'কিরে, তোর তো রেজাল্ট ভালো - তুই তো টিচার হবি’


Buet
Published: 2019-12-07 05:18:52 BdST | Updated: 2020-01-26 09:05:01 BdST

শিক্ষকদের পাশে পাওয়া বড় আশীর্বাদ
বায়েজীদ বাতেন
প্রভাষক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মিলনায়তনে তখন জমজমাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে। আমি বসেছি একদম সামনের সারিতে, শিক্ষকদের সঙ্গে। এদিকে আমার মন পড়ে আছে পেছনে। কারণ, পেছনের সারিতে বসে চিৎকার করে গান গাওয়ার যে কী আনন্দ, সেটা আমি জানি। একসময় বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের ছাত্র ছিলাম। এখন সেখানেই আছি শিক্ষক হিসেবে। অথচ বুয়েটের শিক্ষক তো দূরের কথা, ছাত্র হওয়ার ভাবনাও আমার ছিল না।

মা-বাবা চেয়েছিলেন, আমি ডাক্তার হই। এ লেভেল শেষ করে মেডিকেলের কোচিংয়ে ভর্তিও হয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেডিকেলে নয়, যেহেতু পদার্থবিজ্ঞান খুব আগ্রহ নিয়ে পড়তাম, চান্স পেয়ে গেলাম বুয়েটে। বুয়েটজীবনের শুরুতে ক্লাস, হাফওয়ালে বসে আড্ডা, ক্লাস শেষেই ক্যাফেটেরিয়ায় ছোটা...সে কী রোমাঞ্চ! নাচ, গান, প্রতিযোগিতা, যা-ই হোক, ক্যাম্পাসের সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম প্রায় কোনোটাই বাদ দিইনি। ভবিষ্যতে কী হব, কোথায় যাব, এসব নিয়ে অত ভাবতাম না। শুধু মনে হতো, বদ্ধ ঘরে বসে পড়ার মতো কোনো বিষয় প্রকৌশল নয়। এটা ঘুরে-ফিরে-দেখে-বুঝে, হাতেকলমে শেখার জিনিস।

.

তৃতীয় বর্ষে ওঠার পর বন্ধুরা বলত, ‘কিরে, তোর তো রেজাল্ট ভালো। তুই তো টিচার হবি।’ এর আগে সত্যিই শিক্ষক হওয়ার কথা ভাবিনি। এখন যখন আমার শিক্ষকদের সঙ্গে বসে চা খাই, মনে হয় এটা জীবনের বড় আশীর্বাদ। শিক্ষকেরা তো আজীবনই শিক্ষক থাকেন।

আমি আমার শিক্ষার্থীদের বলি, শুধু বইয়ের মধ্যে ডুবে থেকো না। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় যাও, সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নাও, ছাত্রজীবনটা উপভোগ করো। সেই স্কুলজীবন থেকে আমি কখনো শিক্ষকদের প্রশ্ন করতে দ্বিধা করিনি। আমি চাই ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আমারও সেই সম্পর্কটা থাকুক। যদি কিছু বুঝতে সমস্যা হয়, হোক আমার ক্লাসের কিংবা অন্য ক্লাসের বিষয়, এমনকি ব্যক্তিগত কোনো সমস্যা—কথা বলার জন্য আমার দরজা সব সময় খোলা।