জাবিতে নিরাপদ সড়কের দাবিতে মিছিল ও স্মারকলিপি


জোবায়ের কামাল
Published: 2018-05-27 18:24:48 BdST | Updated: 2018-10-22 02:06:27 BdST

নিরাপদ সড়কসহ চার দফা দাবিতে মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রোববার (২৭ মে) দুপুর ১২টায় ‘প্রতিবাদের নাম জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ভবনের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়।

মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সাথে দেখা করে স্মারকলিপি প্রদান করে।

এসময় উপাচার্য শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘ বিশ্ববিদ্যালয়েল প্রান্তিক গেইটের ওভারব্রিজের জন্য টেন্ডার হয়েছে। আশা করছি অতিদ্রুত আমরা শিক্ষার্থীদের দাবিটি পূরণ করতে পারবো।’

এছাড়া সম্প্রতি কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটক সংলগ্ন মহসড়কের ডিভাইডার ভেঙ্গে ফেলে। ফলে ওভারব্রিজ থাকা সত্ত্বেও রাস্তা পারাপারে ব্রিজটি ব্যবহার করছেননা পথচারীরা। এর মেরামতম প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, ‘ঢাকা-আরিচা মহাসড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে সম্পর্কিত। যার ফলে আমাদের কিছু করার নাই। তবে আমরা বিষয়টি সড়ক ও জনপথ বিভাগে জানিয়েছি। রাস্তার ডিভাইডারটি মেরামত করবেন বলে জানিয়েছেন।’

শিক্ষার্থীদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে, ছাত্রদের আন্দোলনে পুলিশি হামলা ও নিপীড়ন বন্ধ, হল ভ্যাকান্ট এর মতো ছাত্র স্বার্থবিরোধী পদক্ষেপ বন্ধ এবং পুলিশি নির্ভরতা নয়, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই নিতে হবে।

এ সময় ছাত্র ইউনিয়ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয়, সম্পাদক আরিফুল ইসলাম অনিক, সাংষ্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ছাত্রফ্রন্ট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সম্পাদক মোহাম্মদ দিদার, ছাত্রফ্রন্ট (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক মাহাথির মোহাম্মদ সহ বিভিন্ন বিভাগের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

প্রসঙ্গত, গতবছরের ২৬ মে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দূর্ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। এতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা এ দূর্ঘটনার বিচার, অরক্ষিত মহাসড়কের নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাসহ বিভিন্ন দাবিতে সড়ক অবরোধ করলে উদ্ভূত পরিস্থিতি তৈরী হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপাচার্য শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে তার বাসভবন ভাংচুর ও শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগ এনে ৫৪ শিক্ষার্থীর নামে মামলা করেন। ওইদিন মধ্যরাতে পুলিশ উপাচার্যের বাসভবন থেকে আন্দোলনকারী ৪২ শিক্ষার্থীকে আটক করে।

এইচজে/ ২৭ মে ২০১৮

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।