‘‘উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত জাবিতে সর্বাত্মক ধর্মঘট চলবে’’


শরিফুল ইসলাম
Published: 2019-11-04 19:21:02 BdST | Updated: 2019-11-23 08:56:17 BdST

দুর্নীতির অভিযোগ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণের পূর্ব পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন। চলমান সংকট সমাধানে আন্দোলনকারীদের সাথে শিক্ষামন্ত্রীর আলোচনার প্রেক্ষিতে সোমবার (০৪ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘গতকাল শিক্ষামন্ত্রীর আমন্ত্রণে আমরা ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষকদের সাত সদস্যের প্রতিনিধি মন্ত্রীর সাথে আলোচনায় অংশ নিয়েছিলাম। এসময় তিনি আমাদের কাছে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক বিষয় ও জটিলতা সম্পর্কে জানতে চান। আমরা বর্তমান উপাচার্যের দুর্নীতি, অনিয়ম, অযোগ্যতা, একগুয়েমি ও অগণতান্ত্রিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় চালানোর সকল বিষয় ও প্রমাণাদি তুলে ধরি। তিনি এসব বিষয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করবেন বলে জানান।’

আলোচনায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আন্দোলনকারীদের ইতিবাচক জায়গা থেকে আন্দোলন প্রত্যাহারের আহ্বান জানালে উপাচার্যকে অপসারণে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি ছাড়া তা করবেন না বলে জানান আন্দোলনকারীরা।

সংবাদ সম্মেলনে রায়হান রাইন বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী আমাদের বলেছেন তিনি নিজের জায়গা থেকে কাজ করবেন পাশাপাশি আমাদেরকেও ইতিবাচক জায়গা থেকে আন্দোলন প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানান। কিন্তু আমরাতো দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি ছাড়া শুধুমাত্র অনুরোধের প্রেক্ষিতে আন্দোলন প্রত্যাহার করতে পারিনা।’

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান অবরোধ-ধর্মঘট কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও জাবি ছাত্র ফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) সভাপতি মাহাথির মুহাম্মদ।

এদিকে দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে টানা ১০ম দিনের মতো প্রশাসনিক ভবন অবরোধ ও ৯ম দিনের মতো সর্বাত্মক ধর্মঘট কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। এদিকে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ নামে ফেসবুক পেইজটি ডিজেবল করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা। পরে তা ফেসবুকে খুঁজে ও পাওয়া যায় নি।

এ বিষয়ে আন্দোলনকারীরা বলেন, আমাদের ফেসবুক পেইজটি ডিজেবল করে দেওয়া হয়েছে। তারা এমন কাজ করতে পারলে তাদের দুর্নীতির প্রমান সমূহ লুকানোর জন্য যে কোন কিছুই করতে পারে। তবে তারা যাই করুকনা কেন তারা তাদের অপকর্ম লুকাতে পারবে না৷ তাদের অপকর্ম জাতির কাছে পরিষ্কার।

এদিকে আন্দোলনের কারনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরণের প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ থাকলেও ধর্মঘট উপেক্ষা করে বিভিন্ন বিভাগের উপাচার্য পন্থী শিক্ষকেরা ক্লাস-পরীক্ষা নিয়েছেন।

উল্লেখ্য আন্দোলনকারীরা ক্যাম্পাসে দেয়ালে দেয়ালে উপাচার্যের ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করেছে।

টিআর/ ০৪ নভেম্বর ২০১৯