ছেলেবন্ধু


Dhaka//Prothomalo
Published: 2020-06-27 12:22:33 BdST | Updated: 2020-07-05 06:50:04 BdST

এফ রহমান হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এখন মধ্যরাত। ঘুমানোর চেষ্টা করছিলাম। এমন সময় সহপাঠী তুলির ফোন পেলাম।

ফোন ধরতেই তুলি সরাসরি বলল,
শোন, কাল ক্লাসে আসার সময় শার্ট পরে আসবি।
কেন?
দরকার আছে।
তুই তো জানিস আমি শার্ট পরি না। যে কারণে আমার কোনো শার্ট নেই।
আই ডোন্ট কেয়ার। তোকে বলেছি শার্ট পরে আসতে। অতএব তুই শার্ট পরে আসবি।
বলেই লাইন কেটে দিল।

সমস্যায় পড়ে গেলাম। তুলি যেহেতু বলেছে, উপায় নেই, শার্ট পরে যেতেই হবে। কিন্তু আসলেই আমার কোনো শার্ট নেই। কারণ, কেন জানি শার্ট পরতে ভালো লাগে না। হঠাৎ একটা আইডিয়া মাথায় এল। এ ব্যাপারে তুলির মতামত জানার জন্য ফোন দিলাম,

শোন আমার রুম মেট হচ্ছে আরবি বিভাগের ছাত্র। ওর ও আমার মতো কোনো শার্ট নেই। সব পাঞ্জাবি। তবে তুই চাইলে আমি ওর কাছ থেকে একটা পাঞ্জাবি নিয়ে পরে আসতে পারি।
পাঞ্জাবি পরবি মানে! পাঞ্জাবি আর শার্ট কি এক হলো?
শোন ইন করে পরলে শার্টের মতোই দেখাবে। সমস্যা হবে না।

জিনসের প্যান্টের সঙ্গে তুই পাঞ্জাবি ইন করে পরবি! তুই কি আমার সঙ্গে মশকরা করছিস?
মশকরা করব কেন? যেহেতু আমার শার্ট নেই, তাই একটা সহজ সমাধান দিলাম। ভাবলাম তোর হয়তো পছন্দ হবে।
তাই নাকি? তাহলে এক কাজ কর। তুই বরং তোর রুমমেটের কাছ থেকে একটা পায়জামাও ধার নে। কারণ পাজামার সঙ্গে পাঞ্জাবি ইন করে পরলে আরও ভালো দেখাবে। অবশ্য তুই চাইলে লুঙ্গির সঙ্গেও পাঞ্জাবি ইন করে পরে আসতে পারিস।
গুড আইডিয়া। দোস্ত, তাহলে তা–ই করি।

খবরদার। শোন, আমার সঙ্গে গেম খেলবি না। আমি তোকে শার্ট পরে আসতে বলেছি। শার্ট মানে শার্ট। আর শোন, অনেক রাত হয়েছে। আমি এখন ঘুমাব। উল্টাপাল্টা আইডিয়া নিয়ে আমাকে আর ফোন দিবি না। সকালে দেখা হচ্ছে।
বলেই লাইন কেটে দিল।

তুলি আমার সহপাঠী। ও পরিবারের সঙ্গে মিরপুর থাকে। অসাধারণ সুন্দর এবং মেধাবী মেয়ে। তুলি হলো আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু। ওর সবকিছুই ভালো, দুটো জিনিস ছাড়া। এক, ও হচ্ছে প্রচণ্ড জেদি একটা মেয়ে। অন্যটি হচ্ছে ও কিছুটা পাগল কিসিমের। ও মাঝেমধ্যে এমন কিছু পাগলামি করে, যা সবার চিন্তার বাইরে। কখনো কোনো কিছু যদি একবার তার মাথায় ঢোকে, তাহলে সে সেটা করেই ছাড়বে। অনেকটা বাচ্চাদের মতো।

শার্ট নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেলাম। সময়ও নেই যে কিনে আনব। ঠিক করলাম অন্য কারও কাছ থেকে ধার নিতে হবে। রুম থেকে বের হয়ে পাশের রুমে উঁকি দিলাম। ওই রুমে থাকেন রাজা ভাই। দেখলাম তিনি জেগেই আছেন। তিনি আমাদের হলের সরকারি ছাত্র সংগঠনের হল শাখার প্রেসিডেন্ট। প্রচণ্ড রাগী একজন মানুষ। সব সময় অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করেন। সবাই তাঁকে জমের মতো ভয় পায়। আমি নিজেও তাঁকে যথেষ্ট ভয় পাই। তবে তিনি আমাকে যথেষ্ট স্নেহ করেন। তাঁকে গিয়ে বললাম,
ভাই, কাল একটা পার্টি আছে, আমার একটা শার্ট দরকার।

কোনো সমস্যা নেই। ওই ওয়ার্ডরোবের মধ্যে অনেক শার্ট আছে। তোর যেটা পচ্ছন্দ হয় নিয়ে যা।
আমি একটি সুন্দর শার্ট বেছে নিলাম। খুব দামি ব্র্যান্ডের একটি সাদা শার্ট।
ভাই এটা নেই।
না এটা না। এটা তোর ভাবির গিফট।
রাজা ভাইয়ের গার্লফ্রেন্ড এই শার্ট গিফট করেছেন। তাই তিনি এটা দিতে চাচ্ছেন না। কিন্তু এই শার্টটিই আমার পচ্ছন্দ হয়েছে।
ভাই বড়লোকের পার্টি, একটা ভাব আছে না?

ঠিক আছে নে। তবে সাবধানে পরবি। তোর ভাবির গিফট। আমি এখনো একবারও পরিনি। যদি একটু দাগ লাগে তোরে কিন্তু আমি মাইরা ফেলামু। মনে থাকবে?
জি ভাই, মনে থাকবে। টেনশন নিয়েন না। আমি দরকার পড়লে এই শার্ট রক্ষার্থে জীবন দিয়া দেব। তবুও এই শার্টে একটা আঁচড়ও লাগতে দেব না। প্রমিজ করলাম। এটা হলো পুরুষ মানুষের প্রমিজ।
রাজা ভাই হাসতে হাসতে বললেন,

কী বললি? পুরুষ মানুষের প্রমিজ? ঠিক আছে নিয়ে যা।
পরের দিন সকালবেলা, রাজা ভাইয়ের শার্ট পরেই ক্যাম্পাসে এলাম। সাধারণত শার্ট না পরার কারণে আজ শার্ট পরে খুবই অস্বস্তি লাগছে। যদিও সহপাঠীরা সবাই বলেছে আমাকে নাকি বেশ মানিয়েছে। তুলি এখনো ক্যাম্পাসে আসেনি। আমি কলাভবনের ২০২১ নম্বর রুমে ক্লাস করতে ঢুকলাম। ক্লাস করছি, এ সময়ে নিতুর একটা টেক্সট মেসেজ পেলাম,
তুই কই ? আমি কলা ভবনের গেটের সামনে আছি, তাড়াতাড়ি আয়।

আমি রিপ্লাই দিলাম,
আমি ক্লাস করছি। ওয়েট কর। ক্লাস শেষ হলেই আসব।
এই দুনিয়ায় তুলির মতো এত দ্রুত কেউ ফোনে টাইপ করতে পারবে বলে আমার মনে হয় না। আমি মেসেজ সেন্ড করার সঙ্গে সঙ্গেই জবাব এল,
তোর ক্লাসের গুষ্টি কিলাই। তুই এখনই বের হবি। না হলে কিন্তু আমি এসে স্যারের সামনেই সিন ক্রিয়েট করব।
দ্রুত ক্লাস থেকে বের হলাম। কারণ, এই পাগলের বিশ্বাস নেই।
নিচে নেমেই দেখলাম, কলাভবনের সামনের চত্বরে ঘাসের ওপর বসে আছে। সামনে গিয়ে বসতেই বলল,
তোর আসতে এত দেরি হলো কেন?
আরে আমি তো ক্লাস করছিলাম।
তো?

শোন, আমি তোর বয়ফ্রেন্ড না যে তুই বলামাত্রই আমাকে সব কাজ ফেলে চলে আসতে হবে।
মাই গড, তোর তো দেখি বয়ফ্রেন্ড হওয়ার অনেক শখ। আর তুই হবি আমার বয়ফ্রেন্ড! হারামজাদা, দুনিয়ায় কি ছেলের আকাল পড়ছে যে তোকে আমার বয়ফ্রেন্ড বানাতে হবে?
মানে কী? আমার কোয়ালিটি কি খুব খারাপ?
খারাপ না ভালো, সেটা তো পরের কথা। তোর যে কোনো কোয়ালিটি আছে, তা–ই তো আমি জানি না।
তুই কি আমাকে অপমান করছিস?
অবশ্যই। আচ্ছা বাদ দে এসব। তুই এখন শার্ট খোল?
শার্ট খুলব মানে! এই, তুই কি আমার সাথে অন্য কিছু করার কথা ভাবছিস? ভাবলে সরাসরি বল। সে ক্ষেত্রে আমরা লিটনের ফ্লাটে যেতে পারি। ওটা সম্ভবত খালি আছে।
খবরদার কুত্তা, আমার সাথে অশ্লীল কথা বলবি না।
সরি, ভুল হয়ে গেছে। তুই শার্ট খুলতে বললি তো, তাই আমি ভাবলাম...।
বলেই আমি হাসতে লাগলাম।
থাক অনেক মজা নিছেন। আর মজা নিতে হবে না। আপনি এখন শার্টটা খোলেন।
আরে শার্টটা কেন খুলব, সেটা বলবি তো। কারণটা কী?
কারণ আমি এখন তোর শার্টের বোতাম সেলাই করব।
বোতাম সেলাই করবি মানে?

শোন, কাল রাতে একটা নাটক দেখলাম। খুবই রোমান্টিক নাটক। ওখানে নায়িকা তার বয়ফ্রেন্ডের শার্টের বোতাম সেলাই করে দিচ্ছে। জানিস, সিনটা না খুবই কিউট। ওইটা দেখার পর থেকেই মাথায় ঢুকেছে আমিও বোতাম সেলাই করব।
তুই কি এ জন্য আমাকে শার্ট পরে আসতে বলেছিস!
হ্যাঁ। কেন? কোনো সমস্যা?
শোন, পাগলামির একটা সীমা আছে। তুই গিয়ে তোর বয়ফ্রেন্ডের শার্টের বোতাম সেলাই কর।
আরে বোকা, আমি বয়ফ্রেন্ড কোথায় পাব? আমার কি বয়ফ্রেন্ড আছে নাকি?
নেই তো অপেক্ষা কর, যখন তোর বয়ফ্রেন্ড হবে তখন করিস! শুধু শার্ট না, দরকার পড়লে তুই ওই ব্যাটার প্যান্টের বোতামও সেলাই করিস।
শোন, তুই আমার বয়ফ্রেন্ড না, সেটা ঠিক। কিন্তু তুই তো আমার বন্ধু। মানে ছেলেবন্ধু। আর ছেলে মানে বয় আর বন্ধু মানে ফ্রেন্ড। সে হিসাবে তুইও একধরনের বয়ফ্রেন্ড।
আচ্ছা, তোর এই যুক্তিও নাহয় মানলাম। কিন্তু আমার শার্টটা তো একদম নতুন। আজই প্রথম পরলাম। আর দেখ এর কোনো বোতামও ছেঁড়া নেই। তাহলে তুই কী সেলাই করবি?
তাই? তোর সব বোতামই ঠিক আছে? কই দেখি।
বলেই তুলি আমার শার্টের বোতামগুলো টেনে টেনে দেখতে লাগল। হঠাৎ করেই বিদুচ্চমকের মতো একটা ঘটনা ঘটে গেল। তুলি হ্যাঁচকা টান দিয়ে বুকের কাছের একটি বোতাম টেনে ছিঁড়ে ফেলল। আমি বোকার মতো তুলির হাতের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলাম।
এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন?
দোস্ত, তুই এটা কী করলি!
তুই তো বললি বোতাম না ছিঁড়লে সেলাই করা যায় না।
তাই বলে...!
এখন শার্ট খোল। এভাবে এতিমের মতো মুখ করে বসে থেকে কোনো লাভ নেই।
আমি শার্ট খুলব না। আশপাশে কত মানুষ। আর তা ছাড়া আমি শার্টের নিচে কিছুই পরিনি। এভাবে আমি খালি গা হতে পারব না। এটা ইজ্জতের ব্যাপার।
ওমা, কী কিউট! সোনা, তোর কি লজ্জা লাগছে?
শোন, আমার সাথে ঢং করে কথা বলবি না। আর আমাকে সোনা, বাবু এসব বলবি না।
আচ্ছা বলব না। তুই তাড়াতাড়ি শার্ট খোল।
বললাম না, আমি শার্টের নিচে কিছু পরিনি।
সেটা কোনো সমস্যা না। তুই আমার ওড়নাটা গায়ে পেঁচিয়ে বসে থাক।
মানে!
কশে এক থাপ্পড় দেব। সব কথায় মানে মানে করবি না। চুপচাপ শার্ট খোল।
কী আর করা। শার্টটি খুলে তুলির হাতে দিলাম। আশপাশে বসা এতগুলো ছাত্রছাত্রীর মাঝে আমি খালি গায়ে ওড়না পড়ে বসে আছি। অনেকেই আড় চোখে দেখছে আর মুচকি হাসছে। সামনে বসা একটি জটলা থেকে একটি মেয়ে আঙুল দিয়ে ইশারা করে বোঝাল যে দারুণ লাগছে। তারপর সবাই মিলে হো হো করে হাসতে লাগল। আমি ফিসফিস করে তুলিকে বললাম,
তাড়াতাড়ি কর। দেখ, সবাই কেমন করে তাকিয়ে আছে। আমার ধারণা ওরা আমাকে অন্য কিছু ভাবছে।
তুলি আমার কথার কোনো উত্তর দিল না। সে মনোযোগসহকারে শার্টের বোতাম সেলাই করছে। ওর চোখ-মুখে অন্য রকম এক আনন্দ খেলা করছে। কেমন মায়াময় এক আভা ছড়িয়ে পড়ছে ওর নিষ্পাপ মুখ থেকে। মনে হচ্ছে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকি অনন্তকাল। কিন্তু না, একটু পরেই চোখ সরিয়ে নিলাম। কেন জানি এই মেয়েটির দিকে আমি বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারি না। কেমন জানি পাগল পাগল লাগে। তুলি সময় নিয়ে সুন্দর করে বোতামটি লাগিয়ে শার্টটি ফেরত দিল। শার্টটি পুনরায় পরার সময় খেয়াল করলাম অলরেডি ভেজাল লেগে গেছে। কারণ নিতু কালো সুতা দিয়ে বোতামটি লাগিয়েছি। অথচ শার্টের সব বোতাম সাদা সুতোয় সেলাই করা।
তুলি, এটা কী হলো! তুই সাদা শার্টে কালো সুতা ব্যবহার করলি কেন!

আরে আমি কী করব? আমি তো বাসা থেকে শুধু কালো সুতাই এনেছি। সমস্যা নেই, এটাও একটা স্টাইল।
শোন এটা একদম নতুন একটা শার্ট। এবং অনেক দামি একটা শার্ট। এসব পাগলামির কোনো মানে হয় না। ইটস টু মাচ।
কী বললি! তুই আমাকে পাগল বললি!

দ্যাখ প্যাঁচ লাগাবি না। আমি তোকে একবারও পাগল বলিনি। আমি বলেছি এমন পাগলামির কোনো মানে হয় না।
ওই একই কথা। পাগলই তো পাগলামি করে, তাই না? তার মানে হলো তুই আমাকে পাগল মনে করিছ। শোন আমি জীবনে কখনো কোনো কিছু সেলাই করিনি। এই প্রথম তোর জন্য কষ্ট করে সেলাই করলাম। কোথায় তুই খুশি হবি। আমাকে ধন্যবাদ বলবি। তা না করে তুই আমাকে পাগল বলছিস!
তুলি উত্তেজিত হয়ে কথাগুলো বলে উঠে দাঁড়াল। তারপর হাঁটতে শুরু করল। আমি তুলিকে থামানোর চেষ্টা করলাম না। আসলে আমার মাথায় এখন তুলি কাজ করছে না। আমি এ মুহূর্তে ভাবছি ওই কালো সুতা কীভাবে সাদা করব। কারণ, এভাবে শার্ট ফেরত দিলে রাজা ভাই আমাকে হল থেকেই বের করে দেবেন। হঠাৎ খেয়াল করলাম, তুলি আবার ফিরে আসছে।

সামনে এসেই ঝাঁজের সঙ্গে বলল,
ওই কুত্তা, আমি রাগ করে চলে গেলাম, তুই আমাকে আটকালি না কেন?
আটকাব কেন? সব আকাম তো তুই করলি। আমার নতুন শার্টটার বারোটা বাজালি। সাদা শার্টে কালো সুতা এর কোনো মানে হয়?
বলেই আমি অভিমানে অন্যদিকে ঘুরে তাকিয়ে রইলাম। একটু পর আবার যখন ওর দিকে তাকালাম, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। দেখলাম ওর হাতের কালি কলমটা খোলা। আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই কলমের সব কালি ঢেলে দিল আমার শার্টের ওপর।

নে, এবার পুরো শার্টই কালো করে দিলাম। খুশি তো?
বলেই হনহন করে হেঁটে চলে গেল। আমি হতভম্ব হয়ে বসে রইলাম। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি সব কিছু ভুলে গেলাম। আশপাশের কোনো কিছুই আমি এখন আর দেখছি না। সবকিছু ঝাপসা। হঠাৎ করেই চোখের সামনে ভেসে উঠল রাজা ভাইয়ের মুখ। মনে হলো, তিনি সিনেমার মতো স্লোমোশানে আমার দিকে দৌড়ে আসছেন। তাঁর হাতে গুলিভরা পিস্তল। তাঁর চোখে আগুন। তিনি দৌড়ের সাথে সাথে চিৎকার করে বলছেন,
...বাচ্চা, তোরে আমি খাইছি। এই তোর পুরুষ মানুষের প্রমিজ? আজ তোর একদিন কি আমার একদিন।

আমি ভয়ে, হতাশায় চোখ বন্ধ করে ঘাসের ওপর চার হাত-পা ছড়িয়ে শুয়ে পড়লাম। এরপর ধীরে ধীরে চোখ খুললাম। মনে হলো চোখের সামনে একটা গেট দেখতে পেলাম। যেখানে লেখা আজিমপুর কবরস্থান।
বি.দ্র.: ক্যাম্পাসে অনেক কিছুই ঘটে যার কোনো মানে নেই। কিন্তু অর্থহীন, উদ্দেশ্যহীন ওই ছোট ছোট ঘটনাগুলোই ক্যাম্পাসজীবনকে মধুময় করে তোলে। সত্যি যদি সারা জীবন ছাত্র হয়ে বিশ্ববিদ্যলয়ে থাকার সুযোগ থাকত, তবে হয়তো অনেকেই ছাত্র হয়ে আমৃত্যু ক্যাম্পাসেই পড়ে থাকত।

ছেলেবন্ধু
ইমদাদ বাবু, নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র) থেকে