দেশের জন্য কাজ করার লক্ষ্যে এ পেশায় এসেছি


Chandpur
Published: 2020-05-29 17:47:55 BdST | Updated: 2020-07-16 22:06:35 BdST

আল আমিন কনক। বাংলাদেশ পুলিশ চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ থানায় উপ-পরিদর্শক (এস আই) হিসেবে দায়িত্বে আছেন। করোনা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন সম্মুখ যোদ্ধার ভূমিকায়। কখনও করোনা আক্রান্ত রোগীর বাড়ি লকডাউনে যেতে হয়, আবার কখনও বেরিয়ে পড়তে হয় করোনা রোগী খুঁজতে। আক্রান্তের ভয় থাকলেও নিরলসভাবে মানুষের মাঝে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। আর তা কেবল দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকেই। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি।

পরিবার থাকেন লক্ষ্মীপুরে, নিজে থাকেন মতলব দক্ষিণ থানার পুলিশ ব্যারাকে । ডিউটি শেষে যতটুকু সময় পান বাবা-মায়ের খোজ খবর নেন টেলিফোনের মাধ্যমে। তিনি বলেন, প্রত্যেক বাবা-মাই তার সন্তানকে নিয়ে চিন্তায় থাকেন। বর্তমান পরিস্থিতিতিতে সেটা আরও বেশি। আর পেশা যদি হয় পুলিশ সেটা নিশ্চয়ই উৎকন্ঠা অনেক গুণে বাড়িয়ে দেয়।

দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ শিকার করে মানুষকে সেবা দেয়ার জন্যই পুলিশে যোগ দিয়েছেন আল আমিন । করোনা রোগী অনেকেই আক্রান্তের রিপোর্ট পেয়ে যখন পালিয়ে যায়, তখনই টিমের সাথে তাদের খুঁজতে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে হয়। যতটুকুই সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকুক না কেন তবুও উদ্বেগ-উৎকন্ঠার মধ্য দিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রাণপনে লড়াই করার একটাই উদ্দেশ্য মানুষ যেন ভালো থাকে। মানুষকে সচেতন করতেই সবচেয়ে বেশি বেগ পেতে হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি জানান, মানুষকে সচেতন করতে যাই। মনে হয় তারা চোর-পুলিশ খেলেন। একটা শ্রেণি আছে যারা প্রয়োজনে বের হন। আবার অনেকেই আছে আড্ডা দিতে রাস্তা-ঘাটে বেরিয়ে পড়ছেন। এটাও সত্য বেশিরভাগ মানুষ আসলে জীবিকার তাগিদে বের হয়ে পড়ছেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সচেতনতার বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, প্রত্যেককে তার নিজের জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে। তবেই করোনাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বাংলাদেশে লকডাউনের প্রায় ২ মাস শেষ হতে চলেছে। যারা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল তাদেরকে আসলে বের হতেই হবে জীবিকার তাগিদে। তবে আমার মনে হয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এবং সামাজিক দুরুত্ব মেনে কাজ করলে মানুষ এ মহামারি থেকে মুক্ত হতে পারবে।

আসুন আমরা আমাদের পরিবারের কথা চিন্তা করে এই ক্রান্তিলগ্নে একান্ত প্রয়োজন ব্যতিত বাইরে না যাই। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলি। অসহায় মানুষের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেই। আমাদের মাতৃভুমিকে রক্ষা করি— যোগ করেন তিনি।

হাসিব আল আমিন
নোবিপ্রবি প্রতিনিধি