২৫ টাকা কেজি আলু বিক্রি করবে টিসিবি


টাইমস ডেস্ক
Published: 2020-10-18 19:34:10 BdST | Updated: 2021-01-16 20:41:26 BdST

আগামী তিনদিনের মধ্যে টিসিবি ২৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

তিনি বলেন, কোল্ডস্টোরেজ পর্যায়ে ২৩ টাকা, পাইকারি পর্যায়ে ২৫ টাকা ও খুচরা পর্যায়ে ৩০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। এবিষয়টি কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বাজার দর মনিটরিং করা, বাজারের হ্রাস বৃদ্ধির কারণ চিহ্নিত করা এবং তা স্থিতিশীল করার জন্য সরকারকে পরামর্শ দেওয়া। তারা এসব বিবেচনা করে একটা পরামর্শ আমাদের কাছে দিয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে কোল্ডস্টোরেজ মালিক, আড়তদার ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি একথা জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিপণন অধিদপ্তর থেকে তিন স্তরে যে দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সেটা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। আমাদের কাজ হলো ভোক্তাদের স্বার্থ দেখা। সেজন্য আমরা তারা যে পরামর্শটা দিয়েছে সেটা যেন ভোক্তারা পায় সেটা দেখার দায়িত্ব আমাদের। এজন্য আমরা আজকে আলোচনায় বসেছি।

তিনি বলেন, আমরা আজকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি কৃষি বিপণন অধিদপ্তর থেকে যে দামটা দেওয়া হয়েছে সেটা বাস্তবায়ন করবো। এরমধ্যে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের নির্ধারিত দাম নিয়ে বিবেচনার কথা বলেছেন কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। সে বিষয়ে আমি বলেছি আমরা দুই এক দিনের মধ্যেই কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সাথে বসবো সেখানে তারা যদি তাদের কোনো যুক্তিক কিছু দেখাতে পারেন তাহলে তারা সেটা দিতে পারেন ৷ কিন্তু এই মুহূর্তে আমাদের দুইটা জিনিস এক হলো আমরা শক্তভাবে যে দামটা দেওয়া হয়েছে সেটা অবিলম্বে কার্যকর করতে চাই। আর দ্বিতীয়ত হলো, বরাবরের মতো আমাদের সংকটকালে টিসিবি নামে। তাই আমরা টিসিবিকে নির্দেশ দেবো দ্রুত বাজার থেকে আলু কিনতে। যাতে আগামী তিন দিনের মধ্যেই টিসিবির মাধ্যমে ২৫ টাকা কেজি দরে আলু সাধারণ ভোক্তারা পায়।

মন্ত্রী বলেন, কোল্ডস্টোরেজ পর্যায়ে প্রতিকেজি আলুর দাম ২৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেটা না মানলে কোল্ডস্টোরেজ থেকে এই দামে আলু কিনে বাজারে ছাড়ার ক্ষমতা সরকারের আছে। তাই আমরা তাদেরকে বিপদে ফেলতে চাই না। যেভাবে হিসাব করা হয়েছে ২৩, ২৫ ও ৩০ টাকা। সেটা যথেষ্ট বিবেচনার মাধ্যমেই করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এবছর আলুর উৎপাদনে দেরি হবে। পাশাপাশি বন্যা স্বাভাবিক শাক সবজির ওপর প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে কিছুটা প্রভাব পড়েছে আলুর ওপরে। শীতকালিন শাক সবজি কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে বাজারে আসবে তখন আলুর ওপর চাপ কমবে। তাই কেউ মজুদ বা আটকে রাখলে বিপদে পড়বে।

তিনি বলেন, আমাদের এমন ঘাটতি নেই যে হাই-হুতাশ করতে হবে। কৃষি অধিদপ্তরের হিসাব অনুসারে উৎপাদন ভালো হয়েছে। আলুর একটু চাহিদা বেড়েছে তবে কোনো অবস্থাতেই বিপদজনক পরিস্থিতি না। এজন্য আমি ব্যবসায়ী ও কোল্ডস্টোরেজ মালিকদের বলতে চাই নির্ধারিত দামেই আলু বিক্রি করতে হবে। এইমুহূর্ত থেকে ২৩ টাকা দরে কোল্ডস্টোরেজে, ২৫ টাকায় পাইকারি বাজারে ও ৩০ টাকায় খুচরা বাজারে আলু বিক্রি করতে হবে।

যে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে সেটা বাস্তায়ন দেখা যাবে কিনা ও মনিটরিং করা হবে কিনা জানতে চাইলে টিপু মুনশি বলেন, এই দামটা আমরা নির্ধারণ করিনি। তবে আমরা এই দাম দ্রুত বাস্তবায়নে যাবো। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা বলেছেন এই দামটা আর একটু বিবেচনায় নিতে ৷ সেখানে আমরা দুই এক দিনের মধ্যে বসে ২৩ টাকা থেকে যদি আরও এক টাকা বৃদ্ধির প্রয়োজন বলে সবাই মনে করে তাহলে দেখবো।

তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের যে দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে সেটা বাস্তবায়ন করবো। আর বাজরে যেটা ৩০ টাকা করা হয়েছে সেটা টিসিবির মাধ্যমে ২৫ টাকায় বিক্রি করার চেষ্টা করবো আমরা ৷ বাজারগুলোতে আমাদের মনিটরিং টিম থাকবে এবং আছে। কাল থেকে র‌্যাবও অভিযানে যাবে।

বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন- কৃষি বিপণন অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. ওবায়দুল আজম, অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) মো. হাফিজুর রহমান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা, বাংলাদেশ ট্রেডিং করপোরেশন অফ বাংলাদেশ (টিসিবি) এর চেয়ারম্যান ব্রি.জে মো. আরিফুল হাসান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান, বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মো. মোস্তাক হোসেন, ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশনের সদস্য শাহ মো. আবু রায়হান আল-বেরুনি, র‌্যাব, ডিজিএফআই, এনএসআই-এর প্রতিনিধি, কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন এবং পাইকারি আলু ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা।