সে এক শুভ্র সাই পল্লভী, নেই ‘বয়ফ্রেন্ড’ও


Dhaka
Published: 2020-10-17 23:13:29 BdST | Updated: 2020-10-20 03:23:53 BdST

১৯৯২ সালের ৯ মে সাই পল্লভী সেনথামারাইয়ের জন্ম তামিলনাড়ুর কোটাগিরিতে। বাবা সেনথামারা কান্নান শুল্ক কর্মকর্তা, মা রাধা কান্নান গৃহিণী আর ছোট বোন পূজা কান্নানও অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত। স্কুল-কলেজে থাকতেই অভিনয়ে হাতেখড়ি। ২০০৫ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন তামিল ভাষার ‘কাসথুরি মান’ সিনেমায়।

অনেক তরুণ ভক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাই পল্লভীর দুটি তথ্য নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন নানা মন্তব্য দিয়ে। এক, দক্ষিণি সিনেমার এই নায়িকা এখনো ‘অবিবাহিত’। আর পল্লভীর কোনো ‘বয়ফ্রেন্ড’ নেই। এ বিষয়ে জোরালো কোনো গুঞ্জন বা লক্ষণ দেখা যায়নি। তাই ‘প্রেমাম’ দেখার পর ‘মালার’কে নিজের মতো করে ভাবতে থাকেন, হয়তো স্বপ্নও দেখেন। কেন দেখেন? সে প্রসঙ্গে এখই চলে যাই।

শুরুতেই সাই পল্লভীকে ভক্তদের নিজের মতো করে ভাবার প্রসঙ্গ নিয়ে আসার কারণ, ২০১৬ সালের একটি প্রতিবেদন। কেরালার কোচি টাইমস নামের পত্রিকা তাদের করা এক জরিপের বরাত দিয়ে প্রকাশ করে, সে বছরের সবচেয়ে বেশি কাঙ্ক্ষিত নারী ছিলেন ‘ফিদা’ সিনেমার এই নায়িকা।

‘ফিদা’ সিনেমার কথাই যখন এল, তখন আরেকটি তথ্য জেনে নেওয়া যাক। মুক্তির পর সিনেমাটি এতটাই জনপ্রিয়তা পায় যে টেলিভিশনে প্রচারের পর সম্প্রচারকারী চ্যানেলটির টিআরপি ছিল সর্বোচ্চ।

এখন পর্যন্ত ১১টি সিনেমায় অভিনয় করা এই নায়িকা কীভাবে এত পছন্দের মানুষে পরিণত হলেন, সে প্রশ্নের উত্তরই সরলীকরণ করে এ প্রতিবেদনের যে শিরোনাম দেওয়া হয়েছে, বাংলায় লিখলে তা দাঁড়ায়—‘সে এক শুভ্র সাই পল্লভী’।

যত সিনেমায় এই নায়িকা অভিনয় করেছেন, তাতে তাঁকে কোনোরকম গ্ল্যামার ছাড়াই উপস্থাপন করা হয়েছে বা তিনি হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি কাঙ্ক্ষিত নারীর ওই প্রতিবেদনে কোচি টাইমস লিখেছে, ‘ইন দ্য ওয়ার্ল্ড অব স্যালন স্ট্রেইট হেয়ার অ্যান্ড প্যানকেক মেকআপ, সি স্ট্যান্ডস আউট উইথ হার কার্লি লুক, পিম্পলস হুইচ সি মেকস নো অ্যাটেম্পট টু হাইড।’ নিজের নামের যথার্থতাই যেন প্রমাণ করে চলেছেন তিনি। পল্লভী নামের যত অর্থ আছে, সেগুলোর মধ্যে ‘স্বাভাবিক’ অর্থটাই যেন তাঁর ব্যক্তিত্ব আর অভিনয়ের সঙ্গে মিলে যায়।

এই তারকার অভিনয়েও নেই অতিরিক্ত রংঢং। সেটা হতে পারে গল্পের চরিত্র অথবা ‘সাই পল্লভী যেমন, সিনেমাতেও তেমন’ সেই গুণের কারণেও। আবার রঙিন তিনি, চরিত্রের বৈচিত্র্যতায়। সে আলাপে যাওয়ার আগে জেনে নেওয়া যাক এই অভিনেত্রীর ব্যক্তিজীবন সম্পর্কে।

১৯৯২ সালের ৯ মে সাই পল্লভী সেনথামারাইয়ের জন্ম তামিলনাড়ুর কোটাগিরিতে। বাবা সেনথামারা কান্নান শুল্ক কর্মকর্তা, মা রাধা কান্নান গৃহিণী আর ছোট বোন পূজা কান্নানও অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত। স্কুল-কলেজে থাকতেই অভিনয়ে হাতেখড়ি। ২০০৫ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন তামিল ভাষার ‘কাসথুরি মান’ সিনেমায়। ২০০৮ সালে পার্শ্বচরিত্রে দেখা যায় ‘ধাম ধুম’-এ। যেখানে কঙ্গনা রনৌতও ছিলেন। কলেজের পাঠ চুকিয়ে ভর্তি হন জর্জিয়ার তিবিলিসি স্টেট মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে। তখনই আসে নিভিন পৌলির বিপরীতে ‘প্রেমাম’ সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব। পড়াশোনার ফাঁকে শুটিং করেন ছুটির দিনগুলোতে। ২০১৫ সালে যখন সিনেমাটি মুক্তি পেল, তখন কোঁকড়া চুল আর গালে ব্রণের বড় বড় দাগওয়ালা সাই পল্লভীই দর্শকদের কাছে পরিণত হন ‘মালার’ (ফুল দিয়ে বানানো হার)।

‘প্রেমাম’–এ মালার ছিলেন কলেজশিক্ষিক। ব্যক্তিত্বসম্পন্ন সে শিক্ষিক প্রেমে পড়েন ক্লাসের শেষ ব্রেঞ্চের এক ছাত্রের। একটি দুর্ঘটনায় স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ভুলে যান সব। ২০১৬ সালে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ‘কালি’-তে বদরাগী তরুণের স্ত্রীর ভূমিকায় দেখা মেলে তাঁর। পরের বছর ‘ফিদা’য় (তেলেগু) হাজির হন গ্রামের দুরন্ত তরুণী হিসেবে। এখন পর্যন্ত এই তিন সিনেমা দিয়েই ঝুলিতে জমা হয়েছে ১০টি অ্যাওয়ার্ড। শোনা যায়, ওই সময় (২০১৫-১৬) জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকেও নাকি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন প্রায় দুই কোটি রুপির প্রস্তাব। যা ছিল একটি ফেয়ারনেস ক্রিমের বিজ্ঞাপন।

ফিদার পর এই নায়িকা আরও ছয়টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ‘মিডল ক্লাস আব্বাই’, ‘দিয়া’, ‘কানাম’, ‘পাদি পাদি লেসে মানাসু’, ‘মারি-২’ ও ‘এনজিকে’। এর মধ্যে ‘পাদি পাদি লেসে মানাসু’র শুটিং হয়েছে কলকাতায়। বাংলা ভাষার না হলেও বাঙাল পরিবেশে বানানো সিনেমায় এই দক্ষিণি ‘ফুলের হার’কে কেমন লাগে, সুযোগ বুঝে সেটাও দেখে নিতে পারেন।