জাবিতে কোটার আবেদন ও ভর্তি হতে হয় যেভাবে


জাবি টাইমস
Published: 2017-11-01 08:42:22 BdST | Updated: 2019-11-20 11:32:10 BdST

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীতে ভর্তির লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বিভাগ পছন্দক্রম, সাক্ষাৎকার ও মৌখিক পরীক্ষা আগামী ১২ এবং ১৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২০ নভেম্বর থেকে ভর্তি শুরু হয়ে চলবে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত। ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন শেষে আগামী ৭ জানুয়ারি থেকে নবীন শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) ও কে›ন্দ্রীয় ভর্তি পরিচালনা কমিটির সচিব মো. আবু হাসান এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কলা ও মানবিকী অনুষদের আওতাধীন সি-১ এ নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ এবং চারুকলা বিভাগের মৌখিক পরীক্ষা চলবে আগামী ১১ নভেম্বর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত। নাটক ও নাট্যতত্ত্ব এবং চারুকলা বিভাগে ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি নিজেকে নিয়ে আসতে হবে।

বিভিন্ন কোটার(মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নাতি/নাতনি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও দলিত সম্প্রদায়, প্রতিবন্ধী, খেলোয়াড় কোটা (শুধুমাত্র বিকেএসপি) আবেদনপত্র বিশ্ববিদ্যালয় শাখা অগ্রণী ব্যাংক থেকে সংগ্রহ করে শিক্ষা শাখায় ১২ থেকে ১৬ নভেম্বরের মধ্যে জমা দিতে হবে। প্রথম দফায় আসন সংখ্যার তিন গুণ মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে ১৯ নভেম্বর চূড়ান্ত মেধা তালিকা প্রকাশ করা হবে।

মৌখিক পরীক্ষা ও ব্যবহারিক পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের অবশ্যই মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষা ও উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার মূল নম্বরপত্র বা গ্রেডশীট ও ভর্তি পরীক্ষার মূল প্রবেশপত্র সঙ্গে নিয়ে আসতে হবে। তাছাড়া যদি কোন শিক্ষার্থী অন্য কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে থাকে তবে তাকে অবশ্যই ভর্তির প্রমাণপত্র সঙ্গে আনতে হবে।

কোন প্রার্থীর একাধিক বিভাগে একই সময় মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে প্রার্থী ওই বিভাগের পরিচালকের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করে সময় ও তারিখ সমন্বয় করে নিতে হবে।

ভর্তি পরীক্ষার সাক্ষাৎকার এবং অন্যান্য সকল (www.ju-admission.org) থেকে জানা যাবে।

কোটার আবেদন, সাক্ষাৎকার ও ভর্তি হতে হয় যেভাবে-
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটার আবেদন করতে হয় ভর্তি পরীক্ষা শেষে পরীক্ষায় পাস করার পর। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ভর্তি পরীক্ষার ফর্ম পূরণের সময় কোটার আবেদন করতে হয় না। আর করতে চাইলেও আপনি পারবেন না। কারণ ভর্তি পরীক্ষার ফর্মে কোটার ব্যাপারে কোনো উল্লেখ থাকে না।

মুক্তিযোদ্ধা সন্তান-সন্তনি এবং নাতি-নাতনি
গতবছরের আগের বছরগুলোতে শুধুমাত্র মুক্তিযোদ্ধার সন্তান-সন্তনির কোটা থাকলেও ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনির কোটাও চালু হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনির কোটা চলমান থাকলেও ভর্তির ক্ষেত্রে নাতি-নাতনির থেকে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানরা অগ্রাধিকার বেশি পাবে।

ওয়ার্ড বা পোষ্য কোটা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তান-সন্তনি, ভাই-বোন এবং স্বামী-স্ত্রী এ কোটায় ভর্তি হয়ে থাকে। পোষ্য কোটার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ওয়েবসাইটে কোনো বিজ্ঞপ্তি দেয়া না থাকলেও রেজিস্ট্রার অফিসের নোটিশ বোর্ডে পোষ্য কোটার বিজ্ঞপ্তি দেয়া থাকে।

খেলোয়াড় কোটা
শুধুমাত্র বিকেএসপি থেকে মাধ্যমিক (এসএসসি) ও উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা এ কোটায় আবেদন করে ভর্তি হতে পারবে। এছাড়াও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং অনগ্রসর ও দলিত সম্প্রদায় কোটা, প্রতিবন্ধী কোটায় শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবে।

উল্লেখ্য যে, আগের বছরগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিও ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক কোটা থাকলেও ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সাংস্কৃতিক কোটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

জাবিতে কোটার আসন সংখ্যা কয়টি?
মুক্তিযোদ্ধা কোটার জন্য প্রতিটি ইউনিটের প্রত্যেকটি বিভাগে ছেলে-মেয়ে উভয় মিলে ৪টি করে আসন বরাদ্দ রয়েছে। ওয়ার্ড বা পোষ্য কোটার পূর্ব নির্ধারিত কোন আসন সংখ্যা বরাদ্দ নেই। অর্থাৎ কেবল লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে যে ক’জন পোষ্য কোটায় আবেদন করবে ততজনই ভর্তি হতে পারবে।

মুক্তিযোদ্ধা কোটার জন্য যেমন প্রত্যেকটি বিভাগে ৪ আসন নির্দিষ্ট করে বরাদ্দ দেয়া আছে তেমনি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং অনগ্রসর ও দলিত সম্প্রদায় কোটা, প্রতিবন্ধী কোটা, বিকেএসপি খেলোয়ার কোটার জন্যও নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন বরাদ্দ দেয়া আছে। তবে ঠিক কতটি করে আসন বরাদ্দ দেয়া আছে সে সম্পর্কে প্রশাসন থেকে জানা যায়নি।

কোটায় আবেদন কারা করতে পারবে?
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা শেষে ফলাফল তালিকায় সিরিয়াল/পজিশন আসুক আর না আসুক, যারা অন্তত পাস করবে তারাই শুধুমাত্র কোটার আবেদন করতে পারবে। আর যারা ফেল করবে তাদের কোটা থাকলেও আবেদন করতে পারবে না।

ভর্তি পরীক্ষায় পাস করেছেন কি না তা জানার জন্য https://ju-admission.org/apply/result লিংকে প্রবেশ করে নিজের রোল নম্বর লিখে সার্চ দিয়ে জানতে পারবে। যদি এইরকম আসে যে ‘You have passed, but not selected for viva’ তার মানে আপনি পাস করেছেন। অর্থাৎ আপনি কোটার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আর যদি এইরকম আসে যে ‘Sorry, you are NOT selected for further admission process’ তার মানে আপনি পাস করেননি। অর্থাৎ আপনার কোটা থাকা সত্ত্বেও আপনি আবেদন করতে পারবেন না। যদি এরকম আসে যে ‘Search-formatted result for this unit is not published yet. Please try again later or download the pdf version result of this unit from the list below (if any)’ তার মানে এখনও উক্ত ইউনিটের সার্চ দিয়ে রেজাল্ট দেখার ডাটাবেস তৈরি হয়নি। তখন আপনি নিজে এসে নিজ নিজ ইউনিটের ডিন অফিসে যোগাযোগ করে জেনে নিতে পারেন পাস করেছেন কি না।

কোটায় আবেদনের জন্য কী ডকুমেন্টস লাগবে?
আবেদনপত্র বিশ্ববিদ্যালয় শাখা অগ্রণী ব্যাংক থেকে সংগ্রহ করে শিক্ষা শাখায় ১২ থেকে ১৬ নভেম্বরের মধ্যে জমা দিতে হবে। বিভিন্ন কোটায় আবেদন ফর্ম জমা দেয়ার সময় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার নম্বরপত্রের অনুলিপি, ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্রের অনুলিপি এবং ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি দিতে হবে।

এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা কোটার ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সনদপত্রের ফটোকপি, মুক্তিবার্তা বা মুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত সরকারি গেজেটের কপি যদি থাকে, আইডি কার্ডের ফটোকপি এবং মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনির ক্ষেত্রে সম্পর্কের প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও অনগ্রসর সম্প্রদায় এবং দলিত সম্প্রদায় কোটার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন থেকে প্রকৃত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও অনগ্রসর এবং দলিত সম্প্রদায় সনদপত্রের ফটোকপি, প্রতিবন্ধী কোটার জন্য স্বীকৃত কোনো মেডিকেল বোর্ড/সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে প্রতিবন্ধী সংক্রান্ত সনদপত্রের ফটোকপি এবং খেলোয়াড় কোটার ক্ষেত্রে বিকেএসপির অধ্যক্ষ/প্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রত্যয়ন পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হবে। সূত্র: চ্যানেল আই

এসজে/ ০১ নভেম্বর ২০১৭