জেনে নিন বুর্জোয়া (Bourgeoisie) আসলে কী?


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2018-12-03 13:26:10 BdST | Updated: 2018-12-12 03:33:34 BdST

বুর্জোয়া শব্দটি ফরাসী। মধ্যযুগের ফরাসী দেশে বুর্জোয়া (Bourgeoisie) টার্মটির প্রথম উদ্ভব হয়। ফরাসী শব্দ বুর্জোয়া বলতে বোঝানো হতো দেয়াল ঘেরা শহরের অধিবাসীদের। আজকের দিনের বুর্জোয়া শব্দটিও মূলত এসেছে পুরনো ফরাসী (Old French) শব্দ বার্জুস (burgeis) থেকে। যার অর্থ হলো দেয়াল ঘেরা শহর। সেই থেকে বুর্জুয়া (Bourgeoisie) অর্থ করা হতো, সেইসব দেয়ালঘেরা শহরের অধিবাসীদের। তবে ব্যবহারিক অর্থে বুর্জোয়া বলতে তখনকার দিনের শহরে বসবাসকারী মানুষজনকেই বুঝানো হতো।

আক্ষরিক অর্থের দিক থেকে দেখলে বুর্জোয়া শব্দটির তেমন তাৎপর্যপূর্ণ কোন মানে পাওয়া যাবে না। এসব শব্দকে বলা হয় পলিসিমি (Polysemy)। অর্থাৎ, লেখালিখির মধ্যে শব্দটি কিভাবে ব্যবহৃত হয়েছে তার দ্বারাই এর অর্থ বুঝতে হবে।

বুর্জোয়া শব্দের প্রয়োগ সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ হয়ে উঠে অষ্টাদশ শতাব্দীতে ফরাসী বিপ্লবের সময় থেকে। যখন শহুরে মধ্যবিত্ত পেশাজীবি এবং উৎপাদক শ্রেণী তাদের অর্থনৈতিক পদমর্যাদার উপরে ভিত্তি করে রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে আগ্রহী হয়। এসব শহুরে পেশাজীবি এবং ব্যাবসায়ী শ্রেণীর আগ্রহেই ফরাসী বিপ্লব সংঘটিত হয় বলেই কার্ল মার্ক্স এবং আরও অনেক চিন্তাবিদ এ বিপ্লবকে “বুর্জোয়া বিপ্লব” বলে আখ্যা দিয়েছেন।

সমাজতাত্ত্বিক দিক দিয়ে বুর্জোয়া বলতে সমাজের উপরের শ্রেণীর অর্থ ও ঐশ্বর্যশালী শ্রেণীকে বোঝানো হয়। যাদের নির্দিষ্ট সংস্কৃতি এবং অর্থনৈতিক অবস্থান রয়েছে এবং যারা সমাজের প্রোলেতারিয়েত (Proletariat) বা সর্বহারা শ্রেণীর একদম বিপরীত মেরুতে অবস্থান করে।

সামাজিক এবং রাজনৈতিক তত্বে বুর্জোয়ার ধারণাটির একটি বড় অংশ কার্ল মার্ক্স (Karl Marx) এবং তার থেকে প্রভাবিত অনুজ চিন্তাবিদদের দ্বারা নির্মিত। মার্ক্সীয় তত্বে বুর্জোয়ারা এমন এক শ্রেণী যারা শিল্পবিপ্লবে এবং সমাজের আধুনিকিকরনের ক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রাখে। কিন্তু পরবর্তীতে শিল্পে তাদের এই অবদানের মাধ্যমে তারা সকল “উৎপাদনের মাধ্যমের” উপরে একচেটিয় প্রভাব বিস্তার করে। আরও নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে উৎপাদনের মাধ্যম, (means of production) যেমন- প্রাকৃতিক সম্পদ, মিল, কারখানা এবং উৎপাদনের জন্যে প্রয়োজনীয় সমস্ত অনুষঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করে। এবং সম্পত্তিহীন সর্বহারা (Proletariat) শ্রেণীকে শোষণ করতে থাকে। চুড়ান্তভাবে যা সর্বহারা বিপ্লবের পথ প্রশস্ত করে দেয়। মার্ক্সের ধারণা ছিলো দিনশেষে এই চুড়ান্ত বিপ্লবের মাধ্যমে বুর্জোয়া শ্রেণীর সম্পদ বাজেয়াপ্ত হবে এবং শোষণ, শ্রেণী সংগ্রাম ও রাষ্ট্রের বিলুপ্তির মধ্য দিয়ে সূচনা ঘটবে সাম্যবাদের।

তথ্যসূত্রঃ

  1. https://www.britannica.com/topic/bourgeoisie
  2. কার্ল মার্কস ও ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস. (১৮৮৮) “কমিউনিস্ট পার্টির ইস্তাহার (বাংলা অনুবাদ ১৯৮৫)” মস্কো: প্রগতি প্রকাশন।
  3. T. Onions, Editor (1995) “The Oxford Dictionary of English Etymology” p. 110.
  4. encyclopedia.com
  5. পলিকোহলিক 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।