‘অটো প্রমোশন’ নয়, মূল্যায়নের ভিত্তিতেই উত্তীর্ণ হবে শিক্ষার্থীরা


টাইমস প্রতিবেদক
Published: 2020-09-24 20:24:41 BdST | Updated: 2020-10-24 17:16:10 BdST

অটো প্রমোশন নয়, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মেধা মূল্যায়ন করেই অন্য ক্লাসে উত্তীর্ণ করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ কথা জানান তিনি। করোনা পরিস্থিতিতে সব কিছুই পাল্টে গেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অষ্টম শ্রেণির মূল্যায়ন ও পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণের বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের পর অধ্যাপক জিয়াউল বলেন, ‘ডিসেম্বর পর্যন্ত সিলেবাসের যেটুকু পড়ানো হবে সে অনুযায়ী স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করবে। মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সঠিকভাবে করতে পারে সে জন্য আমরা একটা গাইডলাইন তৈরি করে দেবো। পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিটের মাধ্যমে গাইডলাইন তৈরি করা হবে। সেই গাইডলাইন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হবে।’

কবে নাগাদ গাইডলাইন দেওয়া হবে জানতে চাইলে অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, ‘গাইডলাইন করতে কিছুটা সময় লাগবে। গাইডলাইনে একটি প্রাথমিক প্রিন্সিপ্যাল তৈরি করেছি। গত ১৫ মার্চ পর্যন্ত শ্রেণি কার্যক্রম চলেছে। এই পর্যন্ত এবং টেলিভিশন ও অনলাইনে শ্রেণি কার্যক্রম চলছে, এছাড়া যদি যেকোনো মাসে যদি ক্লাস করানোর সুযোগ তৈরি হয়, সেই সময় ডিসেম্বর পর্যন্ত যতটুকু পড়ানো হয়েছে, তার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।’

অধ্যাপক জিয়াউল হক বলেন, ‘যেটুকটু পড়ানো সম্ভব হবে না, সেইটুকু আমরা পরবর্তী শ্রেণিতে লিংকআপ করে দেবো। লিংআপ করে দেবো এভাবে যে, নবম শ্রেণিতে খন ক্লাস শুরু করবে তখন অষ্ট শ্রেণির যে অংশ পড়ানোর প্রয়োজন হবে সে অংশ টেওভার করতে পারে। ‘ নবম শ্রেণির জন্য অষ্টম শ্রেণির যে অংশ অতিপ্রয়োজনীয় সেই অংশটুকু আমরা নবম শ্রেণিতে শিক্ষক যাতে শেষ করান, সে জন্য নির্দেশনা দেওয়া হবে। ’

শিক্ষার্থীদের সরাসরি না অনলাইনে মূল্যায়ন করা হবে জানতে চাইলে অধ্যাপক জিয়াউল হক বলেন, ‘যদি ক্লাসরুমে সম্ভব হয় ক্লাস রুমে হবে, যদি অনলাইনে মূল্যায়ন করা যায় মূল্যায়ন হবে, যদি অনলাইনে মূল্যয়ন করা না যায়, তাহলে শিক্ষকরা তো শিক্ষার্থীদর জানেন, তাদের আগের যে এসেমেন্ট রয়েছে তার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা যাবে। মূল্যায়ন করার জন্য সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি আমরা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। সেটি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। তবে মূল্যায়ন হবে। ’

অটো প্রমোশন দেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, ‘অটো প্রমোশন বলতে কিছু নেই। সবকিছু মূল্যায়নের ভিত্তিতে হবে।’

প্রতিষ্ঠান খোলা গেলে পরীক্ষা হবে কিনা জানতে চাইলে অধ্যাপক জিয়াউল হক বলেন, ‘যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যায়, আমাদের শিক্ষার্থীরা যদি ক্লাসে ফেরত আসতে পারে, তাহলে তো পরীক্ষা (স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে) হতেই পারে। যদি তা না হয়, তাহলে যেসব প্রতিষ্ঠান অনলাইনে পরীক্ষা নিতে পারবে (অনেক প্রতিষ্ঠান এখন অনলাইনে পরীক্ষা নিতে পারে) নেবে, যার যা সামর্থ অনুযায়ী নেবে।

একাদশের মূল্যায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, ‘একাদশ শ্রেণির ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করে পরবর্তী ক্লাসে তুলে দেবে।

ষষ্ট ও সপ্তম শ্রেণির বিষয়ে অধ্যাপক জিয়াউল হক বলেন, ‘ষষ্ট এবং সপ্তম শ্রেণির বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর নিশ্চয় গাইডলাইন দেবে। নবম শ্রেণির ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেভাবেই নিজস্ব প্রক্রিয়ায় মূল্যায়ন করে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করবে। নবম ও দশম মিলেই একটি সিলেবাস। সিলেবাসের একটি অংশ নবম শ্রেণিতে পাঠদান করা হয়, আরেকটি অংশ দশম শ্রেণিতে পাঠদান করা হয়। সে ক্ষেত্রে সমস্যা নেই। নবম শ্রেণিতে যে পাঠদান বাকি আছে তা দশম শ্রেণিতে পাঠদান করানো হবে।’