জাসদ ছাত্রলীগ থেকে জামায়াত নেতা, ধানের শীষে লড়বেন ঢাকা ১৫ থেকে


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-11-29 15:10:10 BdST | Updated: 2019-07-21 15:44:27 BdST

২০ বছর পর একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকার কোনো আসনে মনোনয়ন পেলো জামায়াত। এই আসনটি মিরপুর-কাফরুল এলাকা (ঢাকা ১৫)। জোটগতভাবে বিএনপি জামায়াতকে যে ২৫ টি আসন ছেড়ে দিয়েছে তার একটি ঢাকার এই আসন। এখানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকে যিনি নির্বাচন করবেন তিনি জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা ডা. শফিকুর রহমান। যু্দ্ধাপরাধে দলটির শীর্ষ নেতাদের ফাঁসির পর দলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতায় পরিণত হয়েছেন তিনি। ডা শফিকুর রহমানের বাড়ি সিলেটে। অতীতে সিলেটের মৌলবীবাজারের থেকে একটি আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন। সিলেট আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক সম্পর্ক বহুল আলোচিত।

যুদ্ধাপরাধে দলীর কেন্দ্রীয় নেতাদের জেল ও ফাঁসির পর সিলেট থেকে ঢাকায় এসে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান ডা শফিকুর রহমান। চারদলীয় জোট সরকারের আমলেও সিলেটে আলোচনায় ছিলেন শফিকুর রহমান। ওই সময় হাসপাতাল, হাউজিং সহ বেশ কয়েকটি ব্যবসায় তার পাটর্নার ছিলেন তৎকালিন আওয়ামী লীগের সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। এছাড়া সিলেট আওয়ামী লীগের বহু নেতার সঙ্গে এখনও তার ব্যবসায়িক সম্পর্ক আছে।

ডা শফিকুর রহমানে ঘনিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঢাকার মিরপুর-কাফরুলে জামায়াত তাদের দলীয় অবস্থান শক্ত করেছে অনেক আগে। এ কারণে নির্বাচন এই আসনটি তারা বেছে নিয়েছে। এছাড়া বিএনপি হাইকমান্ডকে আগে থেকে তারা এ আসনের বিষয়ে ধারণা দিয়ে রেখেছিলো জামায়াত।

জামায়াতের এই নেতা ডা. শফিকুর রহমানের স্ত্রী জোট সরকারের আমলে সিলেট থেকে সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি ছিলেন। আর ডা শফিকুর কুলাউড়া ও সিলেটে একাধিকবার নির্বাচন করলেও জিততে পারেননি।

ঢাকার মিরপুর কাফরুলের এই আসনে অতীতে জামায়াত শোচনীয় ভাবে পরাজয় বরণ করেছে। ১৯৯১ সালে এ আসনে আট হাজার ১৯১ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছিলো জামায়াত।

তবে বিএনপি জামায়াত মিলিত ভোটে এ আসনে জামায়াত এখন নিজেদের সুবিধা বেশি দেখছে। আর প্রার্থী হিসেবে ডা শফিকুর রহমানকে দলের সিদ্বান্তে নির্বাচনে দাঁড় করাচ্ছে। ডা. শফিককে নিজ দলে একজন কৌশলী নেতা মনে করে জামায়াত। সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়া সিলেট সিটি নির্বাচনে জামায়াত বিএনপি প্রার্থীর বিরোধীতা করে প্রার্থী দিয়েছিল। ডা. শফিকুর রহমানের সিদ্ধান্তে এমনটা হয়েছিলো বলে ধারণা করা হয়।

বিরোধী বলয়ের সঙ্গে মিলিয়ে চলার ক্ষেত্রে তার দারুণ কৌশল রয়েছে বলেও মনে করা হয়। বিশেষ করে সিলেট থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিলো তা এখনও আছে বলে মনে করা হয়।

জামায়াতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ছাড়াও ডা. শফিকুর রহমানের আরেক পরিচয়, তিনি পেশায় চিকিৎসক। ছাত্রাবস্থায় জাসদ ছাত্রলীগের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। ১৯৭৩ সালে ছাত্রলীগ করতেন তিনি। এরপর ১৯৭৭ সালে জামায়াতের ছাত্র সংগঠনে যোগ দিয়ে ‍যুদ্ধাপরাধী দলটির সিলেট শহরের জেলা ও বিভাগ পর্যায়ে শেষে কেন্দ্রে চলে আসেন। শীর্ষ নেতাদের ফাঁসির পর তাকেই দলটির মুখ্য দায়িত্বে দেখা যায়। এখন ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে ১৯৯৬ সালের পর এই প্রথম রাজধানীতে জামায়াতের প্রার্থী দেখা যাচ্ছে। তবে জামায়াত হিসেবে নয় তাকে নির্বাচন করতে হবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে। আওয়ামী লীগ থেকে এ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান এমপি কামাল আহমেদ মজুমদার। ঢাকা ১৫ আসনের বর্তমান সরকারের এই প্রার্থীকে মোকাবেলা করতে হবে জামায়াত নেতা ডা. শফিকুর রহমানের।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।