্টো পথে চলা নিয়ে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েকবার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসচালকরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উল্টো পথে যেতে নিষেধ করা হলেও ছাত্রদের চাপের মুখে তাদের সে নিষেধাজ্ঞা ভুলে উল্টো পথে চালাতে হয়।

চালকরা জানান, নিয়মিত যাতায়াতকারী ছাত্ররা নিজেরাই একটি করে ‘বাস কমিটি’ করেছেন। যানজট পড়লে এই কমিটির নেতারা চালককে উল্টো পথে গাড়ি নিয়ে যেতে বাধ্য করেন৷ ফলে সড়কের বিভাজনের কোনো ফাঁকা অংশ পেলেই উল্টো পথে বাস ঢোকাতে হয়৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই কমিটির সদস্যদের অনেকে আবার বাসের দরজায় দাঁড়িয়ে যেতে পছন্দ করেন। যানজটের সময় তারাই মূলত চালককে বাস উল্টো পথে নিতে বাধ্য করেন। উল্টো পথে আটকে গেলে কমিটির কয়েকজন রাস্তায় সঠিক পথে চলা গাড়িগুলোকে সরিয়ে দেন। এসব নিয়ে প্রায়ই ট্রাফিক পুলিশ ও অন্য গাড়ির চালকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাদানুবাদের ঘটনা ঘটে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য ২১টি রুটে প্রায় ৮০টি বাস, শিক্ষকদের জন্য নয়টি রুটে প্রায় ২০টি মিনি ও মাইক্রো বাস এবং কর্মকর্তাদের ছয়টি রুটে ১৫টির মতো গাড়ি যাতায়াত করে। এর মধ্যে ২০টি বাস, ১২টি মিনিবাস ও ৯টি মাইক্রোবাস বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব। অন্যগুলো ভাড়া নেওয়া হয়।

উল্টোপথে কেবল ঢাবির বাস নয়

কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাসের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। গত ১৭ জুলাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসকে উল্টোপথে চালাতে বাধা দেয়া শিক্ষার্থীরা পুলিশ সার্জেন্টের ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলাও করে পুলিশ।

পিআই/ ২৫ জুলাই ২০১৭

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।