শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে আয় করার সেরা কিছু মাধ্যম


টাইমস অনলাইনঃ
Published: 2019-01-02 00:23:35 BdST | Updated: 2019-03-24 03:49:41 BdST

শিক্ষার্থীদের জন্য আয় করার হাজারটা মাধ্যম রয়েছে। শিক্ষাজীবনে কলেজ কিংবা ইউনিভার্সিটিতে থাকা অবস্থায় অনেক উপায়েই আয় করা সম্ভব। কিন্তু আয় শুরু করার আগেই শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের অজুহাত দেখায়, যার ফলে তারা জানে না যে কীভাবে আয় করতে হবে, আয় করার জন্য সঠিক আর উপযুক্ত ওয়েবসাইট কোনগুলো। চলুন তাহলে জেনে আসি, এমন কিছু মাধ্যম সম্পর্কে যেখান থেকে শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই আয় করা শুরু করতে পারে।

ব্লগিং
যদি আপনি কোনো বিষয় নিয়ে লিখতে পছন্দ করেন তাহলে ব্লগিং আপনার জন্য সবচেয়ে সহজ আর উপযুক্ত পদ্ধতি। যেকোনো বিষয়ের উপর আপনি লেখা শুরু করতে পারেন। সেজন্য প্রথমে আপনাকে একটি ব্লগ তৈরি করতে হবে। আপনি চাইলে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কিংবা খুবই অল্প খরচে ব্লগ তৈরি করে লেখা শুরু করতে পারেন। ব্লগিংয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, আপনি যেকোনো জায়গাতেই ব্লগিং করতে পারবেন। কন্টেন্টের মান ও ট্র্যাফিকের সংখ্যার উপর নির্ভর করে ব্লগ থেকে আয় করা শুরু করতে পারেন।

কন্টেন্ট রাইটিং
ব্লগিংয়ের মতোই, বিভিন্ন ওয়েবসাইট কিংবা পত্রিকাতে আপনি লেখক হিসেবে যোগ দিতে পারেন। তারা আপনাকে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক আর্টিকেলের জন্য অর্থ প্রদান করবে। কন্টেন্ট রাইটিংয়ের জন্য সেরা কিছু ওয়েবসাইট হচ্ছে রোর বাংলা, ইয়ুথ কার্নিভাল, ইতিবৃত্ত, বাংলাহাব ইত্যাদি। যদি আপনি ইংরেজিতে দক্ষ হয়ে থাকেন, তাহলে ইংরেজিতেও আর্টিকেল লিখে ভালো পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারেন। ইংরেজিতে আর্টিকেল লেখার জন্য সেরা কিছু ওয়েবসাইট হচ্ছে ওয়াও উইমেন অন রাইটিং, কলেজ হিউমার, ক্র্যাকড ডট কম, ওয়াচ কালচার, মিশেল পিপিন ইত্যাদি।

ভার্চুয়াল অ্যাসিস্টিং
বর্তমানে অনেক ওয়েবসাইট ও কোম্পানি রয়েছে, যারা ইমেইল পাঠানো, কাস্টোমার ম্যানেজমেন্ট, অডিও ট্রান্সক্রিপশন, ব্যাসিক রাইটিং, অনলাইন রিসার্চিংয়ের মতো কাজের জন্য ভার্চুয়াল অ্যাসিস্টেন্ট নিয়োগ দিয়ে থাকে। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আপনিও সেসব ওয়েবসাইট কিংবা কোম্পানিতে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্টেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারেন। ভার্চুয়াল অ্যাসসিটেন্টের কাজের জন্য সেরা কিছু ওয়েবসাইট হচ্ছে ম্যাজিক, টাইম ইটিসি, ভার্চুয়াল স্টাফ ফাইন্ডার, ফাইভার ইত্যাদি।

ফ্রিল্যান্সিং অন ফাইভার
ফাইভার হচ্ছে এমন একটি অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং কমিউনিটি যেখানে আপনি আপনার দক্ষতা বিক্রি করে আয় করতে পারবেন। একটি লোগো ডিজাইন থেকে শুরু করে কন্সাল্টিং দক্ষতাও বিক্রি করতে পারবেন ফাইভারে। ফাইভারে মূল পেইজে যাওয়ার পর, অ্যাকাউন্ট খুলে আপনার প্রোফাইলে নির্দিষ্ট কাজের জন্য গিগ তৈরি করতে হবে। আর তারপর, সেই গিগের একটি নির্দিষ্ট মূল্য নির্ধারন করতে হবে।

মাইক্রোওয়ার্কিং অন অ্যামাজন মেকানিক্যাল টার্ক
ছোটো ছোটো বিভিন্ন ধরণের কাজের জন্য আপনাকে অ্যামাজন মেকানিক্যাল টার্ক ০.০০৫ ডলার থেকে শুরু করে ১০ ডলার পর্যন্ত দিয়ে থাকে। এসব কাজের মধ্যে রয়েছে ফেসবুক পেইজে লাইক দেয়া, বিভিন্ন পোস্টে কমেন্ট করা, বিভিন্ন সাইটে সাইন আপ করা, ছোটো প্রোগ্রাম তৈরি করা, ইমেইল নিউজলেটার তৈরি করা, ব্যাসিক রাইটিং ইত্যাদি। এসব কাজগুলো ছোট হওয়ার কারণে খুবই সহজে আর বিশেষ কোনো দক্ষতা ছাড়াই করা যায়।

গ্রাফিক্স ডিজাইনিং
যদি আপনি ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটরের মতো সফটওয়্যারগুলোতে দক্ষ হয়ে থাকেন ও ডিজাইনিংয়ে ক্রিয়েটিভ হয়ে থাকেন, তাহলে একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে আয় করা শুরু করতে পারেন। অনলাইন বিভিন্ন ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে আপনার ডিজাইনগুলো বিক্রি করে খুবই সহজে আয় করা শুরু করতে পারেন। এসব ডিজাইনের মধ্যে লোগো, বিজনেস কার্ড, আইডি কার্ড, টেমপ্লেট, সিভি, রিজ্যুইমি ইত্যাদি রয়েছে। ডিজাইন বিক্রি করার জন্য সেরা কিছু ওয়েবসাইট হচ্ছে ৯৯ ডিজাইন, সোসাইটি সিক্স, সুপার মার্কেট, থ্রেডলেস ইত্যাদি।

ইউটিউব ভিডিও ব্লগিং
যদি আপনি নিজেকে ভিডিও করতে পছন্দ করেন, ভিডিওগ্রাফিতে আগ্রহী হয়ে থাকেন ও ক্রিয়েটিভ মেথডে ভিডিও এডিট করতে পারেন, তাহলে একজন ইউটিউব ভিডিও ব্লগার হিসেবে কিছু অতিরিক্ত অর্থ আয় করতে পারেন। আপনার ভিডিওতে এড প্রদর্শনের মাধ্যমে ইউটিউব থেকে খুব সহজেই আয় করা যায়। ভিডিও কন্টেন্টের মান ও ট্র্যাফিকের সংখ্যার উপর নির্ভর করে ভিডিও থেকে আয় করা শুরু করতে পারেন।

অ্যাপ্লিকেশন সেলিং
যদি আপনি একটা বা দুটো প্রোগ্রামিং ভাষায় দক্ষ হয়ে থাকেন তাহলে একটি সফটওয়্যার তৈরি করে সেটা বিভিন্ন সাইটে বিক্রি করার মাধ্যমেও ভালো অর্থ আয় করা যায়। বর্তমানে অনলাইনে অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে যারা বিভিন্ন ক্যাটাগরির সফটওয়্যার ক্রয় করে থাকে। এরকম কিছু ওয়েবসাইট হচ্ছে শপিফাই, ই জাংকি, ক্লিকব্যাংক, ফেচ অ্যাপ, সেন্ড আউল, পে টুল বক্স ইত্যাদি।

ক্যালিগ্রাফি সেলিং
যদি আপনার হাতের লেখা খুবই সুন্দর ও ডিজাইনেবল হয়ে থাকে, তাহলে সেই হাতের লেখাকে ক্যালিগ্রাফিতে রূপান্তরিত করে অর্থ আয় করতে পারেন। এই কাজের জন্য আপনি চাইলে ক্যালিগ্রাফির কোর্স তৈরি করতে পারেন কিংবা সরাসরি ক্যালিগ্রাফি বিক্রি করার ওয়েবসাইট থেকেও আয় করতে পারেন। ক্যালিগ্রাফি বিক্রি করে আয় করা যায় এমন কিছু ওয়েবসাইট হচ্ছে আপওয়ার্ক, এটসি শপ, ফাইভার ইত্যাদি।

ট্রান্সলেটিং ল্যাঙ্গুয়েজ
যদি আপনি দুটো কিংবা তিনটা ভাষায় পারদর্শী হয়ে থাকেন তাহলে সেই ভাষাগুলো অন্যদের শিখিয়েও আয় করতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনি অনলাইন কোর্সের মাধ্যমে ভাষা শেখাতে পারেন কিংবা অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে ভাষা অনুবাদ করার জন্য অর্থ প্রদান করা হয়। আপনি চাইলে সেসব ওয়েবসাইট থেকেও আয় করতে পারেন। ভাষা অনুবাদ করে আয় করার সেরা কিছু সাইট হচ্ছে আনবেইবল, ট্রান্সলেটরস টাউন, ট্রান্সলেটর বেইজ, ট্র্যাডু গাইড ইত্যাদি।

মার্কেটিং
বর্তমানে অনলাইন চাকরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যে শব্দটি শোনা যায়, সেটা হচ্ছে মার্কেটিং। আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে দক্ষ হয়ে থাকেন, তাহলে খুব সহজেই একটি মার্কেটিং অ্যাজেন্সি করে ঘরে বসেই আয় করতে পারবেন। এসইও, এসইএম কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের মত টেকনিকগুলো জানা থাকলে খুব সহজেই মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ আয় করা সম্ভব।

 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।