দেয়াল লিখনকে কেন চিকামারা বলা হয়?


Dhaka
Published: 2019-10-17 20:14:06 BdST | Updated: 2019-11-21 15:26:41 BdST

|| হেলাল হাফিজ, কবি ||

‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ নামে একটি কবিতা আমার জীবনধারা পাল্টে দিয়েছিল, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এসে ওই কবিতা আমাকে রীতিমতো স্টার বানিয়ে দেয়। এখন কী মনে হয় জানো, তা-ই বোধ হয় কাল হয়েছে। উত্তাল উনসত্তরের অগ্নিঝরা সময়ে ওই কবিতা লেখার পর অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটতে থাকল আমার জীবনে।

মাত্র দুই রাতে গোটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দেয়ালে দেয়ালে স্লোগান হিসেবে এই পঙ্ক্তি লেখা হলো। চিকা মারা যাকে বলে। এখনকার প্রজন্ম অবশ্য চিকা মারা কী, সেটার মর্ম বুঝতে পারবে না। গভীর রাতে, ভীতিকর পরিবেশে দেয়াললিখনরত তরুণদের জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, কী করছ? উত্তরে ওরা বলেছিল, চিকা (ছুঁচো) মারছি। সেই থেকে দেয়াললিখনের কাজকে বলা হতো চিকা মারা।

সেই সময় এমন হতো, হল থেকে ক্লাসে যাচ্ছি, টিএসসিতে যাচ্ছি, মেয়েরা বলাবলি করত, ওই যে কবি যায়। আমার নাম বলত না, ওই কবিতার কথা বলত। স্বাধীনতার পরও চার-পাঁচ বছর আমি সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে (সাবেক ইকবাল হল) ছিলাম। তখন নিয়ম ছিল, পরীক্ষা হয়ে গেলে হলের সিট ছেড়ে দিতে হতো। প্রভোস্টকে বলায় তিনি বললেন, ‘আচ্ছা, তুমি থাকতে পারবে। তবে বাবা, একটু আড়ালে-আবডালে থাকবে।’ ১৯৭৫ সালের আগস্ট ট্র্যাজেডির পর হল ছেড়ে দিই আমি। টিএসসিতে কখনো আমাকে নিজের পয়সায় খেতে হয়নি ওই কবিতার কারণেই।

আমি একটু দুষ্টুও ছিলাম সে সময়। আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের এক ক্লাস ওপরে পড়তেন। তখন তাঁকে দেখলেই দুষ্টুমি করে বলতাম, ওই যে অড্রে হেপবার্ন যায়। বঙ্গবন্ধুর বুকে মাথা রেখেছে তাঁর আদুরে জ্যেষ্ঠা কন্যা—এ রকম একটা ছবি আছে। ওই ছবি দেখলে আমার এই নামকরণের সারবত্তাটা তুমি বুঝতে পারবে। শেখ হাসিনাকে যে অড্রে হেপবার্ন বলতাম, তিনি সেটা বেশ উপভোগ করতেন বলে মনে হয়। সেই সময়ে সোফিয়া লরেন, অড্রে হেপবার্ন, সুচিত্রা সেন—এঁরা ছিলেন বিখ্যাত নায়িকা।