ক্যাম্পাসে ফেরার অপেক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা


মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ
Published: 2020-10-04 21:32:03 BdST | Updated: 2020-11-27 09:18:39 BdST

বিশ্বকবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, ‘আশাই জীবন জীবনই শ্রী, আমরা আশায় বুক বাঁধি।’ বৈশ্বিক মহামারি করোনা থামিয়ে দিয়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। সবাইকে করে দিয়েছে একেবারে ঘরবন্দী। দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় অনলাইন ক্লাস চললেও আশানরূপ ফলাফল নেই। তাত্বিক জ্ঞান কিছুটা মিটলেও ব্যবহারিক ক্লাস থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা। ছুটিতে দুরন্তপনা শিক্ষার্থীরা হয়ে পড়েছে ঘরকুনো। বাড়ছে হতাশা। প্রায় সবকিছু খুলে দিলেও বন্ধ রয়েছে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ক্যাম্পাসে ফেরার প্রহর গুনছে প্রতিটা শিক্ষার্থী। আশায় বুক বেঁধে আছে কবে ফিরবে প্রিয় ক্যাম্পাসে।

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন কিছু শিক্ষার্থীর ভাবনা তুলে ধরেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. মনিরুজ্জামান:

আবেগ ও ভালোবাসার আরেক নাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। যেখানে প্রতিদিন হাতছানি দেয় হাজারো স্বপ্ন। জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা মেতে থাকে আড্ডা, খেলা-ধুলায়। ইট-ইট-পাথরের শহরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেন একটি সবুজের সমারোহ। প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের কোলাহলে মুখরিত থাকে প্রিয় ক্যাম্পাসটি। হল, ডিপার্টমেন্ট, টিএসসি কোনটিই যেন ভুলে থাকার মত নয়। তবে আজ সবই অতীত। করোভাইরাসের কারনো সবকিছুর মত বন্ধ হয়ে যায় সদা মুখরিত ক্যাম্পাসটিও। গৃহবন্দী হয়ে যায় হাজারো স্বপ্ন।

তবে এই গৃহবন্দী জীবনেও কখনো ভুলা যায় না প্রিয় বিদ্যালয়টির কথা। ভুলা যায় না প্রতিদিন সকালে সেনাবাহিনী প্রশিক্ষণের ক্লাসে যাওয়া আর এক টা-ই এ কয়েক বন্ধুর প্রেজেন্টেশন দেয়ার কথা। সদা মনে পড়ে টিএসসির চায়ের কাপে উষ্ণ চুম্বন দেয়ার কথা। মনে পড়ে যায় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে লাইনে দাড়িতে থাকার কথা। কোন প্রেয়সীর জন্য নয় বরং একটি পড়ার সিটের জন্য। ভালো থাকো প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ের। আবারো তোমার কোলে ফিরে যাওয়ার প্রতিক্ষায় রইলাম।


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোস্তাকিম হোসেন:

বিশ্ব মহামারী করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) ক্যাম্পাস বন্ধ প্রায় ছয় মাস। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে ক্যাম্পাস ছাড়া নিজেকে মাঝে মাঝে জেল খানার কয়েদি মনে হয়। সকল শিক্ষার্থীর মত আমার মন ও উদগ্রীব ক্যাম্পাসে ফেরার ব্যাকুলতাই। ফুলের বাগানে যেমন ফুলের শোভা পায় তেমনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থী তার সকীয়তা খুঁজে পাই। একজন ক্যাম্পাস সাংবাদিক হিসাবে ক্যাম্পাস আমার বড় আবেগের স্থান। ক্যাম্পাসের কিছু স্থান আমার খুব মনে পড়ে তা হলো টিএসসি (বড় ভাইদের উপদেশ আর বন্ধুদের সাথে আড্ডায় যেখানে সারা দিনের ক্লেশ মুছে যায়), বটতলা (এ স্থান ব্যতীত চলতেই পারি না), সপ্তম ছায়ামঞ্চ, সেলিম আল দিন মুক্তমঞ্চ, শহীদ মিনার যেখানে পায়ের স্পর্শ ছাড়া যে দিনই কাটে না আমার। আজ দূরে থেকেও এ সব স্থান ভুলতে পারি না।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুস সবুর লোটাস:

করোনা নামক এক অদৃশ্য ভাইরাস স্বাভাবিক, মুক্ত, স্বাধীন জীবনযাপনকে ঘরবন্দী করলো। মনের ভিতর ভয়ের বাসা বাঁধলো ভাইরাসটি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বন্ধ ফলে প্রিয় ক্যাম্পাস থেকে আসতে হলো বাসায়। প্রথমের দিনগুলো পরিবারের সবার সাথে ভালো কাটছিলো। মাঝে মাঝে কটানো দিনগুলোর কথা মনে করে ও কিছু ছবি দেখে সময় কাটছিলো। দিন যত বাড়তে লাগলো একটু করে একঘেয়েমি ও বিরক্ত আসলো বন্দী জীবনে। বেশির ভাগ সময় মনে পড়ে বন্ধুদের সাথে কাটানো সময় গুলো। ক্যাম্পাসে চায়ের কাপে আড্ডা, তর্ক-বিতর্ক, উচ্চস্বরে গান গাওয়ার কথা। হুট করে এক বন্ধুর রুমে গিয়ে কার্ড খেলা ও গভীর রাতে নিস্তব্ধ শহর দেখা। আবার ক্লাস টেস্ট ও পরীক্ষার আগে একটু পড়াশুনা করা।

পুরাতন বইপত্র কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে আর খোঁজা হচ্ছে না। এসব ওসবের আর কিছুই হচ্ছে না। যাদের সাথে সারদিন কাটতো তাদের কারো সাথে দেখা পর্যন্ত হচ্ছে না। প্রতিদিনই মনে হয় কবে প্রিয়ো ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সাথে মিলিত হবো। আবার আগের মত স্বাভাবিক, মুক্ত, স্বাধীনভাবে জীবনযাপন শুরু হবে। এই ভেবেই অনেকটা সময় কাটে। পরিস্থিতি সবার স্বাস্থ্যের অনূকুলে আসলেই যেনো দ্রুত ক্যাম্পাস খোলা হয় এই আশায় আছি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুজাহিদ বিল্লাহ:

করেনা ভাইরাসের কারনে অনেক দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাহিরে সবাই। নিজ ক্যাম্পাসটি শিক্ষার্থীদের কাছে সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। ক্যাম্পাস জীবনে বন্ধুসহ অনেককেই মিস করছে সবাই। সব দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক প্রাণের ক্যাম্পাসকে আবারো উল্লাস করতে চাইছে শিক্ষার্থীরা। ক্লাসের ফাঁকে আড্ডা থেকে শুরু করে টিএসসি (জবি), প্রিয় জায়গা শান্ত চত্বর, কাঁঠাল তলা সকল নিস্তব্ধ হয়ে ওঠা জায়গা গুলো শিক্ষার্থীদের পদচারণার অপেক্ষায় রয়েছে। রাতে কিংবা দিনে গানের আসর জমে উঠবে আবার এই প্রত্যাশায়। শিক্ষকদের সান্নিধ্য নিয়ে নিজেদের গড়তে চায় মানুষের মত মানুষ। সঠিক দিকনির্দেশনা ও শর্ত প্রদানের সহিত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে শিক্ষার্থীদের আনাগুনায় ভরিয়ে দিয়ে আবার প্রাণচঞ্চল করতে চাইছে সবাই। শিক্ষার্থী ছাড়া এই হাহাকার করা ক্যাম্পাসটি খুলে দেয়ার মাধ্যমেই প্রাণ ফিরে পাবে এই কামনা সকলের।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব:

বিশ্ববিদ্যালয় হল প্রতিটি শিক্ষার্থীর আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা। যেখানে প্রতিনিয়ত লালিত হয় হাজারো স্বপ্নবাজদের স্বপ্ন। প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনে সবচেয়ে বেশি আনন্দময় মুহূর্ত হল ক্যাম্পাসে কাটানো মুহূর্তগুলো। কিন্তু অবাধ স্বাধীনতাময় এই ক্যাম্পাস জীবনের আড্ডা থেকে অর্জন করা যায় অনেক কিছু। কিন্তু বিশ্বব্যাপী চলছে করোনার মহা আতংক। যার কারণে হাজারো স্বপ্নবাজ আজ গৃহবন্দী দিন যাপন করছে। আজ এই গৃহবন্দীতেও তারা প্রতিনিয়ত চিরচেনা ক্যাম্পাসকে মিস করতেছে। পঞ্চাশ একরের ভালবাসা যেন এক অমায়িক ভালবাসা। যার প্রতিটি পানে ছুটে চলে হাজারো স্বপ্ন। লাল পাহাড়ের সবুজ অরণ্যে ভরপুর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

লাল পাহাড় আর সবুজ অরণ্যের কোল ঘেঁষে দাড়িঁয়ে আছে ছোট বড় বেশ কয়টি ভবন। শূন্য আকাশ থেকে পাখির চোখে দেখলে মনে হবে সবুজের মাঝে সাদা বক সারি দাড়িঁয়ে আছে। যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাখেলা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। সবে মাত্র পঞ্চাশ একরের ছোট্ট একটি ক্যাম্পাস, ইহা যেন লালমাটির সবুজের সমারোহ। লালমাটির আভায় লালায়িত হাজারো স্বপ্নবাজ ক্যাম্পাস ছেড়েছি বহুদিন। কিন্তু তাদের মাঝে এখন আর ক্লাস, প্রেজেন্টশন, টার্ম পেপার, অ্যাসাইনমেন্টের জন্য স্যার ম্যামদের বকুনি শুনতে হয়না। দীর্ঘ প্রতিক্ষায় রইলাম সুস্থ পৃথিবীর আশায়।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ধীরা ঢালী

শিক্ষার্থী এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঝে সম্পর্ক যেন সন্তান এবং মায়ের মতোই আকুতিপূর্ণ। একে অপরের সম্পর্ক যেন অবিচ্ছেদ্য। অথচ এই নাড়ীর বাঁধন ছিন্ন করে আমরা আজ দীর্ঘ সাতটি মাস ঘরবন্দী অবস্থান করছি। আর প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের অস্তিত্বের প্রহর গুনে চলেছে আমাদের সবার প্রিয় গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বালুকণা। শরতের এইদিনে বন্ধুদের সঙ্গে সাদা কাশবনে উতাল-পাতাল করে ডানা ঝাঁপটিয়ে বেড়ানোর কী যে আনন্দ আজ তা খুব মনে পড়ে! অথচ আজ আমার প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে বিষন্নতা আর একাকিত্বের ভীড়ে।

তবে আমি মনে করি প্রতিটি মানুষকে আশাবাদী হওয়া উচিত। অন্ধকার কেটে যেমন একমুঠো মিষ্টি রোদকে সঙ্গী করে ভোরের সূর্য ওঠে। তেমনি আমাদের উজ্জ্বল আলোয় আবারও প্রজ্জ্বলিত হবে প্রাণের ক্যাম্পাস গণ বিশ্ববিদ্যালয়। আর আমরা ফিরে পাবো আমাদের সেই নাড়ীর বাঁধনে আবদ্ধ মাতৃসমা ক্যাম্পাসকে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রোকনুজ্জামান:

দীর্ঘ প্রায় সাত মাস যাবত গ্রামের বাড়িতে আছি। নির্দিষ্ট করে বললে, ঘরের মধ্যেই আছি। একঘেয়েমি চলে আসাটা অতি স্বভাবিক। ক্রমেই দৈনন্দিন গতিময়তা হারিয়ে জীবনে অনুপ্রবেশ করছে মন্থরতা। একঘেয়েমির ফলস্বরূপ কোনো কাজেই মন বসছে না ইদানিং। দিনগুলো অনেকটা নিষ্ফল ভাবেই কেটে যাচ্ছে। আবার, এই সময়ে বাস্তবতার প্রতিকূলে যাওয়াও প্রায় অসম্ভব। ফলে, অনিচ্ছা সত্ত্বেও পরিস্থিতির শিকার হয়ে ফেরা হচ্ছে না প্রিয় ক্যাম্পাসে। ক্যাম্পাসের রুটিনমাফিক নাশতা, ক্লাস, আড্ডা, গ্রুপ ওয়ার্ক সবই যেন স্মৃতির পাতায় ধুলা মলিন কিছু খন্ডচিত্রে পরিণত হয়েছে।

খণ্ডচিত্রগুলো পুনরায় চিত্রিত হোক প্রিয় ক্যাম্পাসের প্রিয় জায়গাগুলোতে, কায়মনোবাক্যে সেটাই চাই। অভিশপ্ত সেশন জটের কবলে হয়তো ইতোমধ্যেই বন্ধি হয়েছি। আরও বেশি করে এই বন্ধনে আবদ্ধ হতে চাই না। প্রত্যাশা একটাই, দ্রুত সময়ে উত্তরণ ঘটুক এই পরিস্থিতির। অবসান হোক ক্যাম্পাসে ফেরার আধীর অপেক্ষার।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আজাহার ইসলাম:

ক্লান্তি অবসাদ ভূলে মিলিত হতাম একমনে চায়ের আড্ডায়। সাধারণ ছুটিতে উৎসুক থাকি কবে বাড়ি যাবো। এবারের ছুটিতে উৎসুক কবে ফিরবো প্রাণপ্রিয় ক্যাম্পাসে। দীর্ঘ ৭ মাস ধরে বন্ধ ক্যাম্পাস। ছুটিতে বাড়িতে শুয়ে বসে থেকে একঘেয়েমি চলে এসেছে। অননাইলে ক্লাস হচ্ছে কিন্তু মিস করি প্রিয় বন্ধুদের সাথে বসে ক্লাসরুমে এক বেঞ্চে বসে ক্লাস করা। মিস করি ক্লাসের ফাঁকে দুষ্টুমি। ক্লাস শেষ করেই ঝালচত্বরের ডাল পুড়ি খাওয়া হয়না দীর্ঘ ৭ মাস। প্রাণবন্ত ক্যাম্পাসে চিরযৌবনা ডায়না চত্বরে বসে আড্ডা, কোন একদিন ক্লাস বাতিল হলে হঠাৎ প্লান করে ছোটখাটো ট্যুরে অথবা গরুর মাংস খেতে মধুপুরে যাওয়াও বন্ধ।

সবচেয়ে বেশি মিস করি সন্ধ্যায় টিটু মামার দোকানে চায়ের আড্ডাটা। সারাদিনের ক্লান্তি অবসাদ ভূলে ক’জন বন্ধু মিলিত হতাম এসসাথে। চুমুকে চুমুকে আড্ডা, বেসুরো গলায় গান গাওয়া। চা খেয়ে পুরো ক্যাম্পাস একবার চক্কর দিয়ে ফিরতাম নিজ হলে। এখন মনের কোণে একই প্রশ্ন একই আশা ‘কবে ফিরবো ক্যাম্পাসে?’

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রেজওয়ান আহম্মেদ:

ছুটি মানেই সীমাহীন আনন্দ, আমরা খুঁজে পাই যন্ত্রণাময় পড়াশোনার চাপ থেকে মুক্তি। কিন্তু এ ছুটি অনিশ্চিত, অদ্ভুত রকম অনির্দেশ্য। দীর্ঘদিন ঘরবন্দী থাকার ফলে ক্যাম্পাসের প্রতি মায়া টা যেন আরো গভীরভাবে অনুভব করছি। অদম্য বাংলার পাশের টং দোকানগুলোতে চায়ের কাপে ধোয়া ওঠে না আজ অনেকদিন, তপনদার মুখের সেই চিরচেনা হাসি নেই, ক্লাসের ফাঁকে সদলবলে ক্যাফেটেরিয়ায় আড্ডা, সব যেন আজ কল্পনা।

ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা করার সুবাদে শ্রদ্ধেয় ভিসি স্যারসহ অনেক উচ্চপদস্থ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কাছে যখন মতামত জানতে যেতাম, প্রায়শই শুনতে পেতাম ওনাদের জীবনঘনিষ্ঠ অভিজ্ঞতার গল্প। এখন সারাক্ষণই পরম করুনাময়ের কাছে প্রার্থণা আবার ঝলমলে সুন্দর সকাল হোক, প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠুক প্রিয় ক্যাম্পাস, আবারও নৃত্য-ছন্দে মেতে উঠুক মুক্তমঞ্চ, খুব দ্রুতই যেন ফিরতে পারি প্যারা দেওয়া সেই ক্লাসরুমগুলোতে প্রিয় মুখগুলোর সাথে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জয়নাল আবেদীন:

প্রতিটি শিক্ষার্থী তাঁর নিজ নিজ ক্যাম্পাসের প্রতি মায়াজালে আবদ্ধ থাকে। কিছু স্মৃতিকথাও থেকে যায়। একসাথে বন্ধুদের সাথে ক্লাসরুমে ক্লাস করা। ক্যাফেটেরিয়ায় আড্ডা দেওয়া। ঘুরতে যাওয়া, খেলাধূলা ও দুষ্টামি করা। সবমিলিয়ে এক অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে প্রতিটি শিক্ষার্থীর। ঠিক আমারও একই অবস্থা। আগের মতো সেই আড্ডা, একসাথে ক্লাস করা হয়না। করোনায় জীবনকে সংকীর্ণতা করেছে। তবে এর মধ্য দিয়েও ফিরে যেতে চাই আমার প্রিয় ক্যাম্পাসটিতে।

আগের মতো গাইতে চাই গান, হাসতে চাই প্রাণ খুলে। চায়ের আড্ডায় কীর্তনখোলার নদীর তীরে মুক্ত বাতাসে বন্ধুদের সাথে খোশগল্পে মেতে উঠতে চাই। বন্ধু,অনুজ ও অগ্রজ দের সাথে মিলন মেলায় আড্ডা দিতে চাই শেখ হাসিনা হলের পাশে তালতলা নামক স্থানে। যেটি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একটি অন্যরকম স্মরণীয় স্থান। কবে খুলবে ক্যাম্পাস শুধু সেই অপেক্ষায়। মনটা আজ বিচলিত।আগের মতো পরিবেশ ফিরে আসুক এই কামনা করি। শিক্ষার্থীদের আনাগোনায় মুখরিত হোক ক্যাম্পাস। প্রাণ ফিরে পাক প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যদিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সবকিছু আগের মতো চলছে। তাই আশাবাদী স্বাস্থ্যবিধি মেনে দ্রুত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ত্বরান্বিত ও বিকশিত করার সুযোগ করে দেওয়া হোক।